কেরালাকে যারা বিষিয়ে দিতে চায়
তাদের কেউ ক্ষমা করবে না

পিন্নারি বিজয়ন

‌আমরা এরকম একটা সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি যখন সত্য বলার জন্য মূল্য দিতে হচ্ছে। বিরোধী কণ্ঠ বা অন্য সুরকে চিরতরে শেষ করে দেওয়া হবে বলে চলছে অনবরত হুমকি। আমরা জানি ছাত্রদের রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে জড়িয়ে দেওয়ার জন্য আজ অবিরাম ষড়যন্ত্র চলছে। শিল্পী সাংস্কৃতিক কর্মীদেরও নানা হুমকির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। যেমন এই সময়েই খুন হয়ে গেলেন প্রতিবাদী দাভোলকর, পানসারে, কালবুর্গী। কিছুদিন আগেই ফের প্রাণ দিয়ে প্রতিবাদের মূল্য চোকাতে হলো সাংবাদিক গৌরী লঙ্কেশ ও শান্তনু ভৌমিককে।

এই প্রসঙ্গে আমি কেরালার সম্পর্কে কিছু বলতে চাই। কেন কেরালাকে আজ নিশানা করা হচ্ছে? উত্তরটা খুব সোজা। এটা হলো সেই রাজ্য যে রাজ্য গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার আদর্শ ও মূল্যবোধের কথা তুলে ধরার ক্ষেত্রে চ্যাম্পিয়ন। দেশে সাম্প্রদায়িকতা, নোট বাতিল, নয়া উদারবাদী অর্থনীতি বা যে ধান্দার ধনতন্ত্র চলছে এসবের বিরুদ্ধে কেরালা হলো সেই রাজ্য যে সর্বপ্রথম এসবের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সরব হয়েছে। এটা তাই স্বাভাবিক যারা এসব কার্যকলাপ চালায় তারা এতে খুবই ক্ষিপ্ত। এই কারণেই তাদের আক্রমণের নিশানা আজ কেরালা।

এদিকে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে কেরালাকে বেকায়দায় ফেলা চরমভাবে হেয় করে তোলার এসব অপচেষ্টা শুরু হয়েছে গত বছর বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকে। ২০১৬ সাল গরমের সময় এমনিতেই কেরালায় গরম বেশি। বি জে পি-র নির্বাচনী প্রচারে গুজরাট থেকে যিনি এলেন তিনি কটাক্ষ করে বললেন সোমালিয়ার থেকে কেরালায় গরম বেশি, আবার শিশু মৃত্যুর হারও সে দেশের থেকে কেরালায় বেশি। এতে রাজনৈতিক মতভেদ ভুলে দেশ বিদেশের মালওয়ালিরা সকলেই এই মন্তব্যের প্রতিবাদ করেছিলেন। শুধু তাই নয় সোশ্যাল মিডিয়ায় তথ্যসহ তারা জানিয়েছিলেন কেরালা নয় শিশু মৃত্যুতে বেশি মৃত্যু হয় গুজরাটে যে রাজ্য থেকে তিনি প্রচারে এসেছিলেন। তারা তথ্য দিয়ে বুঝিয়েছিলেন গুজরাট হলো সেই রাজ্য যেখানে শিশু মৃত্যুর হার সোমালিয়ার থেকে বেশি।

