হীরের সন্ধানে বিশ্বকাপে গিনি
জার্মানির লক্ষ্য শুধুই জয়

সংবাদসংস্থা

কোচি, ১২ই অক্টোবর — অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপের ছাড়পত্র পেয়েছে ভারত। একবছর পরের ঘটনা। ২০১৪ সাল। ইবোলা ভাইরাসে ধসে গিয়েছিল পশ্চিম আফ্রিকার একটা দেশ। দুবছরে মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়ে যায় ১১,৩০০। ফুটবল খেলা তো দূর, সেই সময় প্রাণে বাঁচাই দায় ছিল গিনিতে।

মাটির নিচে সোনা, হীরা, বক্সাইটের অভাব নেই। মণিমানিক্যে সমৃদ্ধ দেশ হয়েও অনাহারে জর্জরিত। সেই খনিজ সম্পদের ভাণ্ডারের খোঁজ এখনও চলছে। কিছু খুঁজে পেয়েছেন কোচ সুলেমানে কামারা। সেই হীরের টুকরোগুলিকে যাচিয়ে নেওয়ার জন্যই অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপের আসরে পা রেখেছে গিনি। প্রথম ম্যাচে ইরানের কাছে পরাজিত। পরের ম্যাচেই ড্র করেছে কোস্টারিকার সঙ্গে। এবার প্রতিপক্ষ জার্মানি। তা নিয়ে অবশ্য বিশেষ মাথা ঘামাচ্ছেন না গিনি কোচ। ম্যাচের বিকেলে প্রস্তুতি সারার কথা থাকলেও, আচমকাই তা বাতিল করে দেন। সবার অগোচরে সকালেই মহারাজা কলেজের মাঠে অনুশীলন সারেন। ঘামে জবজবে হয়েই বলেন, ‘গিনিতে ফুটবল খেলার মতো পরিস্থিতি নেই। ফুটবলের কথা বাদ দিন। ছেলেরা কিভাবে বাঁচবে সেটাই প্রধান চিন্তার। তবে আমাদের দেশে প্রতিভা আছে।’

গিনি ফুটবল নিয়েই এখন বাঁচতে চায়। সিনিয়র দল এখনও বিশ্বকাপের ছাড়পত্র পায়নি। তবুও গর্ব বোধ করে পল পোগবাকে নিয়ে। ফ্রান্সের তারকা ফুটবলার হয় উঠেছেন পোগবা। ফরাসি নাগরিক হলেও, পোগবার বাবা এবং মা দুজনেই গিনির। দীর্ঘদিন ফরাসি উপনিবেশ থাকা গিনির কোচ জানান, ‘হ্যাঁ, পল পোগবা আমাদের দেশে তারকা। অনেক তরুণ ফুটবলারই ওকে অনুসরণ করে। তবে আমাদের দেশের আরও অনেক ভালো ফুটবলার আছে।’ সংযোজন করেন, ‘পোগবা ফ্রান্সে খেললেও ওর দুই ভাই মাথিয়াস ও ফ্লোরেন্তিন গিনির জাতীয় দলেই খেলে।’ এছাড়াও বাইশ বছরের নাবি কেইতাকে ঘিরেও একই স্বপ্ন দেখছেন গিনি। কেইতাকে সই করানোর জন্য আগ্রহ দেখিয়েছে লিভারপুল।

কোচ নিজেও জানিয়েছেন এই দল ভারতে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য আসেনি। গিনির লক্ষ্য ভবিষ্যতের জন্য তারকার হদিশ করা। অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপকে তারকা খোঁজার কাজে লাগাতে চাইছেন সুলেমানে কামারা। অনূর্ধ্ব-১৭আফ্রিকান চ্যাম্পিয়নশিপে তৃতীয় হয়েছে গিনি। অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপে কখনোই গ্রুপের গন্ডি টপকাতে পারেনি। এবার সেই কাজ কঠিন। এই দলে চারজন অনূর্ধ্ব-১৫ ফুটবলার রয়েছে। গিনির হয়ে দীর্ঘদিন খেলা কামারা জানিয়েছেন, ‘আমরা তো প্রত্যেকটা বয়সভিত্তিক ফুটবল প্রতিযোগিতায় জিততে চাই। তারজন্য আমাদের আগে এই ফুটবলারদের তৈরি করতে হবে।’

ভবিষ্যতের তারকার অনুসন্ধান যদি গিনির লক্ষ্য হয়, তাহলে বিশ্বকাপ জয়ই একমাত্র লক্ষ্য জার্মানির। অনূর্ধ্ব-১৭ বিভাগে এখনও শিকে ছেঁড়েনি রুমেনিগে, বেকেনবাওয়ার, ক্লোজে বা মুলারদের উত্তরসূরিদের। ভারত থেকে চ্যাম্পিয়ন হয়ে ফেরাই একমাত্র লক্ষ্য। গত ম্যাচে ইরানের কাছে হার সেই লক্ষ্যই বড় ধাক্কা দিয়েছে। গিনির থেকে তাই তিন পয়েন্ট জেতাই একমাত্র লক্ষ্য ক্রিশ্চিয়ান উকের ছেলেদের। কোচির মূল স্টেডিয়ামে প্রথম অনুশীলনের পর জানিয়েছেন, ‘এই ম্যাচ আমাদের কাছে ফাইনালের সমান। যে জিতবে তারাই পরের রাউন্ডে পৌঁছবে। তাই এই ম্যাচ জিততেই হবে।’ কোচির প্যাচ প্যাচে গরমে হাসফাস অবস্থা হলেও শুক্রবার সম্পূর্ণ অন্য জার্মানিকেই দেখা যাবে বলে জানিয়েছেন কোচ। বাছাই পর্বের ম্যাচে জান ফিয়েতে আর্পের গোলেই মূল পর্বে পৌঁছে ছিল জার্মানরা। অথচ ইরানের বিরুদ্ধে নড়াচড়াই করতে পারেননি আর্প। গত ম্যাচে কেন খারাপ ফল হলো? আর্পের উত্তর, ‘গত ম্যাচ নিয়ে ভাবছি না। আমাদের লক্ষ্য এখন শুধুই কালকের ম্যাচ। এই ম্যাচটা জিতলেই শেষ ষোলোয় পৌঁছতে পারবো। তাই যেভাবেই হোক কালকের ম্যাচ জিততেই হবে।’

জোড়া ম্যাচ জিতে গ্রুপ সি থেকে নকআউটের ছাড়পত্র আদায় করেছে ইরান। গিনি যদি ইরানের মতো চমক দিতে পারে তাহলে নকআউটে যাবে আটলান্টিক মহাসাগরের পার্শ্ববর্তী আফ্রিকার এই দেশ। শেষ ম্যাচে মরণ কামড় দিয়ে সেই জয়ই চাইছে গিনি।

Featured Posts

Advertisement