ক্ষুব্ধ ডি এল এড ছাত্রছাত্রীরা জানালেন
প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় বসার
সুযোগ না পেলে অনশনে বসবেন

নিজস্ব সংবাদদাতা

কোচবিহার, ১২ই অক্টোবর—রাজ্য সরকারের শিক্ষা দপ্তরের চরম উদাসীনতায় কোচবিহার জেলার ২০১৫-২০১৭ শিক্ষাবর্ষে ডি এল এড উত্তীর্ণ প্রায় ৫ হাজার ছাত্রছাত্রী প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষায় বসার সুযোগ পাচ্ছেন না। এই ডি এল এড উত্তীর্ণ ছাত্রছাত্রীদের জানিয়েছেন এই প্রাথমিক নিয়োগ পরীক্ষায় তাদের বসার ব্যবস্থা না করলে কোচবিহার জেলাশাসকের দপ্তরের সামনে অনিদিষ্টকালের জন্য অনশন আন্দোলনে শামিল হবেন তাঁরা।

এন সি টি ই গাইড লাইন মেনে এই ২০১৫-২০১৭ শিক্ষাবর্ষে ডি এল এড উত্তীর্ণ ছাত্রছাত্রীদের প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের টেট পরীক্ষায় বসার ব্যবস্থা করার দাবিতে বৃহস্পতিবার কোচবিহার শহরে মিছিল করেন এই ছাত্রছাত্রীরা। এদিন কোচবিহার শহরের বিভিন্ন রাস্তা পরিক্রমা করে আন্দোলনকারীরা হাজির হন কোচবিহার জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের সামনে। এই দপ্তরে সংসদের চেয়ারপার্সন উপস্থিত না থাকায় দপ্তরের সামনেই বিক্ষোভে ফেটে পড়েন তাঁরা। এরপর তাঁরা কোচবিহার জেলাশাসকের সঙ্গে দেখা করে জেলাশাসকের মাধ্যমে রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রীর উদ্দেশে তাদের এই সংশ্লিষ্ট দাবি সংবলিত স্মারকলিপি দেন।

রাহুল ইসলাম, দেবব্রত নন্দী, পায়েল বর্মণ, সাহেরা সুলতানা-র মতো ২ শতাধিক ডি এল এড উত্তীর্ণ ছাত্রছাত্রী এদিনের আন্দোলনে শামিল হন। তাদের দাবি, দীর্ঘ দু’বছরের বেশি এই ডি এল এড কোর্সে তাঁরা পড়াশুনা করেছেন প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষায় অগ্রাধিকার পাওয়ার উদ্দেশ্যেই। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে রাজ্যের শিক্ষা দপ্তর প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি জারি করলেও এই নিয়োগ পরীক্ষায় তাদের মতো ২০১৫-২০১৭ শিক্ষাবর্ষের ডি এল এড উত্তীর্ণদের বসবার সুযোগ দেয়নি। যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। এই পরিস্থিতিতে এক ভয়াবহ সংকটের সম্মুখীন এই ছাত্রছাত্রীরা। তাই আন্দোলনের পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন তাঁরা। অবিলম্বে তাদের প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় বসবার জন্য শিক্ষা দপ্তর কোনও নির্দেশিকা জারি না করলে তাঁরা কোচবিহার জেলাশাসকের দপ্তরের সামনে অনশন আন্দোলনের পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন জায়গায় পথ অবরোধ করবেন বলে তাঁরা এদিন জানান।

এদিকে অভিযোগ, এই প্রাথমিক টেট-এর বিজ্ঞপ্তি জারি হবার পর থেকেই ডি এল উত্তীর্ণ ছাত্রছাত্রীদের মার্কশিট আটকে রেখে তাদের কাছ থেকে কয়েক লক্ষ টাকা দাবি করছে জেলার মেখলিগঞ্জ নেতাজি পি টি টি আই কলেজ। ইতিমধ্যেই এইসব ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে ৯৬ হাজার টাকা আদায় করেছে এই কলেজ কর্তৃপক্ষ। টেট-এর ফরম ফিলাপের মুখে সুযোগ বুঝে রীতিমত ব্যবসা করছে এই বেসরকারি কলেজ বলে উঠছে অভিযোগ। এক্ষেত্রে প্রশাসন নির্বিকার ভূমিকায়। টেট পরীক্ষার ফরম পূরণের কাজ শুরু হলেও এই পি টি টি আই কলেজের অসহযোগিতায় মার্কশিট হাতে না পেয়ে ফরম পূরণ করতে না পারায় চরম সমস্যার মু‍‌খোমুখি এই ছাত্রছাত্রীরা।

Featured Posts

Advertisement