নোট বাতিল নিয়ে সাধারণ মানুষের হয়রানির প্রতিবাদে সরব ছিল কেরালা। নোট বাতিলে হয়রানি শুধু কেরালার নয় সারা দেশের মানুষকে তার জন্য ভুগতে হয়েছে। নোট বাতিল করার পক্ষে যে যুক্তি দেওয়া হয়েছিল তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয় কেরালায়। পরে সারা দেশজুড়ে তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। কেরালায় বলা হয়েছে এই নোট বাতিলের ফলে অর্থনীতি পুরো থমকে গেছে। টাকা সংগ্রহ করতে চরম হয়রানিতে প্রাণ হারিয়েছেন শতাধিক মানুষ। এতে যে কালো টাকা উদ্ধারের কথা বলা হয়েছিল তা ব্যর্থ হয়েছে। এককথায় বলা যায় এটা একটা চরম বোকামি। এতে দেশের অর্থনীতি যেভাবে বিপর্যস্ত হয়েছে তা কল্পনার বাইরে। কেরালা এই আশঙ্কার কথা সেসময় বারে বারে তুলে ধরেছে। তা এখন সঠিক বলে প্রমাণিত হয়েছে। আজও না কেন্দ্রের সরকার, না রিজার্ভ ব্যাঙ্ক কেউ দেশকে বোঝাতে পারছে না কেন এই নোট বাতিলের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল। স্বাভাবিকভাবেই এতে প্রমাণিত এই উদ্যোগ কোনও ভালো উদ্দেশ্যে নয় বা কোনও পরিণত সিদ্ধান্তও নয়। এমনকি সুপ্রিম কোর্টও এতে জাল টাকার পরিমাণ বা কালো টাকার সন্ধান নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছে। অনুমান করা হচ্ছে এনিয়ে সঠিক তথ্যও আগামী দিনে হয়তো আর প্রকাশ করাই হবে না। এপ্রসঙ্গে উল্লেখ করা যায় এই নোট বাতিলের সঙ্গেই কেরালার সমবায় ব্যাঙ্কের উপরও কেন্দ্রের আক্রমণ নেমে আসে। কেরালায় সমবায় ব্যাঙ্ক পরিষেবা সমাজের একেবারে নিচু স্তরে পৌঁছে গেছে। যা কেরালার সমাজজীবনে আর্থিক বৈষম্যকে অনেকটা প্রতিহত করতে পেরেছে। দেশের তথাকথিত মডেল রাজ্য থেকে কেরালায় আর্থিক বৈষম্য অনেকটাই কম। এই সময়ে দেখা গেল কেরালার সমবায় নিয়ে কেন্দ্র থেকে নানা গল্প বানানো হলো। বলা হলো কেরালার সমবায় ব্যাঙ্কে কালো টাকা মজুত রাখা হচ্ছে। আসল ঘটনা হলো কেরালার সমবায়ে রয়েছে কেরালার সাধারণ মানুষের পরিশ্রমের ঘাম ঝরানোর বিনিময়ে উপার্জিত সঞ্চয়ের টাকা। কেন্দ্রের এই প্রচারে কেরালার মানুষ বুঝতে পেরেছেন রাজ্যের ভাবমূ্র্তি নষ্ট করতে এই ষড়যন্ত্র চলছে। ফলে মালওয়ালিদের মধ্যে এই প্রচার বিশেষ দাগ কাটেনি। কেরালার মানুষ এই সময়ে সরাসরি তাদের সমবায় ব্যাঙ্কের সমর্থনে রাস্তায় নেমে সরব হন। তারা প্রচারে জানিয়ে দেন কিভাবে বিভিন্ন আর্থিক সংকটে সমবায় তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। তারা এনিয়ে কেরালার সমবায় ব্যাঙ্কের বিরুদ্ধে কেন্দ্র বৈষম্যমূলক আচরণ করছে বলেও অভিযোগ করেন। সুপ্রিমকোর্টে এনিয়ে মামলায় সাধারণ মানুষের নিজস্ব আর্থিক প্রতিষ্ঠান সমবায়কে যেকোনভাবে রক্ষা করা উচিত বলে রায় দেয়। কেরালার মানুষের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ আরও একবার কেন্দ্রের ঐ সমবায়বিরোধী ষড়যন্ত্র প্রতিহত হয়।

