ঘরে ফিরেও জয়ের
লক্ষ্য আবিচল ব্রাজিল

মারগাও, ১২ই অক্টোবর — বিদেশে গিয়ে পরিচিত ভাষায় কথা শুনলে সকলেই আপ্লুত হয়। এলাকা জুড়ে একই পরিবেশ থাকলে আরও ভালো। ব্রাজিল দলও আপ্লুত এই কারণেই।

যুব বিশ্বকাপ খেলতে ব্রাজিলের অনূর্ধ্ব-১৭ দল এই মুহূর্তে মারগাওতে। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ মারগাওতে নাইজারের মুখোমুখি হবে ব্রাজিল। পতাকা, জার্সিও বিক্রি শুরু। একটা সময় প্রচুর পর্তুগিজ উপনিবেশ ছিলো গোয়ায়। এখনো কিছু রয়ে গিয়েছে। রয়েছে পর্তুগিজ ভাষায় কথা বলা লোকজন। সংখ্যাটা কম নয়। গোয়া যেন ব্রাজিলের ঘরের মাঠ। কোচিতে গ্রুপ পর্বের দুটো ম্যাচ খেলেছে ব্রাজিল। দুটিতেই জিতেছে। অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় জায়গা নিশ্চিত। আত্মতুষ্ট হতে রাজি নয় ব্রাজিল শিবির। বরং ‘ঘরের মাঠ’ মারগাওতে জোগো বোনিতোয় নজর। ব্রাজিলিয় ফুটবলের জাত চেনানোই লক্ষ্য। বুধবার গোয়ায় পৌঁছেছে ব্রাজিল। বৃহস্পতিবার হালকা অনুশীলন করেছে তারা।

ব্রাজিল ফুটবল দল এবারই প্রথম গোয়ায় খেলছে তা নয়। গত বছর ব্রিকস টুর্নামেন্টে অংশ নিতে এসেছিল ব্রাজিলের যুব দল। চ্যাম্পিয়ন হয়েই দেশে ফিরেছিলো তারা। গোয়ায় পা রেখেই স্মৃতির সরণিতে ব্রাজিল যুব দলের ফুটবলাররা। বর্তমান ২১ জন ফুটবলারের ১৪জনই ব্রিকস প্রতিযোগিতায় খেলেছিলেন। আক্রমণভাগে ঝড় তোলা পাওলিনহো, লিঙ্কনরাও ছিলেন। গোয়ার পরিবেশ পরিস্থিতি সবটাই তাদের জানা। গোয়ায় পৌঁছে ব্রাজিলের মিডিয়া ম্যানেজার বলেন, ‘এই জায়গাটা অনেকাংশে ব্রাজিলের মতো। আবহাওয়াও যেন এক। গ্রুপের শেষ ম্যাচ এখানে খেলতে পেরে আপ্লুত। এখানে প্রচুর ব্রাজিল সমর্থক রয়েছে। আশাকরি গ্যালারির বিরাট সমর্থন পাবো।’ ব্রাজিল কোচ কার্লোস আমাদুর মুখেও একই কথা। বলছেন, ‘গোয়াতে ফিরতে পেরে খুব ভালো লাগছে। এখানে ইতিবাচক স্মৃতি রয়েছে। ব্রিকস কাপ জিতেছিলাম। নাইজার ম্যাচেও ইতিবাচক কিছুই আশা করছি।’

ব্রাজিল দল ঘোষণা থেকেই ভিনিসিয়াস জুনিয়রকে নিয়ে প্রচুর আলোচনা হয়েছে। ক্লাব না ছাড়ায় ভারতে আসতে পারেননি ভিনিসিয়াস। ব্রাজিল দলে তাঁর অভাব কখনোই ধরা পড়েনি। গত দুই ম্যাচে কর্তৃত্ব নিয়ে ম্যাচ জিতেছে ব্রাজিল। পাওলিনহো, লিঙ্কনরা দারুণ ছন্দে। শক্তিশালী স্পেনের বিরুদ্ধে ২-১’র জয়ের পর গণতান্ত্রিক কোরিয়ার বিরুদ্ধে ২-০। বল পজেশনও ভালো ব্রাজিলের। কোচ কার্লোস আমাদু বলছেন, ‘আমরা প্রচুর গোলের সুযোগ তৈরি করেছি। সেই অনুযায়ী গোল করতে পারিনি। অন্তত ২৭টি শট মেরেছি গোলে। সবচেয়ে কঠিন কাজ হলো গোলের সুযোগ তৈরি করা। মাথা ঠান্ডা রেখে সেগুলো গোলে পরিণতর চেষ্টা করতে হবে।

গণতান্ত্রিক কোরিয়াকে হারিয়ে স্বপ্নের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছিলো নাইজার। দ্বিতীয় ম্যাচে স্পেনের কাছে ৪-০ গোলে হারে তারা। ব্রাজিলের সঙ্গে ড্র কিংবা জেতা অলীক কল্পনা। কোনোভাবেই এমন অসম্ভব সম্ভব হয়ে গেলে নাইজার শেষ ষোলোতে জেতেই পারে। নাইজারের কোচ ইসমাইলা তিয়েমোকো বলছেন, ‘ভালো পারফরম্যান্সেই টুর্নামেন্ট শেষ করতে চাই। ব্রাজিল শক্তিশালী দল। ব্রাজিলকে সম্মান করি। এবারই প্রথম আমরা যুব বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছি। ওরা তিনবারের চ্যাম্পিয়ন।’

Featured Posts

Advertisement