রামগড়-খুনে প্রধান সাক্ষীর
স্ত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু

সংবাদসংস্থা

নয়াদিল্লি, ১২ই অক্টোবর— আর এস এস, বি জে পি-র যৌথ মদত এবং প্রশ্রয়ে দেশজুড়ে স্বঘোষিত গোরক্ষা বাহিনী ক্রমশই নিজেদের প্রভাব বিস্তার করেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দীর্ঘসময় চুপ করে থেকেও যেদিন নিজেদের পিঠ বাঁচাতে বলেছিলেন, ‘গোভক্তির নামে মানুষ খুন কখনওই মেনে নেওয়া হবে না’, সেইদিনই গোরু নিয়ে যাচ্ছে সন্দেহ করে ঝাড়খণ্ডের রামগড়ে প্রকাশ্যে দিনের আলোয় স্বঘোষিত গোরক্ষকরা খুন করে আলিমুদ্দিন আনসারিকে। বেধড়ক মারধর করা হয় তাঁকে। এমনকী গোটা ঘটনার ভিডিও করে সোশ‌্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়েও দেওয়া হয়েছিল। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে কিছুদিন পর স্থানীয় বি জে পি নেতা নিত্যানন্দ মাহাতো এবং সন্তোষ সিং গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।

আড়াই মাস পর সেই ঘটনার প্রধান সাক্ষীর স্ত্রীর সম্প্রতি মৃত্যু হলো রহস্যজনকভাবে। খাড়া করা হচ্ছে দুর্ঘটনার তত্ত্ব। জানা গিয়েছে, আনসারি খুনের শুনানিই চলছিল সেদিন আদালতে। আনসারির হত্যা মামলায় প্রধান সাক্ষী জলিল আনসারি। তাঁর আধার কার্ড আনতেই আলিমুদ্দিন আনসারির ছেলের সঙ্গে জলিলের স্ত্রী বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন। সেইসময়ই আচমকা পিছন থেকে বাইকে ধাক্কা মারে দুষ্কৃতীরা। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়েছে জলিলের স্ত্রীর। আলিমুদ্দিন আনসারির ছেলে জখম অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি। আদালত কক্ষ থেকে দুর্ঘটনাস্থলের দূরত্ব মাত্র এক কিলোমিটার। বারবার খুনের হুমকি দেওয়া সত্ত্বেও তা উপেক্ষা করে সাক্ষী দিতে আসার কারণেই এই প্রাণঘাতী আক্রমণ, এমনই অভিযোগ। ‘জীবন খুব কঠিন এবং ভীতিজনক হয়ে উঠেছে। কী করব জানি না, আমাদের সুরক্ষা নিয়েও কেউ চিন্তিত নয়’, হতাশা প্রকাশ পেয়েছে নিহত আলিমুদ্দিন আনসারির স্ত্রীর কথায়।

Featured Posts

Advertisement