আত্মসমর্পণেই শেষ হলো
লড়াইয়ের ইতিহাস

ঘানা ৪ (আইয়া ২, টোকু, ডানসো) – ভারত ০

রাজর্ষি গাঙ্গুলি

নয়াদিল্লি : ১২ই অক্টোবর —নতুন রূপকথার গল্প শুরুর জানান দিয়ে শুরু হয়েছিল। যুব বিশ্বকাপ তো ভারতীয় ফুটবলের নতুন দিনের শুরু। কিন্তু সেই শুরুর ‘শেষ’টা এতোটা নির্মম?

মাতোসের অতিরিক্ত রক্ষণাত্মক স্ট্র্যাটেজির জন্য শেষ ম্যাচে আত্মসমর্পণ করলো ভারত। এই ভারত আর যাই হোক, কলম্বিয়া ম্যাচে দেখা ভারত নয়। কিছুতেই নয়। ঘানার কাছে ভারত হারলো ৪-০ গোলে। জোড়া গোল এরিক আইয়ার। একটি করে গোল ইমানুয়েল টোকু এবং রিচার্ড ডানসোর। শেষ বাঁশি বাজার পর প্রতিটা ভারতীয় ফুটবলার শুয়ে পড়লেন মাঠে। গোলরক্ষক ধীরাজ মুখ ঢাকলেন কান্নায়। মাঠ ছাড়ার সময়ও তাদের চোখে জল। পরের রাউন্ডে যাওয়ার আশা ছিল না ভারতের। কিন্তু নতুন ইতিহাসের শেষটা একটু ভালো হতেই পারতো। হওয়া উচিত ছিলো।

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই ঘানা বুঝিয়ে দিয়েছিলো চ্যাম্পিয়ন হওয়ার অন্যতম দাবিদার তারা। ধারালো আক্রমণভাগ। বাঁ প্রান্ত বেশি তীক্ষ্ণ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হেরে গেলেও ঘানা যে গ্রুপের সবথেকে শক্তিশালী দল স্বীকার করে নিয়েছিলেন ভারতীয় কোচ নর্টন ডি মাতোস। কিন্তু তাই বলে প্রথমার্ধে এতোটা ডিফেন্সিভ ফুটবল? এই দলটার তো হারানোর কিছু নেই। বরং পাওয়ার আছে অনেকটা। প্রথম থেকেই যেন গোল বাঁচাতে পারার লড়াই। ফলে যা হওয়ার তাই হলো। ৬-৭ জন মিলে রক্ষণভাগ সামলে যাওয়া। ঘানার আক্রমণের ঢেউয়ের সামনে কোনমনতে খড়কূটোর মতো ভেসে থাকা। ৫ মিনিটেই ঘানার অধিনায়ক এরিক আইয়ার গোল অফসাইডের জন্য বাতিল হয়। গত ম্যাচ থেকে ৪টি পরিবর্তন করেছিলেন ভারতীয় কোচ। বাদ পড়েছিলেন রহিম, অভিজিৎ, মিতেইরা। রক্ষণ জমাট বাঁধাতে নামানো হয় জিতেন্দ্রকে। আক্রমণভাগে একা অনিকেত কিছুই করতে পারছিলেন না। ভারতীয় কোচের পরিকল্পনা ছিল কোনভাবে প্রথমার্ধে ঘানাকে গোল না করতে দেওয়া। কিন্তু শেষরক্ষা হলো না। ৪৩ মিনিটের মাথায় সাদিক ইব্রাহিমের শট রুখে দেন ধীরাজ। ফিরতি বল জালে ঠেলেন ইরিক আইয়া।

এই বিশ্বকাপে ভারতের তিনটে ম্যাচ খেলা হয়ে গেল। তিনটে ম্যাচেই একটা অদ্ভুত মিল। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই গোল খেয়ে যাচ্ছে ভারত। মার্কিনীদের সঙ্গে ৫১ মিনিটে গোল খেয়েছিল ভারত। কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে ৪৯ মিনিটে। আর ঘানার বিরুদ্ধে ভারত গোলটা খেলো ঠিক ৫২ মিনিটে। আবার গোল করলেন ইরিক আইয়া। চেষ্টা করেও রুখতে পারেননি ধীরাজ। তারপরও অবশ্য খুব একটা খেলা পালটায়নি ভারতের। রহিমকে মাঠে আনলেও মাতোস তুলে নেন অনিকেতকে। যত সময় যায় তত ভারতের ঘাড়ে চেপে বসে ঘানা। ৮৬ মিনিটে আগুয়ান ধীরাজকে পরাস্ত করে জালে বল জড়ান পরিবর্ত হিসাবে নামা রিচার্ড ডানসো। দম ফেলারও সময় পায়নি ভারতীয় রক্ষণ। পরের মিনিটে আবার গোল। ইব্রাহিম সুলের শট বারপোস্টে লেগে ফিরলে ফিরতি বল জালে ঠেলেন পরিবর্ত হিসাবে নামা ইমানুয়েল টোকু।

প্রতিশ্রুতি রাখলেন না মাতোস। ঘানা ম্যাচের আগের দিন বলেছিলেন আমার ছেলেরা জেতার জন্য খেলবে। না এই হারের পরও বিশ্বকাপে ভারতীয় দলের লড়াই মনে রাখবে সবাই। ভারতীয় ফুটবলের নতুন দিগন্তও সূচিত হলো। কিন্তু আপশোস থেকে যাবে শেষ ম্যাচে আত্মসমর্পণের জন্য। এক দর্শক স্টেডিয়াম থেকে বেরোনোর সময়ে বলছিলেন, ‘ঘানার কাছে ভারত হারবে তো স্বাভাবিক। কিন্তু একটু লড়াই থাকবে না? এই ভারতকে তিন দিন আগের দলটার সঙ্গে কিছুতেই মেলাতে পারলাম না।’

ভারত : ধীরাজ, বরিস, আনোয়ার, জিতেন্দ্র, সঞ্জীব, অমরজিৎ (রহিম), জিকশন, রাহুল, সুরেশ, নাওরেম (মিতেই), অনিকেত (লালেঙমাইয়া)

Featured Posts

Advertisement