বি জে পি-র গোমাংসবিরোধী প্রচারে একেবারে সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ প্রতিরোধে সরব হয়েছে কেরালা। কেন্দ্র সরকারিভাবে প্রাণীর উপর নৃশংসতা রোধে নোটিস জারি করল। এর আসল উদ্দেশ্য হলো গোমাংস নিষিদ্ধ করা। এনিয়ে ফের প্রতিবাদে সরব হলো কেরালা। রাজ্য জানালো কিভাবে এতে সংযুক্ত রাষ্ট্র কাঠামোর যে নীতি রয়েছে দেশে তা লঙ্ঘন করা হচ্ছে। এতে রাজ্যগুলির অধিকার খর্ব করা হচ্ছে বলেও জানালো কেরালা। এই বিধিনিষেধ রাজ্যের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষকে কিভাবে বিপন্ন করবে সেকথাও তুলে ধরা হলো। অন্য রাজ্যগুলিও এতে কেরালার পাশে দাঁড়ালো। ফলে বাধ্য হয়ে কেন্দ্র এই নির্দেশ বিবেচনা করবে বলে জানায়। যদিও এখনও তা নিয়ে ফের অগ্রসর হতে দেখা যায়নি কেন্দ্রকে।

মাসখানেক আগে কেরালাকে নিয়ে সারা দেশে বি জে পি-র এক প্রচার চলছিল যে হিন্দুরা কেরালা রাজ্যে নিরাপদ নয়। তবে এই প্রচার খুব একটা দাগ কাটতে পারেনি। তারা দলের যাত্রার কর্মসূচিতে রাজ্যে এই প্রচার চালায়। এতে তাদের দলের জাতীয় স্তরের নেতারা অংশ নেন। তাদের বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা এতে অংশ নিয়েছিলেন। যে রাজ্যে কৃষক ও শিশুদের হত্যা করা হয় সেসব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা কেরালাকে যেন রক্ষা করতে এসেছিলেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় এর জবাব দিয়েছিলেন রাজ্যের মানুষ। তারা বলেছিলেন কেরালায় যে অন্য মুখ্যমন্ত্রীরা এসেছেন তারা তাদের নিজেদের রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ঠিক করুন। কেরালার জন্য ভাবতে হবে না। কেরালার ভাবনা কেরালার মানুষ ভাবতে পারেন। বি জে পি নেতারা রাজ্যে তীব্র সাম্প্রদায়িক প্রচার চালান রাজ্যজুড়ে। তারা রাজ্যে প্রচারে বললেন কেরালা হলো মুসলিম সন্ত্রাসবাদীদের ঘাঁটি। স্লোগান তোলা হলো লাভ জেহাদ নিয়ে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল কেরালায় যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য রয়েছে তাতে বিভেদ তৈরি করা। এনিয়ে নানা বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রচার করা হলো বিভিন্ন মিডিয়ায়। আর এস এস-র এই সাম্প্রদায়িক প্রচার ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলা করলেন কেরালার মানুষ। তার ফল মিললো নির্বাচনে। বি জে পি-র এই প্রচার নিয়ে যাত্রা পরিক্রমা করেছিল ভেনগারা কেন্দ্রে। যেখানে উপনির্বাচন ছিল। বি জে পি সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের নোংরা খেলা চালালেও মানুষ তাতে প্রভাবিত হননি। তারা বি জে পি-কে প্রত্যাখান করেছেন নির্বাচনে। তারা ভোটে চতুর্থ স্থানে পৌঁছে গেছে। এই নির্বাচনে বার্তা পরিষ্কার কেরালায় তাদের সাম্প্রদায়িক জারিজুরি খাটবে না।

আমার জেলা কান্নুরে হিংসাত্মক ঘটনা নিয়ে নানা প্রচার চলে। কিন্তু এই অঞ্চলের ইতিহাস ও বিভিন্ন তথ্যে নজর দিলে আর এস এস-র স্বরূপ পরিষ্কার হয়ে যাবে। দীর্ঘদিন ধরেই তারা এই অঞ্চলের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে। ১৯৬০ সালের শেষদিকে তারা বিড়ি শ্রমিকদের দাবি দাওয়ার আন্দোলন দমনে ঠেঙাড়ে বাহিনী তৈরি করে। ১৯৭০ সালের প্রথমদিকে তারা তালাসেরিতে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাধায়। এনিয়ে বিচারপতি বিতয়াহিলের কমিশন তার রিপোর্টে জানায় কিভাবে এই দাঙ্গা রুখতে সি পি আই (এম) সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছে। এরপর থেকে এই জেলায় নিজেদের অস্তিত্ব রাখতে লাগাতার সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরিতে দাঙ্গা বাধানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে আর এস এস। কেরালার স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে কোনও অবদান নেই আর এস এস-র। সমাজ সংস্কারের আন্দোলনের তারা বিরোধিতা করে এসেছে। এখন তারা ধর্মের নামে যে সাম্প্রদায়িক রাজনীতি চালাচ্ছে তা কেরালার মানুষ বরদাস্ত করবেন না।

