মারাত্মক অভিযোগ, তথ্য মিত্র কেন্দ্রের
কিছু লোক গ্রামের মানুষকে ঠকাচ্ছে

নিজস্ব সংবাদদাতা

পুরুলিয়া, ১২ই অক্টোবর— দীপালি দাস, ভবানী দাস, শক্তিপদ দাস, মহাদেবচন্দ্র মাহাতো, প্রমীলা দাস, গুরুপদ কুমার অন্নপূর্ণা গোস্বামীরা একেবারে প্রান্তিক মানুষ। দিন আনি দিন খাই পরিবারের মানুষগুলো জয়পুর ব্লকের বড়গ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েতের শিফোড় গ্রামের বাসিন্দা। বৃহস্পতিবার তাঁরা দল বেঁ‍‌ধে জেলাশাসকের কাছে এসে জানিয়ে যান। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার ঘর পাইয়ে দেবার প্রলোভন দেখিয়ে কিভাবে তাঁদের প্রতারিত করা হয়েছে। এটা শুধুমাত্র একটা গ্রামের চিত্র নয়, জেলার বিভিন্ন গ্রামে তথ্য মিত্র কেন্দ্রের কিছু অসাধু লোক মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারিত করার পাশাপাশি অর্থ আদায় করে চলেছে। শহরাঞ্চলের প্রকল্পে গ্রামের মানুষের আধার কার্ড নিয়ে নথিভুক্ত করার ফলে ভবিষ্যতে তাঁরা সমস্যায় পড়বেন। বৃহস্পতিবার জেলা তথ্য মিত্র কেন্দ্র সংগঠন সি এস সি পুরুলিয়া সোসাইটির পক্ষ থেকেও জেলাশাসককে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। এই ধরনের প্রতারণা বন্ধে উপযুক্ত প্রশাসনিক মানুষজনের অর্থ ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক। জেলাশাসক অলকেশ প্রসাদ রায় জানিয়েছেন, যথাযথ তদন্ত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মানুষ যাতে প্রতারিত না হন তার জন্য প্রশাসনিক স্তর থেকে প্রচার চালানো হবে।

২ মাস আগে গণশক্তির পাতায় প্রকাশিত হয়েছিল যে ঘর পাইয়ে দেবার প্রলোভন দেখিয়ে কিভাবে গরিব মানুষকে প্রতারিত করা হচ্ছে। প্রশাসন ব্যবস্থা গ্রহণেরত প্রতিশ্রুতি দিলেও সেই প্রতারণা এখনও চলছে। অনলাইন রেজিস্ট্রেশনের চার্জ মাত্র ২৮ টাকা ৭৫ পয়সা, অথচ তাদের কাছ থেকে দেড়শো/দুশো এমনকি ৩০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। সি এস সি পুরুলিয়া সোসাইটির সভাপতি মৃণালকান্তি মাহাতো ও সম্পাদক হরেকৃষ্ণ মাহাতো জানিয়েছেন, কিছু অসাধু সি এস সি — ভি এল ই গ্রামের সহজ সরল মানুষকে প্রতারিত করছে। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় বাড়ি পাইয়ে দেওয়া, তালিকায় নাম এ‍‌গিয়ে দেওয়া প্রভৃতি মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে অর্থ আদায় করছে। কয়েকদিন আগে শিলফোড় গ্রামে তাদের কর্মী সহদেব কুমার কালিন্দী যখন প্রধানমন্ত্রী গ্রামীণ ডিজিটাল সাক্ষরতা মিশন নিয়ে বোঝাতে যান তখন গ্রামবাসীরা ভুল বুঝে ওই কর্মীকে আটকে রেখে হেনস্তা করেন। তখনই উঠে আসে যে জনৈক কার্তিক মাহাতো (পার্শ্ববর্তী ঝডাড়াটাঁড় গ্রামের বাসিন্দা) রে‍‌জিস্ট্রেশন করে ঘর পাইয়ে দেবার কথা বলে সহস্রাধিক গ্রামবাসীর কাছ থেকে ১৭০ টাকা করে নিয়ে গেছে। গ্রামবাসীদের দাবি, প্রতারণার হাত থেকে তাদের বাঁচানো হোক, ফেরত দেওয়া হোক টাকা। আর সি এস সি পুরুলিয়া সোসাইটির পক্ষ থেকেও প্রশাসনের কাছে আরজি জানানো হয়েছে প্রতারকদের খুঁজে বার করার।

Featured Posts

Advertisement