বুরহানের মৃত্যুর পর
কাশ্মীরে সংঘর্ষে হত ৫১

সংবাদসংস্থা   ১৩ই জানুয়ারি , ২০১৮

জম্মু, ১২ই জানুয়ারি — বুরহান ওয়ানির মৃত্যুর পর রাজ্যে বিভিন্ন সংঘর্ষের ঘটনায় ৫১জনের মৃত্যু হয়েছিল। শুক্রবার এই তথ্য জানিয়েছে জম্মু কাশ্মীর সরকার। এদিন বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি এক প্রশ্নের উত্তরে এই তথ্য দাবি করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ওই সংঘর্ষে ৯হাজারেরও বেশি মানুষ জখম হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে ৬হাজারের বেশি মানুষ জখম হয়েছেন পেলেট বুলেটের আঘাতে। অবশ্য রাজ্য সরকার গোড়া থেকেই যে মৃতের সংখ্যা আড়াল করছে, সেবিষয়ে স্পষ্ট অভিযোগ রয়েছে। জম্মু কাশ্মীরে হিজবুল মুজাহিদ্দিনের পোস্টার বয় ওয়ানির মৃত্যুকে ঘিরে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। সেই সংঘর্ষ দমনের নামে বিক্ষুব্ধ মানুষের উপর তীব্র আক্রমণ নামিয়ে আনে সরকার। বিক্ষোভ থামানোর নামে নির্বিচারে গুলি চালায় সেনা। নিষ্ক্রিয় হয়ে বসেছিল রাজ্য সরকার। বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী, সেনার গুলিতে কমপক্ষে হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু এদিন বিধানসভায় ন্যাশনাল কনফারেন্সের বিধায়কের প্রশ্নের উত্তরে লিখিতভাবে মেহবুবা মুফতি জানিয়েছেন, ২০১৬সালের ৮ই জুলাই থেকে ২০১৭সালের ২৭শে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কাশ্মীর এলাকায় ৫১জন প্রাণ হারিয়েছেন। মুফতি আরও জানিয়েছেন, ৯০৪২জন আহত হয়েছেন বুলেট, পেলেটের আঘাতে। এরমধ্যে পেলেট বুলেটে আহত মানুষের সংখ্যা ৬২২১জন। বহু মানুষ দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন পেলেটের আঘাতে। তীব্র সমালোচনার মুখে পেলেটের ব্যবহার নিয়ে সরকার কিছুটা পিছু হটে।

বিধানসভায় এদিন পর্যটন সংক্রান্ত অপর একটি প্রশ্নের উত্তরে মুফতি সরকার জানিয়েছে, গত তিন বছরে রাজ্যে আড়াই কোটির বেশি পর্যটক এসেছেন। কংগ্রেস বিধায়ক নরেশ শর্মার প্রশ্নের উত্তরে পর্যটন মন্ত্রী তাসাদুক হুসেইন মুফতি জানিয়েছেন, জম্মু, কাশ্মীর এবং লাদাখ অঞ্চল মিলিয়ে রাজ্যে গত তিন বছরে ২কোটি ৬৪লক্ষ ১২হাজার ৪৬৭জন পর্যটক এসেছেন। ২০১৫সাল থেকে ২০১৭সালের নভেম্বর পর্যন্ত এই হিসাব দিয়েছেন পর্যটন মন্ত্রী।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement