কথা বলবে রাস্তা,জাঠা
পৌঁছাবে প্রতি জনপদে

নিজস্ব প্রতিনিধি

কলকাতা, ১১ই অক্টোবর- ৭৭ হাজার বুথ। চল্লিশ হাজার গ্রাম। ১২৬টি শহর। ২৫হাজার কিলোমিটার রাস্তা। পথ হাঁটবেন পনেরো লক্ষের বেশি। বি পি এম ও-র আহ্বানে ২২শে অক্টোবর থেকে ৩রা নভেম্বর পর্যন্ত এরাজ্যের প্রতিটি বুথ, প্রতিটি জনপদ স্পর্শ করবে জনগণের দাবিদাওয়া নিয়ে পদযাত্রা।

পদযাত্রায় যদি বাধা দেওয়া হয়?

বাধা দিলে বাধবে লড়াই। বাধাকে অতিক্রম করে, প্রতিরোধ করেই রাজ্যজুড়ে মানুষের উঠোনে, আঙিনায় পৌঁছাবে পদযাত্রা। বুধবার শ্রমিক ভবনে সাংবাদিক সম্মেলনে বলেছেন রাজ্য বি পি এম ও-র আহ্বায়ক শ্যামল চক্রবর্তী।

সতেরো দফা দাবি নিয়ে ১১৭টি গণসংগঠনের সম্মিলিত মঞ্চ বি পি এম ও-র আহ্বানে পদযাত্রার মাঝেই চলবে জনসভা। চারশোটি জনসভা সংগঠিত হবে জাঠার যাত্রাপথে। হাটসভা, পথসভা কয়েক হাজার। ‘গতবারের থেকেও ব্যাপকতম মানুষের কাছে পৌঁছাবে পদযাত্রা’, বলেছেন শ্যামল চক্রবর্তী।

উত্তরবঙ্গের পদযাত্রা মালদহ থেকে পৌঁছাবে শিলিগুড়ি, অন্য একটি পদযাত্রা কোচবিহার থেকে পৌঁছাবে শিলিগুড়ি। পয়লা নভেম্বর শিলিগুড়িতে সংগঠিত হবে লক্ষাধিক মানুষের সমাবেশ। তেমনি দক্ষিণবঙ্গে আসানসোল, সিউড়ি, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, ফারাক্কা থেকে শুরু হওয়া কলকাতামুখী পদযাত্রা ৩রা নভেম্বর পৌঁছাবে কলকাতায়। হলদিয়া, দীঘা, বাসন্তী, রায়দিঘির পদযাত্রাও কলকাতা পৌঁছাবে ৩রা নভেম্বর। সেদিনই বেলা একটায় কলকাতার মহাজাতি সদন থেকে কলকাতায় পথ হাঁটবেন লক্ষাধিক মানুষ। দশটি কেন্দ্রীয় পদযাত্রা ছাড়াও কয়েক হাজার ছোট ছোট পদযাত্রা স্পর্শ করবে প্রতিটি বুথ।

বুধবার বি পি এম ও-র সাংগঠনিক সভায় চূড়ান্ত হয়েছে পদযাত্রার যাত্রাপথ। ২২শে অক্টোবর পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোল থেকে শুরু হওয়া পদযাত্রা দুর্গাপুর, পানাগড়, গলসী, বর্ধমান শহর, মেমারি হয়ে হুগলীর দেবীপুরে প্রবেশ করবে ২৮শে অক্টোবর। হুগলীর মগরা, ব্যান্ডেল, বৈদ্যবাটি, বালি, হাওড়া পেরিয়ে কলকাতায় পৌঁছাবে ৩রা নভেম্বর। সব হাতে কাজ চাই। স্বচ্ছতা চাই নিয়োগে, চাই নতুন শিল্প। চাই সবার ন্যূনতম মজুরি, চাই খেতমজুর, অসংগঠিত শিল্পের মজুরদের সুরক্ষা। শ্রমিক বিরোধী শ্রম আইন চলবে না। বিলগ্নিকরণ করা যাবে না ব্রিজ অ্যান্ড রুফ, বেঙ্গল কেমিক্যাল, অ্যালয় স্টিল। বলবে জাঠা।

২২শে অক্টোবর পুরুলিয়া থেকে শুরু হওয়া জাঠা বাঁকুড়া শহর, বিষ্ণুপুর, পশ্চিম মেদিনীপুরের খড়িকাশুলি, চন্দ্রকোণা রোড, ভাদুতলা, মোহনপুর, খড়গপুর হয়ে মিলবে পূর্ব মেদিনীপুরের শ্রীরামপুরে ২৯শে অক্টোবর। ২৮শে অক্টোবর ঝাড়গ্রাম জেলার পদযাত্রা মিশবে খড়গপুরের চৌরঙ্গিতে। চিট ফান্ডের লুটের টাকা ফেরত দাও, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম কমাও, নিশ্চিত করো খাদ্য সুরক্ষা, সকলের চাই ডিজিটাল রেশন কার্ড। শিক্ষা ব্যবস্থাকে বাজারের হাতে দেওয়া যাবে না। শিক্ষা ক্ষেত্রে সন্ত্রাস ও দুর্নীতি বন্ধ করো। বলবে পদযাত্রা।

