মোবাইলে ডেকে ফরম পূরণ করে টাকা
নিয়ে নিয়োগ চলছে যুবকল্যাণ দপ্তরে

নিজস্ব প্রতিনিধি

কলকাতা, ১২ই অক্টোবর— চাকরি সরকারি, কিন্তু নিয়োগ প্রক্রিয়া নিতান্তই দল নিয়ন্ত্রিত। কাকপক্ষী দূরের কথা, এমন নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পর্কে খোদ দপ্তরই চোখ, কান বুজে অন্ধকারে বসে রয়েছে।

বুধবার থেকে মৌলালি যুবকেন্দ্রে শুরু হয়েছে রাজ্যের যুবকল্যাণ দপ্তরে কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া। সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন দিয়ে নয়, চোরাগোপ্তা মোবাইল ফোনে ডেকে এনে ফরম পূরণ করিয়ে হাতে হাতে টাকা নিয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া এগনোর কাজ চলার কথা শুক্রবারও।

এমন সরকারি নিয়োগ সরকার খাড়া করা অজুহাত মাত্র। আড়ালে দলের নেতা-মন্ত্রীদের লক্ষ্য দুটো— প্রথমত সরকারি নিয়োগকে হাতিয়ার করে আর এক প্রস্থ তোলাবাজিতে পকেট ভারী করা। আর দ্বিতীয়ত সামনে পঞ্চায়েত নির্বাচনে এমন চাকরির টোপকেই ভালোমতো ব্যবহার করে ভোট আদায়ের চেষ্টায় নামবে দল। এক-আধটা পদ নয়, যুবকল্যাণ দপ্তরের অধীনেই অস্থায়ী এক হাজার জনের নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। রাজ্যের নানা প্রান্ত থেকে পঞ্চায়েত স্তরে গত সেপ্টেম্বর মাস থেকেই মূলত দলের উদ্যোগেই নাম সংগ্রহের কাজ চালু। শারদোৎসবের আগেই এমন প্রস্তুতি চলেছে নিচুস্তরে। এবার দীপাবলির আগেই কলকাতায় তাদের পৃথকভাবে ডেকে এনে নিয়োগ প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করার কাজ শুরু হলো।

জানা গিয়েছে, রাজ্যের বিভিন্ন পঞ্চায়েতে যুবকল্যাণ দপ্তরের অধীনেই সহায়ক পদে এমন অস্থায়ী নিয়োগ হচ্ছে। চাকরিতে সর্বমোট বেতন মাসিক ১০হাজার তিনশো টাকা। যোগ্যতা মূলত দুটি। শিক্ষাগত যোগ্যতা মাধ্যমিক উত্তীর্ণ। আর সেই যোগ্যতার সঙ্গেই হাতে হাতে ২থেকে ৫লক্ষ টাকা পর্যন্ত নিয়ে চাকরির নিশ্চয়তা মিলে যাচ্ছে। বুধবার বেলা ১২টা থেকে শুরু হওয়া এমন চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনও ইন্টারভিউয়ের বালাই নেই। আগাম সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপনও চোখে পড়েনি কারও। আর সবচাইতে বড় কথা হলো খোদ যুবকল্যাণ দপ্তরই এমন নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পর্কে ঘোর আঁধারে। অবশ্য দপ্তরের আধিকারিকরা জেনেও না জানার দলেই। শোনা যাচ্ছে, দপ্তরের মন্ত্রী এবং তাঁর সাঙ্গপাঙ্গ কয়েকজন কর্মচারী এই যাবতীয় নিয়োগ প্রক্রিয়া সামলাচ্ছেন। দক্ষিণ ২৪পরগনার জেলাদপ্তরের একজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী গত সেপ্টেম্বর মাস থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে মন্ত্রীর কথামতো পঞ্চায়েত স্তরের এমন যোগ্যতার নাম সংগ্রহের কাজে নেমেছেন। মূলত দলের কর্মী মহল থেকেই চাকরি প্রার্থী খোঁজা শুরু হয়।

কিন্তু প্রশ্ন উঠছে অস্থায়ী চুক্তির ভিত্তিতে কর্মী নিয়োগ হলেও কীভাবে সরকারি প্রক্রিয়ার বাইরে মূলত দলের নিয়ন্ত্রণে চাকরি হয়? বুধবার দুপুর থেকে মৌলালি যুবকেন্দ্রে এক প্রস্থ এমন অস্থায়ী কর্মীর নিয়োগ প্রক্রিয়ার কাজ কিছুটা সারা হয়েছে। যুব কেন্দ্রেই মাধ্যমিক উত্তীর্ণ চাকরি প্রার্থীদের হাতে হাতে ফরম পূরণ করানো চলছে। বৃহস্পতিবারও বেশ কিছু চাকরি প্রার্থীকে ডাকা হয়েছে। রাজ্যের সরকারি নানা দপ্তরেই অবশ্য আজ থেকে নয়, বেশ কয়েক বছর ধরেই চলছে এমনই অস্থায়ী চুক্তির ভিত্তিতে গুচ্ছ গুচ্ছ বেআইনি দল নিয়ন্ত্রিত নিয়োগ প্রক্রিয়া। খোদ যুবকল্যাণ দপ্তরেই রাজ্যে সরকার বদলের পর থেকে অর্থাৎ ২০১১সাল থেকে শুরু হয়েছে বেআইনি নিয়োগ প্রক্রিয়া। ধাপে ধাপে এমন চোরাগোপ্তা নিয়োগে ঢুকে পড়া প্রার্থীদের নাম হয়েছে ‘বারো হাজারী’ (যেহেতু ১২হাজার টাকায় চুক্তিবদ্ধ কর্মী এঁরা)। এমন অস্থায়ী চুক্তিবদ্ধ কর্মী নিয়োগের পরিমাণ বাড়াতে দলের অনুগত নয় এমন সরকারি কর্মীদের তাড়ানোর প্রক্রিয়াও চলেছে নাগাড়ে। কিন্তু এক দফায় অসাধু প্রক্রিয়ায় এতজনের নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হলো এবার।

Featured Posts

Advertisement