রাজ্যপালের কাছে যাচ্ছেন শিলিগুড়ির মেয়র

নিজস্ব সংবাদদাতা   ১৩ই জানুয়ারি , ২০১৮

শিলিগুড়ি, ১২ই জানুয়ারি — রাজ্য সরকারের আর্থিক বঞ্চনার বিরুদ্ধে, প্রাপ্য টাকা আদায়ে ও পৌরনিগমের সাংবিধানিক ‌অধিকার রক্ষার দাবিতে এবার রাজ্যপালের দ্বারস্থ হচ্ছেন শিলিগুড়ির মেয়র অশোক ভট্টাচার্য। চলতি মাসের ১৮ তারিখ পৌরনিগমের মেয়র পারিষদ সদস্যদের নিয়ে তিনি দেখা করবেন রাজ্যপাল কেশরিনাথ ত্রিপাঠির সঙ্গে। শিলিগুড়ির উন্নয়ণের স্বার্থে দার্জিলিঙ জেলার মন্ত্রীকে সম্মান জানিয়ে তাঁকে নিয়েও শুধুমাত্র শিলিগুড়ির উন্নয়নের জন্য ন্যায্য পাওনা আদায়ে মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হওয়ার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছেন মেয়র। ২০১৫ সালে শিলিগুড়ির মানুষের সমর্থনে ক্ষমতায় আসার পর থেকে বামফ্রন্ট পরিচালিত শিলিগুড়ি পৌরনিগমকে আর্থিক অসহযোগিতা করেই চলেছে রাজ্য সরকার।

বিগত তিন বছরে দার্জিলিঙ জেলার কোনও নির্বাচনেই জয়লাভ করতে পারেনি তৃণমূল কংগ্রেস। তাই খেসারত হিসেবে কোণঠাসা করে দেওয়া হয়েছে এই জেলার মন্ত্রীকে। শিলিগুড়ি-জলপাইগুড়ি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে তাঁকে। সরিয়ে দেওয়া হয়েছে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রীর পদ থেকেও। শিলিগুড়ি-জলপাইগুড়ি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়াম্যান এবং উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রীর পদে বসানো হয়েছে দার্জিলিঙ জেলার বাইরের দুজনকে। শুক্রবার শিলিগুড়ি পৌরনিগমে সাংবাদিক বৈঠক করে মেয়র অশোক ভট্টাচার্য যে প্রমাণ পেশ করেন যেখানে দেখা যায় ২০১৬-১৭ অর্থ বর্ষে শিলিগুড়ি-জলপাইগুড়ি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ দর্জিলিঙ জেলায় বা শিলিগুড়ি শহরে কোনও উন্নয়নমূলক কাজ করেনি। ২০১৭-১৮ অর্থ বর্ষে যে কটি কাজ শিলিগুড়ি-জলপাইগুড়ি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এস জি ডি এ) হাতে নিয়েছে সেখানেও ব্রাত্য শিলিগুড়ি তথা দার্জিলিঙ জেলা। তাই জেলার মন্ত্রীকে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে যেতে চান অশোক ভট্টাচার্য।

সাংবাদিক বৈঠকে মেয়র ২০১৭-১৮ সালের ৭২নং দাবির বরাদ্দ সম্পর্কে রাজ্যের নগর উন্নয়ন ও পৌর মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম প্রদত্ত বাজেট ভাষণ (মার্চ, ২০১৭), রাজ্যের বাজেট প্রকাশন (নং ২৫) বাজেট সংযোজন স্থানীয় ও নগর সংস্থাসমূহকে তহবিল স্থানান্তর এবং রাজ্য সরকার দ্বারা প্রকাশিত ৫২৯টি জি ও পেশ করে প্রমাণ করেছেন শিলিগুড়ি পৌরনিগম রাজ্য সরকারের কাছে ২০১৬-১৭এবং ২০১৭-১৮ সালের বাজেট বরাদ্দ অনুযায়ী টাকা পায়নি। অথচ রাজ্যের অন্য সমস্ত পৌরসভা পেয়েছে। মেয়র বলেন, বামফ্রন্ট সরকারের আমলে সমস্ত পৌরসভাকে সমানভাবে টাকা বণ্টন করা হতো। কিন্তু বর্তমান রাজ্য সরকার শিলিগুড়ি পৌরনিগমের ক্ষেত্রে পছন্দ অপছন্দের রাজনীতি করছে। শিলিগুড়ি পৌরনিগম রাজ্য সরকারের কাছ থেকে পরিকল্পনা বহির্ভূত খাতের অর্থ কেন্দ্রীয় সরকারের চতুর্দশ অর্থ কমিশনের অর্থ পাচ্ছে। এই অর্থ দিয়ে মাইনে, মজুরি, দৈনন্দিন কিছু কাজ করা সম্ভব হলেও উন্নয়ন সম্ভব নয়। কারণ উন্নয়নের অর্থ বণ্টন হয় পরিকল্পনাখাত থেকে। হাউজিং ফর অল প্রকল্পের জন্য পাশের জলপাইগুড়ি পৌরসভা পেয়েছে ১০৯০ কোটি টাকা শিলিগুড়ির পৌরনিগমের জন্য কেন্দ্র ১২কোটি টাকা বরাদ্দ করলেও রাজ্য সরকার সেই টাকা আটকে রেখেছে। এখানে একটি টাকাও পায়নি শিলিগুড়ি পৌরনিগম। নাগরিক কর্মসংস্থান খাতে ২০১৬-১৭ আর্থিক বর্ষে ১৯১.৭১ কোটি এবং ২০১৭-১৮ বর্ষে ২২৫ কোটি বরাদ্দ হলেও শিলিগুড়ি পেয়েছে মাত্র ২ কোটি টাকা। নির্মল বাংলা মিশনে শৌচালয় নির্মাণ খাতে ২০১৬-১৭ অর্থ বর্ষে ১.৬৬ কোটি টাকা পেলেও ২০১৭-১৮ অর্থ বর্ষে নেই শিলিগুড়ি। রাজ্য বার্ষিক কর্ম পরিকল্পনা (এস এ পি) খাতে ১৩৯৩.৬৯ কোটি টাকার ১৭টি জল সরবরাহ প্রকল্প ৪টি এস ডব্লিউ এম প্রকল্পেও বাদ শিলিগুড়ি। মেয়রের প্রশ্ন, শিলিগুড়ির অপরাধ কি ?

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement