ঘাট পরিষ্কার চেয়ে চিঠি স্থানীয়দের
অস্বীকার করছেন মেয়র পারিষদ

নিজস্ব প্রতিনিধি

কলকাতা, ১২ই অক্টোবর – আবর্জনা, পরিত্যক্ত কাঠামোয় বোঝাই ব্যবহারের অনুপোযোগী প্রসন্নময়ী ঘাটকে পরিষ্কার করার দাবি জানিয়ে পৌরসভায় চিঠি দিলেন স্থানীয় ক্লাব সদস্যরা। ৮২নম্বর ওয়ার্ডে আদি গঙ্গার ধারে এই বহু পুরানো ঘাটকে ব্যবহার যোগ্য করার আবেদন জানিয়ে বৃহস্পতিবার সেই চিঠি দেওয়া হয়েছে মেয়র পরিষদ সদস্য দেবাশিস কুমারের কাছে। তবে দেবাশিস কুমার এমন কোনো চিঠি পাননি বলে জানিয়েছেন।

৮২নম্বর ওয়ার্ডের চেতলা এলাকায় আদি গঙ্গার ধারে বহু পুরানো এই ঘাট। প্রতিবছরই এলাকার বহু বারোয়ারি ক্লাবের ও বাড়ির পুজোর বিভিন্ন পুজোর প্রতিমা বিসর্জন হয়ে থাকে। প্রতিমা বিসর্জন ছাড়াও নানা কাজে এই ঘাট স্থানীয়রা ব্যবহার করতেন। তবে সংস্কারের অভাবে ক্রমশ ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে উঠেছে এই প্রসন্নময়ী ঘাট। এখন কোনোভাবেই ওই ঘাট ব্যবহার করতে পারেন না স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রসন্নময়ী ঘাটের মতো ওই ওয়ার্ডে বাকি দুটি ঘাটেরও একই অবস্থা বলে জানান স্থানীয় কাউন্সিলর প্রণব বিশ্বাস। তাঁর দাবি, ওয়ার্ডের ৩টি ঘাট নিয়েই শারদোৎসবে আগে এলাকায় একটা আলোচনাসভা হয়। আমি মৌখিকভাবে মেয়র পরিষদ সদস্য (কঠিন বর্জ্য অপসারণ) দেবব্রত মজুমদারকে জানিয়েছিলাম।

স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, আগে এলাকার মানুষজন নানা কাজেই ঘাটগুলি ব্যবহার করে থাকতেন। বিভিন্ন পুজো শেষে প্রতিমা বিসর্জনও হতো। এখন কিছু বছর সমস্ত বন্ধ। ঘাটগুলিতে আবর্জনার স্তূপ, পরিত্যক্ত কাঠামো পড়ে। সিঁড়িতে পলি ও পাঁক জমে হাঁটু পর্যন্ত। ফলে স্থানীয়রা নামতে পারেন না। জোয়ারের জলে প্রতিমা বিসর্জন হয়। না হলে বাধ্য হয়েই এখন অনেকেই ঘাটের ধারে কাছে রেখে চলে আসেন। কারণ ঘাটের অবস্থা খুব খারাপ হওয়ার জেরে আগে দুর্ঘটনাও ঘটেছে। এইভাবে কাঠামো ও সঙ্গে আবর্জনা ক্রমশ জমে চলেছে ঘাট ও আশপাশে। পরিবেশেও তার প্রভাব পড়ছে। পুলিশকে জানানো হয়েছিল। তাঁরা ওপর থেকে পরিষ্কার করেছিলেন যাতে কোনো সমস্যার সমাধানই হয়নি।

স্থানীয় ক্লাব হিন্দ সঙ্ঘের তরফে এক সদস্য বলেন, ঘাট পরিষ্কারের দাবি জানিয়ে চিঠি দিয়েছি। যদি না হয় তাহলে বিকল্প ভাবতে হবে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সকলের সঙ্গে আলোচনায় বসে ঠিক করব আমরা।

এমন কোনও চিঠি তাঁর কাছে আসেনি বলে বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন দেবাশিস কুমার। তিনি বলেন, পরিষ্কারের দায়িত্ব আমার নয় কঠিন বর্জ্য অপসারণ বিভাগের। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মেয়র পরিষদ সদস্য দেবব্রত মজুমদারকে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন তোলেননি।

Featured Posts

Advertisement