কড়া হুঁশিয়ারি
বি জে পি-সঙ্ঘকে

প্রতিবাদ মিছিলে মানুষের ঢল

নিজস্ব প্রতিনিধি

কলকাতা, ১১ই অক্টোবর — লালঝান্ডার দপ্তরে হামলা চালানোর ঝুঁকি নেবেন না, চড়া দাম দিতে হবে। আজকের প্রতিবাদ, প্রতিরোধের চেহারা নেবে। পার্টির কেন্দ্রীয় দপ্তরে হামলা, আক্রমণ চালানো বি জে পি এবং সঙ্ঘ পরিবারের কর্মীদের উদ্দেশ্যে বুধবার স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিলেন সি পি আই (এম) রাজ্য কমিটির সম্পাদক সূর্য মিশ্র। সম্প্রতি দিল্লিতে পার্টির কেন্দ্রীয় দপ্তরে এবং বেশকিছু রাজ্যে লালঝান্ডার দপ্তরে হামলা ও বামপন্থীদের নৃশংস খুনের প্রতিবাদে এদিন বিকালে ধর্মতলায় লেনিন মূর্তির পাদদেশ থেকে মহাজাতি সদন পর্যন্ত বিশাল মিছিল হয়।

মিছিল শেষে মহাজাতি সদনের সামনে সংক্ষিপ্ত সভায় পার্টির রাজ্য সম্পাদক বললেন, এরাজ্যে তৃণমূল এবং কেন্দ্রে বি জে পি-আর এস এস—দুয়েরই লক্ষ্যই লালঝান্ডাকে মুছে ফেলা। কিন্তু পার্টি দপ্তরে হামলা আক্রমণ চালিয়ে পার্টিকর্মীদের খুন করে লালঝান্ডাকে মুছে ফেলা যায় না। বুধবার সন্ধ্যায় এই সভায় সি পি আই (এম) পলিট ব্যুরো সদস্য মহম্মদ সেলিম বলেন, গোটা দেশে গরিব কিষান মজদুররা রুটিরুজির প্রশ্নে আক্রান্ত হয়েই ক্ষোভে প্রতিবাদে শামিল হয়েছেন। তাই আতঙ্কিত হয়েই কেন্দ্রের আর এস এস-বি জে পি বাহিনী সি পি আই (এম)-র কেন্দ্রীয় দপ্তরে হামলা আক্রমণের পথে নেমেছে। কিন্তু লালঝান্ডার দপ্তরে হামলা চালিয়ে মেহনতি মানুষের এই লড়াই আন্দোলনকে থামানো যাবে না।

সি পি আই (এম) কলকাতা জেলার আহ্বানে এদিন লেনিন মূর্তির পাদদেশ থেকে ধিক্কার মিছিল যখন রওনা দিল তখনই সন্ধ্যা নামার মুখে। বিকেল সাড়ে পাঁচটায় রওনা দেওয়া এই সুবিশাল মিছিলের প্রান্তভাগ যখন লেনিন সরণি ছেড়ে যাচ্ছে তখন ঘড়ির কাঁটা সন্ধ্যা ৬টা পেরিয়ে গিয়েছে। লালঝান্ডা, প্ল্যাকার্ড, ফেস্টুন টানানো প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ এই মিছিলের সর্বাঙ্গ সোচ্চার শাসকের হিংস্র আক্রমণের প্রতিবাদে। মিছিল শেষে সভা পরিচালনা করেন পার্টির কলকাতা জেলা কমিটির সম্পাদক নিরঞ্জন চ্যাটার্জি। বুধবার গোটা মিছিলের নানা ভাগে দিল্লিতে এই হামলার পাশাপাশি সম্প্রতি ওডিশা, কর্ণাটক, তেলেঙ্গানা, অন্ধ্র প্রদেশ প্রভৃতি রাজ্যে সঙ্ঘ পরিবারের যে আক্রমণ চলছে তার বিরোধিতায় সোচ্চার ছিলেন মানুষ। মিছিলে শামিল ছিলেন পার্টিনেতা শ্রীদীপ ভট্টাচার্য, নীলোৎপল বসু, অনাদি সাহু, কল্লোল মজুমদার, মধুজা সেনরায়, রাজদেও গোয়ালা প্রমুখ।

