দেশের বৈচিত্র
আজ ধ্বংসের মুখে

মইনুল হাসান

বি জে পি দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতিকে ধ্বংস করতে চাইছে। তাজমহলকে মুছে দিতে চাইছে পর্যটন মানচিত্র থেকে। আরও অনেক এমন নজির রয়েছে। কেন্দ্র এবং বি জে পি পরিচালিত রাজ্য সরকারগুলির নীতির ফলে আক্রান্ত হচ্ছে আমাদের দেশের বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্যের ঐতিহ্য। এদেশের ঐক্য, সংহতি, সম্প্রীতির কাঠামো কীভাবে আাক্রান্ত হচ্ছে সেকথাই তুলে ধরেছেন লেখক।

আমার মতো আরও অনেকেই হতবাক হয়ে গেছেন যখন তারা উত্তর প্রদেশের সরকারের সাম্প্রতিক কাণ্ডটি প্রত্যক্ষ করেছেন। উত্তর প্রদেশের পর্যটন মানচিত্র থেকে তাজমহলকে পু‍‌রোপুরি বাদ দেওয়া হয়েছে। কারণ তাজমহল মুঘলদের তৈরি, সুতরাং তা ভারতীয় কীর্তি হিসাবে চিহ্নিত হতে পারে না। ঐ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর সেটাই ধারণা — তিনি সেটাই প্রকাশ্যে বলেছেন। দেশে বিদেশে তুমুল সমালোচনা হচ্ছে দেখে যোগীবাবু গলা খানিকটা নামিয়েছেন। বলেছেন এব্যাপারে তাজমহল নিয়ে তাদের আলাদা কিছু পরিকল্পনা আছে সে কারণে এমনটি করা হয়েছে। গেরুয়াবাহিনী কিন্তু তাজমহলকে অন্যভাবে দেখে আসছে। এই মহান কীর্তিকে তারা তেজো মহলয় নামে শিবমন্দির বলে অভিহিত করে থাকে। বহুদিন আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া খুবই স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে তাজমহলের নিচে কোনও মন্দির নেই। কোনও কালে তা ছিল না। সম্প্রতি তাজমহল নিয়ে আগ্রা কোর্টে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার কাগজে দাবি করা হয়েছে এক রাজপুত রাজা তাজমহল সম্রাট শাজাহানকে উপহার দেন। তখন এটি শিবমন্দির ছিল। সুতরাং মামলাকারীদের দাবি হচ্ছে স্মৃতিসৌধকে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়া হোক। কট্টর দক্ষিণপন্থীরা সব সময় ইতিহাস নিয়ে সমস্যাএ তৈরি করতে এবং বিতর্ক তুলতে পছন্দ করে। পৃথিবীব্যাপী এটাই সত্য। তার একটা প্রধান কারণ হলো দক্ষিণপন্থা কোনও সময় ইতিবাচক ঐতিহ্যের অংশীদার নয়। নিজেদের মতো ইতিহাস লেখা এবং সত্যকে বিকৃত করা তাদের কাছে প্রাত্যহিক কর্মকাণ্ড বলে চিহ্নিত। তাজহমল সম্পর্কে প্রশ্ন তুলে ইতিহাস গ্রন্থ থেকে ভারতের মধ্যযুগের ইতিহাস পুরোপুরি মুছে ফেলার এক গভীর চক্রান্তে লিপ্ত আর এস এস। কেন্দ্রীয় সরকার সরাসরি তাতে মদত দিয়ে যাচ্ছে। শুধুমাত্র তাজমহল নয়, কয়েকটি বি জে পি শাসিত রাজ্যে মুঘল আমলের ইতিহাস অর্থাৎ মধ্যযুগের ইতিহাস পড়ানো বন্ধ করানো হয়েছে। পাঠক্রম থেকে বাদ দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বলা হয়েছে তারা স্থানীয় এবং সমসাময়িক সময়ের ইতিহাস পড়াতে চান। ইতিহাস সম্পর্কে এমন বিধ্বংসী ধারণা কেবলমাত্র দক্ষিণপন্থীরাই করতে পারে। কারণ তারা আমাদের মানুষের তৈরি গৌরবময় অধ্যায়‍‌কে ছেঁটে ফেলে নিজেদের বামনাকৃতিগুলিকে বড় করে দেখাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। দেশের বৈচিত্রের সামনে, ঐক্য, বহুত্ববাদের সামনে এত বড় বিপদ আগে আসেনি।

(২)