২৯শে অক্টোবর পূর্ব মেদিনীপুরের দুটি পদযাত্রা দীঘা ও হলদিয়া থেকে মিশবে শ্রীরামপুরে। দীঘার পদযাত্রা কাঁথি শহর, বাজকুল পেরিয়ে পৌঁছাবে নন্দকুমারে। হলদিয়ার পদযাত্রা চৈতন্যপুর পেরিয়ে মিশবে নন্দকুমারে। নন্দকুমারে পৌঁছে সম্মিলিত দুটি পদযাত্রা কোলাঘাট, খানপুর, ফুলেশ্বর, চেঙ্গাইল, পঞ্চাননতলা হয়ে পৌঁছাবে কলকাতায় ৩রা নভেম্বর। দীর্ঘ যাত্রাপথে জাঠা ছুঁয়ে যাবে মানুষের দাবি। কৃষিক্ষেত্রে ভরতুকি ছাঁটাই চলবে না। স্বামীনাথন কমিশনের সুপারিশ অবিলম্বে কার্যকর করতে হবে। কৃষকদের জন্য কম সুদে ঋণ চাই। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা করো। মৌলবাদকে প্রশ্রয় দেওয়া চলবে না। বন্ধ করো দলিত হত্যা। খাদ্যাভ‌্যাসে হস্তক্ষেপ বন্ধ করো। বলবেন মানুষ সোচ্চারে।

মুর্শিদাবাদের পদযাত্রা বহরমপুর শহর থেকে শুরু হয়ে বেলডাঙা, পলাশী হয়ে উত্তর চব্বিশ পরগনার কাঁচরাপাড়ায় পৌঁছাবে ৩০শে অক্টোবর। কাঁচরাপাড়া, বারাকপুর, সোদপুর, সিঁথির মোড় পেরিয়ে পদযাত্রা মিশবে কলকাতায় ৩রা নভেম্বর। যাত্রাপথে স্লোগান উঠবে বিদ্যুতের দাম কমাও। কৃষি, গৃহশিল্পে ও গরিব মানুষের বিদ্যুতে ভরতুকি কাড়া চলবে না। নতুন বিদ্যুৎ বিলকে রুখে দাও।

দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার কাকদ্বীপ থেকে শুরু হওয়া পদযাত্রা কুলপি, সরিষা, আমতলা, বেহালা হয়ে কলকাতায় পৌঁছাবে ৩রা নভেম্বর। রায়দিঘি থেকে শুরু হওয়া পদযাত্রা জয়নগর, বারুইপুর, যাদবপুর ছুঁয়ে পৌঁছাবে কলকাতায়। ক্যানিং থেকে শুরু হওয়া পদযাত্রা ঘটকপুকুর, বামনঘাটা হয়ে পৌঁছাবে কলকাতায়। গণতন্ত্রকে ধ্বংস করা চলবে না। এস সি, এস টি, ওবিসি-দের সংরক্ষণ প্রথা তুলে দেওয়া চলবে না। উদ্বাস্তুদের সুষ্ঠু পুনর্বাসন চাই। চলবে না শিল্পী, সাহিত্যিকদের উপর ফতোয়া জারি। জাঠায় বলবেন মানুষ।

উত্তরবঙ্গে মালদহের কালিয়াচক থেকে শুরু হওয়া পদযাত্রা গাজোল, মেহেন্দিপাড়া, ফতেপুর, হবিবপুর, চাঁচল, হরিশচন্দ্রপুর, খরবা হয়ে মিশবে উত্তর দিনাজপুরে। তিনটি মূল পদযাত্রাই রায়গঞ্জে মিলিত হবে। নারীর মর্যাদা রক্ষা করো। নারী ও শিশুপাচার বন্ধ করো। মিড ডে মিল- আই সি ডি এস তুলে দেওয়া চলবে না। বলবে জাঠা।

কোচবিহারের পদযাত্রা শীতলকুচি, কোচবিহার শহর, সোনাপুর পেরিয়ে মিশবে আলিপুরদুয়ারে। জলপাইগুড়ির দুটি পদযাত্রা সোনাপুর থেকে পৌঁছাবে জলপাইগুড়ির শালবাড়িতে। শালবাড়ি থেকে পদযাত্রা মিশবে শিলিগুড়ির তিনবাত্তিতে। দার্জিলিঙের পদযাত্রা বাগডোগরা মাটিগাড়া পেরিয়ে পৌঁছাবে শিলিগুড়ি ১লা নভেম্বর। বন্ধ চা বাগান, বন্ধ চট শিল্প খুলতে হবে। তিস্তা প্রকল্প রূপায়ণের মাধ্যমে কৃষককে দিতে হবে সেচের জল। আদিবাসীদের জন্য রক্ষা করো বনাঞ্চল। বলবেন পদযাত্রীরা।

সতেরো দফা মূল দাবির সঙ্গে যুক্ত হবে আদায়যোগ্য স্থানীয় দাবি। কার রেশন কার্ড নেই, কারা দুটাকা কেজি চাল পাচ্ছেন না, কার বন্ধ কেরোসিন, তালিকা তুলে দেওয়া হবে প্রশাসকদের হাতে।

জনজীবনের জ্বলন্ত দাবিগুলি নিয়েই উত্তাল হবে জাঠা। পায়ে পায়ে চলবে মানুষের কথা বলা। কথা বলবে রাস্তা। রাস্তা দেখাবে রাস্তা।



Featured Posts

Advertisement