বি এস এন এল-কে গুটিয়ে নেওয়ার
চক্রান্তের প্রতিবাদে ১২-১৩ই
ডিসেম্বর ধর্মঘট

বিশ্বজিৎ রায়

শ্যামনগর, ১২ই অক্টোবর— মোদী সরকার কর্পোরেট ও বহুজাতিক সংস্থার স্বার্থে কাজ করে চলেছে। এই সরকার দেশের রাষ্ট্রীয় শিল্প উদ্যোগকে বেচে দিতে চাইছে। মোদী সরকারের এই ভয়ংকর সর্বনাশ দেশবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে সর্বস্তরের শ্রমিক কর্মচারীর ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। বি এস এন এল এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক পি অভিমন্যু একথা বলেছেন। বৃহস্পতিবার শ্যামনগর রবীন্দ্র ভবনে বি এস এন এল এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের কলকাতা টেলিফোনস সার্কেলের অষ্টম সম্মেলন শুরু হয়। শ্যামনগর রবীন্দ্র ভবনে কমরেড দীপেন ঘোষ নগর ও কমরেড বিশ্বনাথ দে চৌধুরি মঞ্চে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

সম্মেলনের উদ্বোধন করতে গিয়ে পি অভিমন্যু বলেন, কেন্দ্রের মোদী সরকার ক্ষমতায় আসার পর এয়ার ইন্ডিয়াকে বেচে দিয়েছে। রেলকে বেসরকারিকরণের লক্ষ্যে বিবেক দেবরায় কমিটির সুপারিশ কার্যকর করতে চাইছে। প্রতিরক্ষা শিল্প যার সঙ্গে দেশের নিরাপত্তার প্রশ্নটি জড়িয়ে আছে। সেই প্রতিরক্ষা শিল্পকেও বেসরকারিকরণের লক্ষ্যে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। বি এস এন এল-এর সাবসিডিয়ারি টাওয়ার কোম্পানি গঠন করতে ক্যাবিনেটে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে বি এস এন এল-র শ্রমিক কর্মচারীদের ওপর ভয়ংকর আঘাত নেমে অসবে। এর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, দেশের মানুষের কোনও বিকাশ কী এই সরকারের আমলে হয়েছে? গরিব মানুষের স্বার্থে মোদী সরকার কাজ করবে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। অথচ গরিব শ্রমজীবী মানুষ প্রতিদিন কাজ হারাচ্ছেন। নতুন কোনও কর্মসংস্থান হয়নি। দেশে নতুন কোনও শিল্পের বিনিয়োগ হয়নি। দেশের আম্বানি, আদানিদের বিকাশ হয়েছে। কর্পোরেট ও পুঁজিপতিদের বিকাশ হয়েছে, এই সরকারের আমলে।

তিনি বলেন, বি এস এন এল-এর ওপর সার্বিকভাবে আক্রমণ নামিয়ে আনা হয়েছে। আম্বানির কোম্পানিকে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। তাদেরকে বিভিন্ন রকম সুযোগ সুবিধা দিচ্ছে কেন্দ্রের মোদী সরকার। আম্বানির কাছে এখন একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী বি এস এন এল। মোদী সরকার সাবসিডিয়ারি টাওয়ার কোম্পানি গঠন করে বি এস এন এল-কে গুটিয়ে দিতে চাইছে। মোদী সরকারের এই ভয়ংকর সর্বনাশা নীতির বিরুদ্ধে আগামী ১৬ই নভেম্বর দেশজুড়ে বি এস এন এল-এর কর্মচারীরা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করবে। আগামী ১২ ও ১৩ই ডিসেম্বর দুদিনের ধর্মঘটে শামিল হবেন বি এস এন এল শ্রমিক কর্মচারীরা। মোদী সরকারের সর্বনাশা নীতির বিরুদ্ধে সর্বস্তরের শ্রমিক কর্মচারীদের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলতে হচ্ছে।

বি এস এন এল এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের কলকাতা টেলিফোনস সার্কেলে অষ্টম সম্মেলনের প্রকাশ্য সমাবেশে এদিন কলকাতা টেলিফোনস-এর চিফ জেনারেল ম্যানেজার এস পি ত্রিপাঠী বলেন, গত এক বছরে বি এস এন এল-এর গ্রাহক সংখ্যা ক্রমশ বেড়েছে। এক লক্ষের ওপর গ্রাহক গত এক বছরে বেড়েছে। বি এস এন এল কর্মচারীদের দাবিগুলো অত্যন্ত ন্যায্য দাবি। শ্রমিক কর্মচারীদের এই দাবিপূরণ হলে গ্রাহকদের পরিষেবার মানও আরও উন্নত হবে। এই প্রকাশ্য সমাবেশে এছাড়াও বক্তব্য রাখেন বি এস এন এল এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের কলকাতা টেলিফোনস সার্কেলের সম্পাদক শৈবাল সেনগুপ্ত, অনিমেষ মিত্র প্রমুখ।

এদিন সংগঠনের রক্তপতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে সম্মেলন শুরু হয়। রক্তপতাকা উত্তোলন করেন সংগঠনের সভাপতি শিশির রায়। পরেশচন্দ্র ঘোষ, শিশির রায়, বিশ্বজিৎ চ্যাটার্জি, অশোক সেনগুপ্ত, সুকান্তি মুখার্জি, বাবলু মুর্মুকে নিয়ে গঠিত সভাপতিমণ্ডলী সম্মেলন পরিচালনা করছেন। ৪২টি ডিভিসন শাখা থেকে শ্রমিক কর্মচারীরা এদিন সম্মেলনে উপস্থিত হয়েছেন। আগামী ১৪ই অক্টোবর সম্মেলন শেষ হবে।

ক্যাপশন: বি এস এন এল এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের সম্মেলন উদ্বোধন করে বলছেন সংগঠনের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক পি অভিমন্যু।

Featured Posts

Advertisement