বিশ্ব ক্ষুধা সূচকে পিছোতে
পিছোতে ভারত ১০০

সংবাদসংস্থা   ১৩ই অক্টোবর , ২০১৭

======================

শিশুদের মধ্যে অপুষ্টি আরও তীব্র

যথাযথ খাদ্য পাচ্ছে মাত্র ৯.৬% শিশু

আফ্রিকার দরিদ্রতম দেশের পাশেই ঠাঁই ভারতের

==========================

নয়াদিল্লি, ১২ই অক্টোবর- একদিকে ‘সুদিনের’ ঢাক বাজানো চলছে, অন্যদিকে বিশ্ব ক্ষুধা সূচকে নামতে নামতে ভারতের স্থান দাঁড়ালো ১১৯ দেশের মধ্যে ১০০। গত বছরের থেকেও আরও তিন ধাপ নেমেছে ভারত। প্রতিবেশী বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, সংঘর্ষবিধ্বস্ত ইরাকের থেকেও ভারতের স্থান নিচে। বস্তুত দুই চরম দারিদ্র্যের রোয়ান্ডা এবং দিবৌতির সঙ্গে একই আসনে রয়েছে বিকাশের গর্ব করতে থাকা ভারত।

চারটি নির্দিষ্ট পরিমাপের ভিত্তিতে এই সূচক তৈরি করে ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট। এই চার মাপকাঠি হলো: অপুষ্টিতে ভোগা জনসংখ্যার শতাংশ, ওয়েস্টিংয়ে (কম ওজন) ভোগা পাঁচ বছরের শিশুদের হার, পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে বৃদ্ধি আটকে যাওয়ার হার (বয়সের তুলনায় উচ্চতা কম যার অন্যতম), পাঁচ বছরের আগেই শিশুমৃত্যুর হার। এই চার মাপকাঠি খাদ্যের অভাব, অপুষ্টিকে চিহ্নিত করে। এই সূচকের সঙ্গেই খাবার না পাওয়া, ঠিক খাবার না পাওয়ার মতো সূচকগুলিতেও ভারতের স্থান খুবই নিচে নেমে যাচ্ছে।

মোদী সরকার তৈরি হবার পরে বিশ্ব খাদ্য সূচকে ভারত নেমেছে ৪৫ ধাপ। ছিল ৫৫, হয়েছে ১০০। তবে, ২০১৫থেকে নতুন মাপকাঠি চালু হওয়ায় পরিসংখ্যানের বিচার দুই স্থানকে সম্পূর্ণ তুলনীয় বলা চলে না। যদিও নতুন মাপকাঠিতে আরো স্পষ্ট করে শিশুদের অপুষ্টিকে পরিমাপ করা যাচ্ছে।

এই সূচক অনুযায়ী ভারত পেয়েছে ৩১.৪ পয়েন্ট। খাদ্য সংকটে এই পয়েন্টকে ‘অত্যন্ত গুরুতর’ বলে চিহ্নিত করা হয়। সাধারণভাবে অর্থনৈতিক বিকাশের হারে ভারত থেকে পিছিয়ে থাকা প্রতিবেশী বাংলাদেশ ( ৮৮), নেপাল (৭২), শ্রীলঙ্কা (৮৪), বার্মা (৭৭) ভারতের থেকে খাদ্য সূচকে ভালো জায়গায় রয়েছে। চীন (২৯) রয়েছে অনেক ওপরে। ভারতের একমাত্র ‘সান্ত্বনা’ হতে পারে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের স্থান ভারতেরও নিচে। বস্তুত দক্ষিণ এশিয়ার তিন চতুর্থাংশ জনসংখ্যা ভারতেই থাকে বলে ভারতের জন্য দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক অবস্থানও নেমে যাচ্ছে। উন্নয়নশীল দেশ বলে চিহ্নিতদের মধ্যে এগিয়ে কিউবা।

ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০১৫-১৬’র সমীক্ষা অনুযায়ী ভারতে ২১শতাংশ শিশু কম ওজনের। ২০শতাংশের ওপরে আর তিনটি মাত্র দেশ রয়েছে— দিবৌতি, দক্ষিণ সুদান ও শ্রীলঙ্কা। গত পঁচিশ বছরে বৃদ্ধি আটকে যাওয়ার সমস্যায় কিছু এগোতে পারলেও তীব্র অপুষ্টির কারণে ওজন কমের ক্ষেত্রে ভারতের কোনও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি।

ভারতের ক্ষেত্রে তিনটি গুরুতর উদ্বেগের বিষয়কে চিহ্নিত করা হয়েছে রিপোর্টে। প্রথমত, মাতৃদুগ্ধ ছেড়ে যথাযথ সময়ে অন্য খাবার নেওয়ার হার বাড়ার বদলে কমেছে। ২০০৬-এর ৫২.৭শতাংশ থেকে কমে তা ২০১৬সালে হয়েছে ৪২.৭শতাংশ। দ্বিতীয়ত, ৬ থেকে ২৩ মাস বয়সি শিশুদের মাত্র ৯.৬শতাংশ যথাযথ খাবার (ডায়েট) পায়। তৃতীয়ত, ২০১৬’র হিসাবে উন্নত শৌচালয় ও নিকাশির সুযোগ পাচ্ছে মাত্র ৪৮.৪শতাংশ পরিবার।

রিপোর্টে স্পষ্টই ইঙ্গিত, দারিদ্রই অপুষ্টি ও সে-সংক্রান্ত সমস্যার মূল কারণ। ভারতে দরিদ্র পরিবারের বিরাট অংশই ২০১৭-তেও অপুষ্টিতে ভুছে এবং শিশুদের জন্য খাদ্য দিতে অক্ষম হচ্ছে। মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বা অর্থনৈতিক বিকাশের হার যা-ই হোক না কেন, খাদ্য এবং অপুষ্টির সমস্যা সমাধানে ভারত চরমভাবেই ব্যর্থ হচ্ছে।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement