যুবভারতীর ফলক সরাতে
ব্যস্ত নেত্রীর ভূমিকায় ক্ষোভ

স্টেডিয়াম তৈরির ফাঁকা আওয়াজ! প্রশ্ন ইসলামপুরে

বিশ্বনাথ সিংহ

রায়গঞ্জ : ১২ই অক্টোবর : যুব বিশ্বকাপ শুরু হয়েছে। ভারতের ক্রীড়ামোদী মানুষ ইতিমধ্যেই মেতে উঠেছেন স্পেন, ইংল্যান্ড, ব্রাজিলের অনূর্ধ্ব সতেরো বছরের খেলোয়াড়দের ফুটবল শৈলীতে। ভারতও তাক লাগিয়েছে অনেকটাই। এই প্রতিযোগিতার একটি কেন্দ্র কলকাতা। যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে দুটি খেলা হয়ে গেছে। প্রতিযোগিতার ফাইনাল এখানেই হবে।

তার আঁচ শুধু কলকাতা, বিধাননগরে সীমাবদ্ধ নেই। ইসলামপুরেও পড়েছে। যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের উদ্বোধনের প্রায় তেত্রিশ বছরের পুরানো ফলক সরিয়ে দিয়েছে বর্তমান রাজ্য সরকার। মুছে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর নাম। তৃণমূল কংগ্রেসের চরিত্র অনুসারে এশিয়ার এই গুরুত্বপূর্ণ স্টেডিয়াম গড়ে তোলার কৃতিত্ব শুধুমাত্র মমতা ব্যানার্জিকেই দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে!

উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুরে অবশ্য অন্য একটি প্রশ্ন জোরদার হয়ে উঠেছে। মুখ্যমন্ত্রীর দুবছর আগের সেই ঘোষণার কি হলো? কোথায় গেল ইসলামপুর স্টেডিয়াম? অথচ যুব বিশ্বকাপ উপলক্ষে মমতা ব্যানার্জির সরকারের প্রকাশিত পুস্তিকায় রয়েছে ইসলামপুর স্টেডিয়ামের উদ্যোগের কথা!

ইসলামপুর মহকুমা শাসকের অফিসের পাশে একফালি ফুটবল মাঠ সম্বল। পাঁচের দশকের ইসলামপুর মহকুমা শহরে কোন স্টেডিয়াম নেই। বহুদিন ধরে ছাত্রযুবদের দাবি, ইসলামপুর শহরে স্টেডিয়াম করতে হবে।

১৯৯২সালে জেলা বিভাজনের পর ইসলামপুর শহর, গ্রামের মানুষ জোটবদ্ধভাবে জেলা প্রশাসনের কাছে দরবার করেন। আন্দোলনের প্রথম সারিতে ছিলেন ছাত্রযুবদের নেতা প্রয়াত সুবীর বিশ্বাস, রায়গঞ্জের তদানীন্তন সাংসদ প্রয়াত সুব্রত মুখার্জি। উত্তর দিনাজপুর জেলাপরিষদের সভাধিপতি প্রয়াত ননীগোপাল রায়, ইসলামপুর পৌরসভার প্রথম পৌরপতি অধীর বিশ্বাস, জেলাশাসক, মহকুমাশাসক স্টেডিয়ামের জন্য ইসলামপুরের ছাত্রযুব ক্রীড়াদলদের নিয়ে বৈঠক করেন। ঠিক হয়, ইসলামপুর কলেজ সংলগ্ন, জাতীয় সড়ক থেকে ঢিলছোঁড়া দূরত্বে, উত্তর সীমান্তে মাটিকুণ্ডার পথের ধারে তিস্তার ৯একর জায়গায় তৈরি হবে ইসলামপুরের স্টেডিয়াম। বামফ্রন্ট সরকারের সময়ে রাজ্য সরকারের সম্মতিতে তিস্তার জমি স্টেডিয়ামের জন্য হস্তান্তর হয়। সি পি আই (এম) পরিচালিত তদানীন্তন ইসলামপুর পৌরসভার সামান্য আর্থিক সহায়তায় স্টেডিয়ামের পরিকাঠামো তৈরি হয়। ১৯৯৯সালে পৌরসভা নির্বাচনের পর থিতিয়ে পড়ে স্টেডিয়াম তৈরির কাজ।

গত বিধানসভা নির্বাচনের আগে ঘোলাজলে মাছ ধরতে স্টেডিয়াম নির্মাণে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি শুনিয়ে যান মমতা ব্যানার্জি। ইসলামপুরে জাঁকজমকপূর্ণ প্রশাসনিক বৈঠকে ঘোষণা ছিল তিস্তার সাবডিভিশনাল কার্যালয়ের পাশের মাঠে স্টেডিয়াম হবে। ঘোষণার পরেই নির্বাচনের আগে তড়িঘড়ি কে বা কারা ‘কাজ’ শুরু করে দেয়। নির্বাচন শেষ, কাজ শেষ। দুবছর কেটে গেছে। স্টেডিয়ামের কাজ কিছুই এগোয়নি।

যুব বিশ্বকাপ নিয়ে যখন উন্মাদনা তুঙ্গে, ইসলামপুরের ষ্টেডিয়ামের ফাঁকা মাঠে কয়েকটা গোরু চরছে। 

মমতা ব্যানার্জির স্টেডিয়ামের প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে করে ডি ওয়াই এফ আই ইসলামপুর জোনাল সম্পাদক তাপস দাস বলেন, মুখ্যমন্ত্রী আমাদের কচিকাঁচা ভেবেছেন। তাঁর প্রতিশ্রুতি অনেকটা চিপসের প্যাকেটের মতন। প্যাকেটের মধ্যে সামান্য কয়েকটা আলুভাজা থাকে, আর পুরো প্যাকেট হাওয়া। জেলার ক্রীড়ামোদী, ছাত্রযুবদের দীর্ঘদিনের দাবি স্বপ্নের ইসলামপুরের স্টেডিয়াম এখনও বিশবাঁও জলে। আজকের প্রজন্মের কাছে ইসলামপুরে স্টেডিয়ামের স্বপ্ন দুরাশায় পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন ছাত্রযুব আন্দোলনের প্রাক্তন নেতা স্বপন গুহনিয়োগী।

Featured Posts

Advertisement