গঙ্গা ভাঙনে তলিয়ে যাচ্ছে জমি
ভিটে, হেলদোল নেই প্রশাসনের

নিজস্ব সংবাদদাতা   ১৩ই জানুয়ারি , ২০১৮

চাকদহ, ১২ই জানুয়ারি — গঙ্গার ভাঙনে বহু মানুষ ভিটে ছাড়া ও জমি হারা হয়েছেন। চাষের কাজ না থাকায় অনেকে অন্য পেশায় নিযুক্ত হয়েছেন। আর এই সুযোগে একদল মানুষ চর থকে বালি তুলে বিক্রি করে মুনাফা লুটছে। শিবতলা ঘাটের পাশে মাটি ও বালি কেটে কালিপুর ঘাটে অথবা হুগলীর খামারগাছিতে ট্রলারে করে পৌঁছে দিচ্ছে। ঘটনা নদীয়া চাকদহ থানার চাঁদুড়িয়া ২নং গ্রাম পঞ্চায়েতের সান্যালচরে। এসব দেখেও স্থানীয় প্রশাসন না দেখার ভান করছে।

জানা গেছে, ভাঙনে বহু অঞ্চল গঙ্গার গর্ভে চলে গেছে। আগে ১৩টি অঞ্চল ছিল এখানে। এখন সংখ্যাটা দাঁড়িয়েছে চার। আর খাতা কলমে রয়েছে পাঁচটি বলে। অথচ এপারে নদীয়া ওপারে হুগলী। বহু মানুষ দৈনন্দিন কাজে যান ওপারে। স্কুল কলেজেও যায় ছাত্রছাত্রীরা। পারাপারের ঘাটটিও বিপজ্জনক। যে কোনও সময়েই দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। কিন্তু প্রশাসনের হেলদোল নেই। এলাকার মানুষও এ ব্যাপারে মুখ খুলতে ভয় পাচ্ছেন। এদিকে এলাকার ঠিকা শ্রমিকদের অবস্থা আরও শোচনীয়। চাষের জমিতে তারা কাজ না পাওয়ায় তাদের ঘরের মেয়ে বউরা লোকের বাড়ি কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন।

এ ব্যাপারে এলাকার মানুষ জানান, এত কিছু হলেও এলাকার তৃণমূলী প্রধান ইতিকা বিশ্বাসের কোনও নজর নেই। গঙ্গার পাড় দ্রুত বাঁধানো না হলে গোটা গ্রামটাই হয়ত নদীগর্ভে চলে যাবে। গ্রামবাসীদের আরও অভিযোগ, সরকার থেকে ঘর দেওয়া হলেও প্রকৃত গরিব মানুষেরা তা পাচ্ছেন না। প্রধানের চেনাজানা মানুষেরাই পাচ্ছেন ঘর। গঙ্গার ভাঙনে যাদের ঘর তলিয়ে গেছে এখনও তারা ঘর পাননি। স্নান করার ঘাট বাঁধানো তো পরের কথা। এদিকে ভাঙনের সময় তৃণমূলী নেতা মন্ত্রীরা এসে প্রতিশ্রুতির বন্যা বইয়ে দেন। অথচ আসল সময়ে তাঁদের দেখা মেলে না। এলাকাবাসীরা জানান, গঙ্গার ভাঙনকে রোধ করতে গেলে বালি কাটা বন্ধ করতে হবে। নইলে একদিন গোটা গ্রামটাই নদী গর্ভে চলে যাবে।

Featured Posts

Advertisement