এদিকে কেরালার উন্নয়ন নিয়ে দুচার কথা বলা দরকার। কেরালা হলো সেই রাজ্য যে রাষ্ট্রসঙ্ঘের মানবসম্পদ উন্নয়নের সূচকে ভারতের মধ্যে শীর্ষে থাকা রাজ্য। রাজ্য বামগণতান্ত্রিক ফ্রন্ট ক্ষমতায় আসার পর আইন শৃঙ্খলার উন্নতি হয়েছে। এনিয়ে ইন্ডিয়া টুডের সমীক্ষায় বলা হয়েছে কেরালা আইনশৃঙ্খলায় দেশের মধ্যে সবচেয়ে উন্নত রাজ্য। সেন্টার অব মিডিয়া স্টাডিস তাদের সমীক্ষায় জানিয়েছে কেরালা হলো সেই রাজ্য যেখানে দুর্নীতির হার ভারতের মধ্যে সবচেয়ে কম। কপস টুডে ইন্টারন্যাশনাল সংস্থা তাদের সমীক্ষায় জানিয়েছে কেরালার পুলিশ প্রশাসন হলো দেশের মধ্যে সবচেয়ে উন্নত।

কেরালা দেশের সেই রাজ্য যা সাক্ষরতায় প্রথম স্থানে রয়েছে। সামাজিক উন্নয়নের অনেক ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছে। কেরালা হলো সেই রাজ্য যেখানে শৌচাগার নির্মাণে ১০০% সফল। এর ফলে এখানে কোথাও প্রকাশ্যে মলমূত্র ত্যাগ হয় না। দেশের মধ্যে একমাত্র রাজ্য কেরালা যেখানে সর্বত্র ১০০% বৈদ্যুতিকীকরণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। কেরালায় বাজেটে তফসিলি জাতি-উপজাতিদের জন্য বাজেটে পৃথক বরাদ্দ নির্দিষ্ট করা থাকে। তাদের জন্য বরাদ্দের হার অন্য রাজ্যের থেকে বেশি। রাজ্য বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রথম স্থানে রয়েছে তার তালিকা দিয়ে শেষ করা যাবে না। ইন্টারনেট পরিষেবা সমস্ত নাগরিককে পৌঁছে দিতে তা নাগরিকদের অধিকার বলে কেরালাতে প্রথম আইন করা হয়েছে। আমাদের রাজ্য প্রথম যেখানে রাজ্যে যৌন অপরাধের রেজিস্টার রাখা হয়েছে। যেখানে যাবতীয় এজাতীয় অপরাধ ও তা নিয়ে কি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তা নথিভুক্ত করা হয়। কেরালায় নারী পুরুষের অনুপাত সবচেয়ে বেশি। স্বাস্থ্য উন্নত সূচকে শীর্ষে। রাজ্যের মানুষের গড় আয়ু বেশি যে কোনও রাজ্যের তুলনায়।

