রায়গঞ্জে রাতভর বি ডি ও-কে
ঘেরাও করে রাখলো তৃণমূলীরা

নিজস্ব সংবাদদাতা

রায়গঞ্জ, ১২ই অক্টোবর —  কংগ্রেস পরিচালিত গ্রাম পঞ্চায়েত দখল নিয়েছে তৃণমুল। অনাস্থা পাশ হয়েছে। এখুনি প্রধান নির্বাচন করতে হবে। এই দাবি নিয়ে বুধবার মধ্যরাত পর্যন্ত ছয় ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে রায়গঞ্জের বি ডি ও-কে ঘেরাও করে রাখে। ব্লক অফিসে ডি এস পি সদর, রায়গঞ্জ থানার আই সি সহ বিশাল পুলিশ বাহিনী পৌঁছেও বি ডি ও-কে ঘেরাও মুক্ত করতে ব্যর্থ হয়।

বৃহস্পতিবার ছিল ৬ নম্বর রামপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান নির্বাচন। কিন্তু পর্যাপ্ত পুলিশি প্রহরার ব্যবস্থা না করতে পারার ফলে নির্বাচনের দিন পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ব্লক প্রশাসন। আর তাতেই তেতে ক্ষিপ্ত হয় রামপুর এলাকার তৃণমূলীরা। অনাস্থা পাশ হয়েছে। সময় পেলে সদস্যরা যদি ফের দলছুট হয়ে যায় সেই আশঙ্কায়, দিন না পিছিয়ে বৃহস্পতিবারই ভোট করে প্রধান নির্বাচন করার দাবি জানিয়ে বি ডি ও-কে বিকেল পাঁচটা থেকে ঘেরাও করে রাখে তৃণমুলীরা। ছিল দল বদল করা কয়েকজন তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্য আর ওই এলাকার তৃণমূল নেতারা।

রায়গঞ্জ ব্লকের রামপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের মোট সদস্য ১৯জন। এরমধ্যে একজন প্রয়াত হয়েছেন। এতদিন এই পঞ্চায়েত ছিল কংগ্রেসের দখলে ছিল। এরপর কংগ্রেসী প্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনে দলবদল করে তৃণমূল হওয়া ১২জন সদস্য। মঙ্গলবার প্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা পাশ হয়। এরপর বৃহস্পতিবার প্রধান নির্বাচনের দিন ধার্য করে রায়গঞ্জ ব্লক প্রশাসন।

কিন্তু এদিন পঞ্চায়েত সদস্যরা ভোটদানের জন্য স্লিপ আনতে রায়গঞ্জ ব্লক অফিসে এলে বি ডি ও অনুরাধা লামা সাফ জানিয়ে দেন, পুলিশি ব্যবস্থা না থাকাতেই প্রধান নির্বাচন করা সম্ভব নয়। এই কারণ মানতে নারাজ তৃণমূলীরা। তারা মধ্যরাত পর্যন্ত তালাবন্দি করে রাখে বি ডি ও।

ঘটনাস্থলে জেলা পুলিশের উচ্চ পদস্থ কর্তারা গেলেও বি ডি ও-কে ঘেরাওমুক্ত করতে পারেননি। অথচ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ। পরে বৃহস্পতিবার সকালে শুক্রবারের মধ্যে প্রধান নির্বাচন হবে আশ্বাস দিলে ঘেরাও ওঠে।

Featured Posts

Advertisement