বি জে পি-র বড় সমস্যা হচ্ছে স্বাধীনতা সংগ্রামের কোনও বড় নেতা বা আন্দোলনের কোনও ঐতিহ্য তারা বহন করছে না। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী থেকে ছোট বড় অন্য নেতারা হাবভাবে ক্লান্তিকর চেষ্টা চালিয়ে যান যেন তারাই সব করেছেন। নিজেদের নেতাদের নামে সরকারি কেন্দ্রীয় প্রকল্পের নাম দিচ্ছেন। রেলস্টেশন, রাস্তাঘাট, ইতিহাস সমৃদ্ধ স্থানের নাম এমনভাবে নির্দিষ্ট হচ্ছে যে, মানুষ ভেবেই পাচ্ছেন না এরা কারা? এই সময়ে তেমনই একটা কাজ হলো মুঘলসরাই স্টেশনের নাম পালটে দেওয়া। উত্তর প্রদেশ সরকারের এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সাথে সাথে মাত্র কয়েকদিনের মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকার সম্মতি দিয়ে দিয়েছে। নাম হবে দীনদয়াল উপাধ্যায় স্টেশন। তার সঙ্গে এই স্টেশনের সম্পর্ক কি? ১৯৬৮ সালে এই স্টেশনে তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল। মৃত্যুর কারণ এখনও রহস্যাবৃত। তিনি ছিলেন জনসঙ্ঘের নেতা। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকার দীনদয়ালের জন্মশতবর্ষ উদ্‌যাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তার প্রথম কাজটিই হচ্ছে মুঘলসরাই স্টেশনকে দিয়ে। ‘মুঘল’ নামটি দেখেই তা পালটে ফেলার ইচ্ছা হয়েছে যোগী সরকারের বলে আমার মনে হয়। কিন্তু এই সর্ব ঐতিহ্য হরণে উদ্ধত এই বাহিনীকে কে জানাবে যে মুঘলসরাই নামটি মুঘল সম্রাটদের দেওয়া নয়, ব্রিটিশদের দেওয়া।

মুঘলসরাই নাম শুনলেই আমার মতো অনেকেই স্মৃতিকাতর হয়ে পড়বেন। ঘুম চোখে ট্রেনের জানালা দিয়ে স্টেশন দেখা, হালকা ক্লান্ত কণ্ঠে হকার ভাইদের ‘চায়ে’ ডাক। স্টেশনে নেমে চা খাওয়া। ভারতের প্রাত্যহিক জীবনে মুঘলসরাই জড়িয়ে আছে আমাদের। একটা অপ্রয়োজনীয় কারণে তার নাম পালটে ফেলা এক ধরনের অপরাধ। এইরকম হাজার হাজার অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছে বি জে পি সরকার। পশ্চিমবাংলার তৃণমূল রাজ্য সরকারের কীর্তি (!) তার চাইতে কম নয়। তিনি আবার উদ্বোধনসহ কোনও ফলকে নিজের নাম ছাড়া আর কারও নাম পছন্দ করেন না। পাহাড় থেকে সাগর — সব শৌচাগার থেকে বহুতল সরকারি অফিসে কেবল ‘তেনা’র নামই থাকবে। আগে থেকে যাদের নাম আছে সব ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। কট্টরবাদীরা এমন কৌশল দেশব্যাপী গ্রহণ করেছে। বৈচিত্র নয়, শাসকের ছাঁচে দেশবাসীকে তৈরি হতে হবে এমন এক ভয়ংকর মতাদর্শকে সামনে রেখে চলেছে তারা। দক্ষিণপন্থার এমন ঢক্কানিনাদ অতীতে ভারতে শোনা যায়নি।

(৩)