কেরালা ভারতের মধ্যে সেই রাজ্য যেখানে ন্যূনতম মজুরি সবচেয়ে বেশি। একারণে পরিযায়ী শ্রমিক বেশি আমাদের রাজ্যে। বেশি রোজগারের জন্য তারা আসছেন আমাদের রাজ্যে। তাঁদের কল্যাণে নজর রয়েছে সরকারের। তাঁদের জন্য স্বাস্থ্য বিমার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ভীতির সঞ্চারে নামা অপপ্রচার চলেছে। তবে যারা কেরালার মাটিতে দাঁড়িয়ে বাস্তব অবস্থা দেখেছেন তারা বুঝেছেন কিভাবে কেরালার সম্প্রীতির ভাবমূর্তি নষ্ট করতে ষড়যন্ত্র চলছে এবং তা রুখতে স্থানীয় প্রশাসন কিভাবে সক্রিয়। কিভাবে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভ্রান্তিকর প্রচার চলছে তার দুটি উদাহরণ যথেষ্ট। সোশ্যাল মিডিয়ার প্রচার হলো খুন হয়েছে কেরালায় তা নিয়ে কেরালায় উৎসব হচ্ছে। পরে দেখা গেল একটি খুনের ঘটনার সঙ্গে ফুটবলের মাঠের উচ্ছ্বাস মিশিয়ে তৈরি করে খুন নিয়ে উৎসবের জাল ভিডিও ছাড়া হয়েছে। একইভাবে অন্য রাজ্যে দাঙ্গার ছবিকে কেরালার দাঙ্গা বলে জাল ভিডিও ছাড়া হয়েছে। এমনকি সাংবাদিক গৌরী লঙ্কেশের হত্যার ছবি দেখিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার করা হলো হিন্দু নারীকে কেরালায় প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।

এদিকে এসব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে কেরালা এগিয়ে চলেছে। কেরালা চারটি মিশন নিয়ে চলছে ১) হারিথা মিশন ২) আরদাম মিশন ৩) শিক্ষা মিশন ৪) জীবন মিশন। হারিথা মিশন হলো কেরালার প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা করো। আরদাম মিশন হলো স্বাস্থ্য পরিষেবা উন্নত করো, শিক্ষা মিশন হলো শিক্ষা পরিকাঠামো উন্নত করো। জীবন মিশন হলো সকলের জন্য জমি ও বাড়ি নিশ্চিত করা। এর সঙ্গে প্রতি পরিবারে একটি চাকরি নিশ্চিত করা। কেরালা দেশের মধ্যে আশার এক আলোকবর্তিকা তুলে ধরতে চায়। যা হবে মানব উন্নয়নের একটা মডেল। আর এক রাজনৈতিক শক্তি তাদের নিছক ক্ষুদ্র রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে কেরালার ভাবমূর্তি নষ্ট করার ষড়যন্ত্রে নেমেছে। তারা ধর্মের নামে মানুষে মানুষে বিভেদ তৈরি করতে চাইছে। এমনকি তারা কেরালা বয়কট করো বলেও প্রচার চালাচ্ছে। এর অর্থ হলো অর্থনৈতিক দিক দিয়ে কেরালার ক্ষতি করা। পর্যটনে কেরালার সুনাম রয়েছে। এতে রাজ্যের বহু মানুষের জীবন-জীবিকা নির্ভর করে। তারা বিভিন্ন রাজ্যে গিয়ে কেরালায় পর্যটনে যাবেন না বলে প্রচার চালাচ্ছে। তাদের একটা লক্ষ্য কেরালার পর্যটন শিল্পকে একেবারে স্তব্ধ করে দেওয়া। এনিয়ে যারা নানা জাল খবর প্রচার করে কেরালার ভাবমূর্তি নষ্ট করে কেরালার অর্থনীতির ক্ষতি করছে তাদের রাজ্যের মানুষের উপর কোনও সমবেদনা নেই। এই পর্যটনের পেশায় অনেকে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করছেন তারা এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। মালাওয়ালিরা ভারতের সমস্ত নাগরিককে তাদের ভাই বোন বলে মনে করে। অন্যদিকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভারতের নাম উজ্জ্বল করাতে বিশেষ ভূমিকা নিয়ে চলেছেন মালওয়ালিরা। বিদেশি মুদ্রা আয়ে দেশের মধ্যে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছে কেরালা। বিদেশি পর্যটক কেরালায় বেশি। ভারত ভ্রমণ পুরণ হয়না তাদের ‘ঈশ্বরের নিজের দেশ’ সফর না করলে। কেরালা হলো সেই রাজ্য যেখানে সাম্প্রদায়িকতার কোনও স্থান নেই। আমাদের সম্প্রীতির রাজ্য কেরালাকে যারা বিষিয়ে দিতে চাইছে তাদের কেরালার মানুষ কখনও ক্ষমা করবেন না।

Featured Posts

Advertisement