চড়া হারে মূল্যবৃদ্ধির শঙ্কায়
সুদের হার অপরিবর্তিতই

নিজস্ব প্রতিনিধি

নয়াদিল্লি, ৬ই ডিসেম্বর- চড়া হারে মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা করেই সুদের হার কমালো না রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। এই সুদের হার স্থির হয় রেপো রেটের উপর। বুধবার রিজার্ভ ব্যাঙ্কের আর্থিক নীতি কমিটি দ্বিমাসিক বৈঠকে রেপো রেটের হার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিল। ফলে রেপো রেট ৬% ও রিভার্স রেপো রেট ৫.৭৫% বহাল রইল। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের তথ্য অনুসারে বর্তমানে বাজারে যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে তাতে অনুমানের থেকে বেশি হারে ঘটছে মূল্যবৃদ্ধি। বিশেষ করে রবি ও খরিফ শস্যের ফলন ভালো না হওয়ায় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ফের বাড়তে থাকায় বাজারে সব কিছুর দাম আরো চড়া হবে বলে আশঙ্কা করছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। একারণেই সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এদিন রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর উর্জিত প্যাটেলের সভাপতিত্বে ৬জন সদস্যের কমিটির ৫জনই সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার পক্ষে মত দেন।

রিজার্ভ ব্যাঙ্ক দুমাস অন্তর সুদের হার নিয়ে বৈঠক করে থাকে। গত আগস্টে শেষ দ্বিমাসিক বৈঠকে সুদের হার কমানোর সিদ্ধান্ত নেয় কমিটি। এরপরে মুল্যবৃদ্ধির হার ক্রমশ চড়া হতে থাকায় সুদের হার কমানোর ঝুঁকি নেয়নি রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। তবে কর্পোরেট শিবিরের সুদ কমানোর চাপ রইলেও বাজারে মূল্যবৃদ্ধি যেভাবে বাড়ছে এবারেও সুদ কমানোর ঝুকি নেওয়া সম্ভব হয়নি বলেই এদিন জানালেন রিজার্ভ ব্যাঙ্ক গভর্নর উর্জিত প্যাটেল। তিনি বলেছেন, খাদ্যপণ্য ও পেট্রোল ডিজেলের দাম বাড়তে থাকায় তা জীবন যাপনের খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে। এসময় সুদের হার কমানো উচিত হবে না বলেই কমিটি সিদ্ধান্ত নেয়। তিনি জানান, এখন কর্পোরেট মহলও এই মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। কারণ এতে তাদের শিল্পের উৎপাদনের খরচ বেড়ে চলেছে। প্যাটেল আশা করেন শীতকালীন মরশুমে নতুন সবজি উঠলে বাজারে খাদ্যপণ্যের দাম কিছু কমবে। তিনি এও জানান পণ্য পরিষেবা করের হার কিছুটা কমার ফলে কিছু পণ্যের দাম কমবে। তবে পেট্রোল ডিজেলের দাম কমা নিয়ে তিনি কোন মন্তব্য করেননি।

অন্যদিকে আর্থিক বৃদ্ধির হার যা অনুমান করা হয়েছিল দ্বিতীয় ত্রৈমাসিক রিপোর্টে তা কমে ৫.৭% দাঁড়ায়। এবারে বর্তমানে এই হার ৬.৭৫% হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। তবে তা বজায় থাকবে কিনা তা নিয়ে সংশয়ে রয়েছে কমিটি। প্যাটেল জানিয়েছেন, সম্প্রতি পেট্রোল ডিজেলের দাম যেভাবে বেড়েছে তা আর্থিক বৃদ্ধির ক্ষেত্রে তা নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। দেখা গেছে শিল্পে সংকট কাটেনি। তা আরো তীব্র হয়েছে। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সমীক্ষা বলছে, শিল্প ক্ষেত্রে উৎপাদন বাড়েনি। অনেক ক্ষেত্রে তা একই রয়ে গেছে। ইস্পাত ও সারের উৎপাদন কমেছে। কমেছে পরিবহন শিল্পে বৃদ্ধির হার। বাণিজ্যিক গাড়ি বিক্রি কমেছে। পরিষেবা শিল্পেও বৃদ্ধির হার শ্লথ। এতে শিল্পে কর্মসংস্থানের হার কম অনেক ক্ষেত্রে কর্মসংকোচন ঘটেছে। ফলে সবদিক দিয়েই বেহাল আর্থিক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে কমিটির দ্বিবার্ষিক রিপোর্টে।

একদিকে শিল্পে কৃষিতে সংকট অন্যদিকে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের বেহাল অবস্থা। এদিন রিজার্ভ ব্যাঙ্কের ডেপুটি গভর্নর এন এস বিশ্বনাথন জানিয়েছেন, ব্যাঙ্ক যে অনাদায়ী ঋণ দেখিয়েছে তা অনেক কম করে দেখানো হয়েছে। তিনি বলেন, ২০১৬ সালে অনাদায়ী ঋণ যে পদ্ধতিতে দেখানো হতো ২০১৭ সালের অক্টোবরে সেই পদ্ধতিতে বদল এনে দ্বিতীয়বার অনাদায়ী ঋণ নিয়ে তথ্য প্রকাশ করা হয়। এতে অনাদায়ী ঋণের পুরো তথ্য প্রকাশ হয়। এতে বেসরকারী ব্যাঙ্কের অনাদায়ী ঋণের পরিমাণ বেড়ে যায়। যেমন ইয়েস ব্যাঙ্কে নতুন অনাদায়ী ঋণের পরিমাণ হলো ১১হাজার কোটি টাকা, অ্যাক্সিস ব্যাঙ্কে এই অনাদায়ী ঋণের পরিমাণ ১৪হাজার কোটি টাকা। আই সি আই সি আই ব্যাঙ্কে তার পরিমাণ হবে ৫হাজার কোটি টাকা। এতে দেখা যাচ্ছে অনাদায়ী ঋণে শুধু রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক নয় বেসরকারি ব্যাঙ্কও বিপর্যস্ত।

Featured Posts

Advertisement