জয়পুরের কৃষক বাজার
রাতারাতি বাসস্ট্যান্ড হয়ে গেল

নিজস্ব সংবাদদাতা   ১৩ই অক্টোবর , ২০১৭

বাঁকুড়া, ১২ই অক্টোবর — জয়পুরে কৃষক বাজার রাতারাতি বাসস্ট্যান্ডে রুপান্তরিত হয়ে গেল। সেখানে ঢোকা বন্ধ হয়ে গেল কৃষকদের। কৃষকরা কিছু জানতেও পারলেন না। বুধবারই জয়পুরের বি ডি ও জেলা পরিবহণ আধিকারিকের হয়ে জয়পুর কৃষক বাজারকে জয়পুর বাসস্ট্যান্ডে পরিণত হওয়ার নোটিস ঝোলালেন। জয়পুরের কৃষকদের বক্তব্য, তাহলে প্রায় তিন কোটি টাকা খরচ করে এই কৃষক বাজারটি হল কেন ? যেখানে কৃষকদেরই কোন স্বার্থ দেখা হলনা, সেখানে কি খালি শাসকদলের নির্দিষ্ট এক ঠিকাদারকে মোটা অঙ্কের টাকা পাইয়ে দেওয়ার জন্যই এই কৃষক বাজার তৈরি করা হয়েছিল ? কোনও উত্তর নেই ব্লক বা কৃষি দপ্তরের কাছে।

জয়পুর বনদপ্তরের অফিসের কাছে এই কৃষি বাজারটি তৈরি করা হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী ফলাও করে বাঁকুড়ার এক অনুষ্ঠানে এসে রিমোট কনট্রোলে এটি উদ্বোধন করে গিয়েছিলেন আর পাঁচটা কৃষক মান্ডির মতো। বাকিগুলো যেভাবে ইট, পাথরের কাঠামোয় বোবা হয়ে পড়ে আছে, জয়পুরেরটিও সেই অবস্থায় দাঁড়িয়েছিল। একটি দিনের জন্যও এখানে কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনা হয়নি। কোনভাবেই ব্যবহার করতে দেওয়া হয়নি এই কৃষক বাজারটিকে। একেবারে যে ব্যবহার হয়নি তা বলা যাবে না। এবছরই যখন অর্থের জন্য কৃষক ধান ওঠার পর কম দরে সমস্ত ধান আড়তদারদের কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন, কৃষকের ঘরে আর একটি দানাও ধান ছিল না, তখন সরকার ঘোষণা করে, সরকারি দরে ধান কেনা হবে। কে আর তখন ধান নিয়ে যাবে সরকারি বাজারে ? সেই সময় বাইরের জেলা থেকে প্রায় ৩২লরি ধান এই রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল, পুলিশ সেই ধানের লরি আটকে কৃষক বাজারে তোলে। প্রচার করা হয় কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনা হয়েছে। দুদিন পরই সেই ধান যে কোথায় চলে গিয়েছিল কেউ জানে না। অন্তত বাঁকুড়ার কোনও মিলে যায়নি। সেই একবারই ব্যবহার হয়েছিল জয়পুরের কৃষক বাজার।

বুধবার জয়পুর এলাকার মানুষ দেখেন এখানে বাসস্ট্যান্ড হওয়ার নোটিস ঝুলছে। এদিন জেলা পরিবহণ আধিকারিক অরিন্দম মুখোপাধ্যায় জানান, জয়পুর প্রধান সড়কে গাড়ির যাতায়াত ব্যাপক।এই অবস্থায় একটি বাসস্ট্যান্ড জরুরি ছিল। ঐ কৃষক বাজারে জল থেকে শুরু করে সমস্ত পরিকাঠামোই আছে তাই এখানে বাসস্ট্যান্ডটি করা হল। কালীপুজোর পর থেকে এখান থেকে বাস আসা যাওয়া করবে। কিন্তু বৃহস্পতিবার থেকেই এই কাজ শুরু হয়ে গেছে। জয়পুর কৃষক বাজারে বাস ঢুকছে- বের হচ্ছে। কৃষক বাজারটিকে বাসস্ট্যান্ডে রূপান্তরিত করার এই তৎপরতা দেখে জয়পুরের মানুষজনের বক্তব্য, এখানে অন্য রহস্যও আছে। বাঁকুড়া- আরামবাগ এই রাস্তার জয়পুরের ওপর দিয়ে প্রতিদিন সকাল থেকে ভোর রাত পর্যন্ত প্রচুর সংখ্যক আইনি, বেআইনি লরি যাতায়াত করে। বর্ষার এই মরশুমে একটু কম চললেও ফের বালি চলাচল আগের মতোই শুরু হয়েছে। এর আগে বহু দুর্ঘটনা ঘটেছে এই বালির লরির আঘাতে। প্রাণ গেছে জয়পুরের মানুষের। তাই বালির লরির খানিকটা সুবিধা করে দেওয়ার জন্যই কি কৃষকদের কৃষক বাজার থেকে হটিয়ে দেওয়া হল ? বৃহস্পতিবার এই প্রসঙ্গে জয়পুরের কৃষক নেতা বিশ্বনাথ দে জানান ,এটা কোনও মতেই মেনে নেওয়া যায় না। বাসস্ট্যান্ড করার থাকলে অন্যত্র হতে পারত। কৃষক বাজারটিকে কেন দখল করা হল। কোথায় যাবে কৃষকরা ? যদিও সরকার কৃষকদের একদিনের জন্য এটি ব্যবহার করতে দেয়নি। তা সত্ত্বেও তো কৃষকবাজার বলে মানুষ এটিকে জানতেন। এটা জয়পুরের মানুষ মেনে নেবেন না।

Featured Posts

Advertisement