মিছিল শেষে সূর্য মিশ্র বললেন, এর আগেও অনেকবার আমাদের পার্টিদপ্তর আক্রান্ত হয়েছে। কেন্দ্রীয় দপ্তরেও হামলা চলেছে। আক্রমণ বেড়েছে দিল্লিতে বি জে পি ক্ষমতায় আসার পর। এই সময়ের মধ্যেই দিল্লির এ কে গোপালন ভবনে তিনবার আক্রমণ চলেছে। ওদের একবারও হিম্মত হয়নি পার্টিদপ্তর থেকে লালঝান্ডা নামানোর। বললেন, এরাজ্যেও আমাদের পার্টিদপ্তরে বারবার হামলা চলেছে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় বসার পর। রাজ্যে দেড়শো-দুশো পার্টিকর্মীকে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে। হাজার হাজার পার্টিকর্মী জেলে রয়েছেন আজও। ঘরছাড়া হয়ে থাকতে হচ্ছে বহু পার্টিকর্মী সংগঠককে। সম্প্রতি কেরালায় আমাদের পার্টির কর্মীদের নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে। ওখানে যারা ছিল কংগ্রেস, তারা রাতারাতি তৃণমূল আর বি জে পি হয়ে গেল।

পার্টির রাজ্য সম্পাদক এদিন বললেন আমাদের ওপর যখন আক্রমণ চলে তখন দেশের সমস্ত শ্রমজীবী মানুষের লড়াই আন্দোলনও আক্রান্ত হয়। মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার লুট হয়। এই আক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে অন্যান্য অংশের মধ্যেও। গোবিন্দ পানসারে, নরেন্দ্র দাভোলকর, গৌরী লঙ্কেশ এঁরা কি কেউ লালঝান্ডা ধরতেন? গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতার পাশাপাশি মানুষের রুটিরুজির ওপরেও নাগাড়ে আক্রমণ শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বছরে দুকোটি বেকারের চাকরি দেবেন বলে। চাকরি দেওয়া দূরের কথা, নোটবাতিল আর জি এস টি চাপানোর খেলায় দুকোটি চাকরিজীবীর কাজ চলে গিয়েছে। মানুষের সঞ্চিত অর্থ লুট হচ্ছে। অনেক আগেই আমরা বলেছিলাম, এই সরকার মানুষের কোন সমস্যাই দূর করতে পারবে না।

লুটের নীতিতে কেন্দ্র ও রাজ্য উভয়ের শাসকই যে এক তা এদিন স্পষ্ট করে দিতে মহম্মদ সেলিম বলেছেন, যেভাবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বেলাগাম দুর্নীতি হয়, সে পথেই অমিত শাহের ছেলে জয় শাহের মাত্রাছাড়া দুর্নীতি চলে। আর শাসকের পেটোয়া প্রচারমাধ্যম প্রতিদিন যে প্রচার চালায় তা আদতে বিজ্ঞাপন। প্রকৃত খবর চেপে দেওয়াই ওদের রীতি। মিশ্র বললেন, এরাজ্যে হাজার হাজার কোটি টাকা লুট হয়েছে চিট ফান্ডে। কিন্তু কোন তদন্ত প্রতারিত মানুষের টাকা ফেরত দিতে পেরেছে? নিরঞ্জন চ্যাটার্জি জানালেন, গোটা দেশের সর্বত্র প্রতিবাদ কর্মসূচির সঙ্গেই এরাজ্যে গত ৯ই অক্টোবর প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেদিন প্রাকৃতিক দুর্যোগের জেরেই দিন বদলে আজ এই কর্মসূচি সংগঠিত করা হলো।

Featured Posts

Advertisement