মত প্রকাশের স্বাধীনতা ক্রমেই সংকুচিত। গৌরী লঙ্কেশ খুন হয়ে প্রমাণ করেছেন আমরা কোথায় আছি। বৈচিত্র নয়, আজকে শাসকের সঙ্গে একমত হওয়াটা প্রধান কাজ হিসাবে বিবেচিত নয়। বিখ্যাত উপন্যাসিক শ্রীপেরুমল ‘ওয়ান সাইড ওম্যান’-এর মতো উপন্যাস লিখে সঙ্ঘীদের চাপে লেখা ছেড়ে দিয়েছেন। কার্যত তিনি চাপ সহ্য করতে না পেরে মনোরোগীতে পরিণত হয়েছেন। কয়েকবার আত্মহত্যা করতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সাহায্যে রক্ষা পেয়েছেন। সম্প্রতি দলিত লেখক কাঞ্চা ইলাইয়া গৃহবন্দি আছেন। কয়েকদিন আগে লেখকের তেলেঙ্গানার বাড়িতে ২০০ জন আর এস এস কর্মী আক্রমণ চালায়। কাঞ্চা ইলাইয়া’র বিখ্যাত বইগুলোর মধ্যে অন্যতম ‘কেন আমি হিন্দু নই’, ‘বাফেলো জাতীয়তাবাদ’, ‘অস্পৃশ্য দেবতা’ ইত্যাদি। বিশ্ববিখ্যাত এই লেখক বলেছেন ‘আমি কোথাও নিরাপদ নই’। মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু লেখকের বিরুদ্ধে মিছিল বের করার অনুমতি দিয়েছেন। তিনি তো এখন বি জে পি দোসর। হিন্দুত্ববাদীরা তাদের পছন্দ নয় এমন কোনও লেখা বা বিষয়বস্তু প্রচার হতে দেবে না। সরকারি সমর্থন রয়েছে এই উগ্রপন্থীদের পক্ষে। যারা দেশের মানুষের বহু ঘামরক্ত ঝরিয়ে তৈরি করা ঐতিহ্যের চরমতম শত্রুতা করে যাচ্ছে।

এই প্রসঙ্গে বলি যে আর ক‍‌য়েক মাসের মধ্যে শুরু হতে যাচ্ছে বিশ্ব সুফি সম্মেলন। জয়পুর-রাজস্থান। পাকিস্তান থেকে সুফিরা এবার আসতে পারছেন না। কারণ এবার তারা ভিসা এবং ভারতে আসার কাগজপত্র পাচ্ছেন না। পিছনে আছে আর এস এস-এর প্রকাশ্য হুমকি। ইতিমধ্যে তারা বলে রেখেছে যে, যদি হুমকি উপেক্ষা করে তারা আসেন অর্থাৎ ভারত সরকার অনুমতি দেয়, তাহলে ফলাফল ভালো হবে না। প্রমাণিত যে, একটা সমান্তরাল প্রশাসন বা সরকার চলছে। খুবই সম্প্রতি জয়পুর লিটারেচার মিট-এর একটা সভাতে যোগ দেওয়ার সুযোগ হয়েছিল। প্রসঙ্গটি সবাই আলোচ্য করেছেন। কিন্তু কোনও ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি। সবার কণ্ঠেই একটা ভীতির ভাব কাজ করছে। সবাই জানেন পাকিস্তানের সুফিদের বাদ দিয়ে বিশ্ব সুফি উৎসব অর্থহীন। কিন্তু সবার মনেই বার বার সেই কথা বা ঘটনাটি ঘুরে ফিরে আসছিল যে, গোলাম আলি’র মতো বিশ্ববন্দিত গজল গায়ককে গাইতে দেওয়া হয়নি। অনুষ্ঠান বাতিল করতে হয়েছে। সুতরাং কে আর ঝুঁকি নিতে যাচ্ছে।

(৪)

