বেতনের টাকা খরচ করে
খেলোয়াড় গড়ছেন
আহমেদপুরের শিক্ষক

নিজস্ব সংবাদদাতা

আহমেদপুর, ৬ই ডিসেম্বর—ইচ্ছা ছিল বড় খেলোয়ার হওয়ার। সেই স্বপ্ন দিনের আলো দেখেনি নানান প্রতিবন্ধকতায়। কিন্তু সেই ‘প্রতিবন্ধকতা’ যাতে আর কারোর কাছে বাধা না হয় তার জন্য জান লড়িয়ে দিচ্ছেন বীরভূমের আহমেদপুরের ভাস্কর চ্যাটার্জি। তাই তো আশপাশের কয়েকটি গ্রামের কচিকাঁচা, স্কুল পড়ুয়া, কলেজ পড়ুয়াদের নিয়ে গত তিন বছর যাবৎ স্বেচ্ছাশ্রমে চালিয়ে যাচ্ছেন ভলিবল ক্যাম্প। সাধ্য যে খুব বেশি আছে তা নয়। নিজে প্রাথমিক শিক্ষক হলেও তাঁর স্বপ্ন অনেক বড়।

আহমেদপুরের বাসিন্দা, মৃতদাসপুরের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ভাস্কর চ্যাটার্জি শিক্ষক হিসাবে বেশ জনপ্রিয় এলাকায়। তবে এখন তারচেয়েও বেশ নামডাক ভলিবলের ‘স্যার’ হিসাবে। একক প্রচেষ্টায় প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে বেছে বেছে গরিব ঘরের ছেলেদের এনে প্রশিক্ষণ দিয়ে ভলিবল খেলোয়াড় তৈরির যজ্ঞে নেমেছেন। সংসার খরচের পাশাপাশি ক্যাম্প চালানোর খরচও বহন করে চলেছেন।

আহমেদপুরেরই এক খেলাপ্রেমী ব্যক্তি ভলিবল অনুশীলনের জন্য ব্যবহার করতে দিয়েছেন নিজের জায়গা। কেউ দিয়েছেন নেট, কেউ বা দিচ্ছেন বল। সমাজসেবামূলক কাজের জন্য সুপরিচিত আহমেদপুর জয়দুর্গা টাউন ক্লাবও বাড়িয়ে দিয়েছে যথাসাধ্য সাহায্যের হাত। সকল সহায়তাকে একত্রিত করেই এগিয়ে চলেছে ভাস্করবাবুর ‘আহমেদপুর ভলিবল আকাদেমি’।

বিকেল হতেই আহমেদপুর, নিমগড়িয়া, জইতা, নানুবাজার প্রভৃতি এলাকা থেকে কচিকাঁচা, স্কুল পড়ুয়া, কলেজ ছাত্র, কলেজ উত্তীর্ণরা হাজির হয়ে যান আহমেদপুরের বাবুপাড়ার আকাদেমিতে। সেখানেই চলে কড়া অনুশীলন। ইতিমধ্যেই এই ক্যাম্পের অনি সিংহ জায়গা করে নিয়েছে অনূর্ধ্ব সতেরো জেলা দলে। এছাড়াও বড় খেলোয়ার হওয়ার স্বপ্ন দেখছে শান্তুনু ব্যানার্জি, রাজ সিংহ, রাজকুমার দে।

প্রশিক্ষক ভাস্কর চ্যাটার্জির কথায়, ‘দিন দিন যেভাবে কচিকাঁচাদের মধ্যে মাঠে নামার প্রবণতা কমছে তা সমাজের পক্ষ ক্ষতিকারক। মূল্যবোধ তৈরির ক্ষেত্রে অন্তরায়। প্রতিভা থাকলেও পরিচর্যার অভাবে তা হারিয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। সেই ভাবনা থেকেই এই চেষ্টা। এক এক করে বর্তমানে প্রায় ২৫-২৬ জন শিক্ষার্থী নিয়মিত আসে অনুশীলনে।’

শিক্ষার্থী অনিকেত সরকার, রাজকুমার দে, শান্তুনু বন্দ্যোপাধ্যায়, তাপস ভাণ্ডারিরা জানিয়েছে, ‘স্থায়ী জায়গা, উপযুক্ত পরিকাঠামো, আধুনিক প্রশিক্ষণের অভাব খুব ভাবাচ্ছে।’

Featured Posts

Advertisement