অখিলেশকে সর্বদা আশীর্বাদ
করবেন,বললেন মুলায়াম

সংবাদসংস্থা

লক্ষ্ণৌ, ২২শে নভেম্বর — দীর্ঘদিন পরে ফের অখিলেশ যাদবের সঙ্গে এক মঞ্চে এলেন মুলায়াম সিং যাদব। বুধবার মুলায়ামের ৭৯তম জন্মদিবস উপলক্ষে দলের কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল, সেখানে উপস্থিত হন প্রবীণ নেতা। বড় সংখ্যায় দলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত হয়ে তাঁকে শুভেচ্ছা জানান। মুলায়াম সিং মঞ্চে উঠলে তাঁকে পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করেন ছেলে অখিলেশ। অন্য নেতারাও ফুল দিয়ে অভিবাদন জানান। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অখিলেশ ছেলে আগে, নেতা পরে। সবসময়ই ওকে আশীর্বাদ করবো। দলের পক্ষ থেকে একে বিরোধ মিটিয়ে ঐক্যের চেষ্টা হিসাবেই দেখছেন। যদিও অখিলেশের কাকা শিবরাজ যাদব এই অনুষ্ঠানে ছিলেন না। তবে ভোটের আগে দল ছেড়ে যাওয়া মুলায়ামপন্থী কয়েকজন নেতাও এদিনের অনুষ্ঠানে ছিলেন।

অনুষ্ঠানে সমাজবাদী পার্টি কর্মীদের সামনে বক্তব্য রাখেন তিনি। সেখানেই ফের অযোধ্যায় করসেবকদের ওপর গুলি চালনার সিদ্ধান্তকে সঠিক বলে জানান। দেশের ঐক্য রক্ষার জন্যেই এই কাজ করতে হয়েছিল বলে তিনি বলেন। উল্লেখ্য, ১৯৯০সালের ৩০শে অক্টোবর, বিশ্ব হিন্দু পরিষদের ডাকে বাবরি মসজিদের জায়গায় জোর করে মন্দির করার ডাক দেওয়া হয়। লক্ষাধিক করসেবকের জমায়েত হয় অযোধ্যায়। বাবরি মসজিদ দখলের চেষ্টা হলে পুলিশ গুলি চালায়। গুলিতে বেশ কিছু করসেবকের মৃত্যু হয়। এই বিষয়টি নিয়ে বি জে পি সবসময়েই সমাজবাদী পার্টি এবং মুলায়াম সিংয়ের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানায়। ফলে মুলায়ামের এদিনের বক্তব্যের পর ফের বিতর্ক হবে। বিশেষ করে মুলায়াম এদিন জানান, ওই গুলি চালনার ঘটনায় ২৮জনের মৃত্যু হয়েছিল। এই সংখ্যা নিয়েও চিরকাল বিতর্ক রয়েছে। সেই সময়ের মুখ্যমন্ত্রী মুলায়াম সিং যাদব এদিন সংখ্যা বলায় নিশ্চিতভাবেই ফের বিতর্ক চাড়া দেবে। এই প্রসঙ্গে মুলায়াম বলেছেন, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ী তাঁকে বলেছিলেন ৫৬জন প্রাণ হারিয়েছেন। তিনি বাজপেয়ীর সাথে তর্ক করেছিলেন এবং সংখ্যাটা ২৮জন জানিয়েছিলেন, বলেছেন মুলায়াম। ছয় মাস পরে এই সংখ্যা তিনি জানতে পেরেছিলেন, বলেছেন মুলায়াম। তিনি নিজের মতো করে সমস্ত নিহতের পরিবারগুলিকে সহায়তা করেছিলেন বলেও জানান মুলায়াম সিং যাদব।

Featured Posts

Advertisement