ভারতের শিক্ষাব্যবস্থায় মাদ্রাসা শিক্ষা বহু প্রাচীন। যদিও সব মুসলমান ছেলেমেয়ে এখানে পড়ে না। মোট মুসলমান বাড়ির পড়ুয়ার মাত্র ৪ শতাংশ পড়ে মাদ্রাসায়। আবার মুসলমান নয়, এমন অনেকেই মাদ্রাসায় পড়ে। পশ্চিমবাংলা মাধ্যমিক স্তরে ১৪ শতাংশ এবং উচ্চমাধ্যমিক স্তরে ৪০ শতাংশ ছাত্রছাত্রী মুসলমান বাড়ির নয়। (হিসাবটা পূর্বতন সরকারের সময়ের) মাদ্রাসাগুলিতে ইসলাম ধর্ম, আরবি, উর্দু শিক্ষা দেওয়া হয় এবং আধুনিক পাঠক্রমও মান্য করা হয়। দেশের প্রচলিত আইন অনুসারেই সেটা হয়ে থাকে। দেশের সংবিধানেই সংখ্যালঘুদের ধর্মপ্রচার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার অধিকার দেওয়াষ হয়েছে। বি জে পি শাসিত রাজ্যগুলিতে মাদ্রাসাগুলিতে শিক্ষাদান প্রক্রিয়াতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। তাদের দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। সম্প্রতি উত্তর প্রদেশ সরকার মাদ্রাসাগুলির জন্য এক বিশেষ নির্দেশাবলি জারি করেছে। প্রত্যেকদিন মাদ্রাসায় জাতীয় পতাকা তুলতে হবে, জাতীয়সংগীত গাইতে হবে, অন্য কোনও সংগীত চলবে না। পুরো প্রক্রিয়াটির ভিডিও করে রাজ্য শিক্ষাদপ্তরে পাঠাতে হবে। যদি রিপোর্ট সন্তোষজনক হয়, তবেই সরকারি অনুদান মিলবে। আর সন্তোষজনক না হলে ঝাঁপ বন্ধ হবে। উত্তর প্রদেশে প্রায় ২১ হাজার নথিভুক্ত মাদ্রাসা আছে। সবাই সরকারি নির্দেশে আতঙ্কিত। দেশপ্রেম দেখানোর এই প্রাত্যহিক কুচকাওয়াজ সব ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে দিচ্ছে। সব মাদ্রাসাতেই জাতীয় দিবস পালিত হয়। জাতীয় পতাকা উত্তোলন হয়। আইন করলে যে বিচ্ছিন্নতা বাড়বে, সেটা শাসকের কানে পৌঁছাচ্ছে না। ক্ষমতার দম্ভে তারা মত্ত। ইতিমধ্যে বহু মাদ্রাসায় স্থানীয় আর এস এস কর্মী ও নেতাদের হুমকিতে বাচ্চাদের স্কুলের পোশাক ও মাদ্রাসা বাড়ির রং পালটে গেরুয়া করে ফেলা হয়েছে। এ ব্যাপারে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ মুখে রা কাড়ছেন না। কারণ তারা ইতিমধ্যেই হুমকির মধ্যে পড়েছেন। নিজের উচ্চতায় সবাইকে মাপতে হবে। এই মনোভাব নিয়ে চলা শাসকবর্গের অভাব ইতিহাসে বিরল নয়। বরং সংখ্যায় তার অনেক। আজকের পৃথিবীতে নানা কারণে সংখ্যাটা বেড়েছে। ২০১৪ সালের পর ভারতের নতুন সরকার সেই তালিকায় নতুন সংযোজন , তাতে সন্দেহ নেই। এই দলের আদিপুরুষ গোলওয়ালকর বলেছেন যে, ‘তলিয়ে বুঝবার চেষ্টা করলে আপনারা দেখতে পাবেন যে একমাত্র হিন্দুধর্মকেই ধর্ম বলা যায়।’ (স্বেয়স্থতি) এই বোধ থেকেই হিন্দুত্ববাদীরা তাদের পথ নির্দেশ পেয়ে গেছে। এই জগৎ সংসারে অন্য কারও যে কোনও মত থাকতে পারে, সেটা তাদের কাছে বিবেচনার বিষয়ই নয়।

২০১৪ সালের বি জে পি সরকার প্রতিষ্ঠার পর ‘আচ্ছে দিন’, ‘বিকাশ’ ইত্যাদির গালভরা কথা বলা হয়েছিল। নির্বাচনী প্রচারেও বলা হয়েছিল। সবগুলিই এখন অসত্য প্রমাণিত হয়েছে। বেকার যুবদের কাজ নেই। কিন্তু এক বছরে মুকেশ আম্বানির মুনাফা বেড়েছে ৬৭ শতাংশ, সব পুঁজিপতিদের গড় মুনাফা বৃদ্ধি ২৬ শতাংশ। দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন পর পর ৮টি কোয়ার্টারে কমেছে। পেট্রোলজাত দ্রব্যের দাম আকাশ-ছোঁয়া। কৃষকের আত্মহত্যা বাড়ছে। ফসলের দাম নেই। সারা দেশে কৃষকরা বিদ্রোহের পথে। কৃষক সমাবেশে চলছে নির্বিচারে গুলি। দলিতদের উপর আক্রমণ অব্যাহত। বিকাশ ও সুশাসন এখন ফাঁকা আওয়াজে পরিণত। ভোটে জিততে হলে ধর্মীয় মেরুকরণ ছাড়া উপায় দেখছে না বি জে পি। তাই দেশের বৈচিত্র, সম্প্রীতি, বহুত্ববাদের উপর আঘাত করে মানুষকে বিভক্ত করতে চাইছে। এই ‍ ইতিহাস পালটাবার রাস্তায় দেশ ধ্বংস হবে, একমাত্র দক্ষিণ জিতবে। সেই ভয়ংকর সময়ে পৌঁছাবার আগেই আমাদের সকলকে রাস্তায় নামতে হবে।

Featured Posts

Advertisement