আমানত লোটার
বিলের তীব্র বিরোধী
এস বি আই অফিসাররা

নিজস্ব প্রতিনিধি   ১৩ই জানুয়ারি , ২০১৮

কলকাতা, ১২ই জানুয়ারি — শুক্রবার কলকাতার নজরুল মঞ্চে ‘স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন (এস বি আই ও এ)-বেঙ্গল সার্কেল’ এর ৫২তম বার্ষিক সাধারণসভায় উপস্থিত চার হাজারেরও বেশি আধিকারিক মিলিত হয়ে দাবি তুললেন কেন্দ্রীয় সরকারের প্রস্তাবিত রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক-বিমার সংস্কারকল্পে এফ আর ডি আই বিল ২০১৭ তাঁরা মানবেন না। সরকার জবরদস্তি এই বিল বাস্তবায়িত করতে চাইলে তার বিরুদ্ধে সংসদে যেমন বিরোধীপক্ষ লড়াই চালাচ্ছে তেমনই বাইরে তাঁরাও তাঁদের সর্বভারতীয় সংগঠন ‘এ আই এস বি ও এফ’–র পক্ষে প্রতিবাদে শামিল হতে থাকবে।

এদিন স্টেট ব্যাঙ্কের কলকাতা সার্কেলের চিফ জেনারেল ম্যানেজার পার্থপ্রতিম সেনগুপ্ত ব্যাঙ্কের বাণিজ্যিক সাফল্য এবং সাধারণের মধ্যে পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে আধিকারিক ও কর্মচারীদের ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, এমন কোনও পরিকল্পনা বা আইনই যুক্তিসঙ্গত হতে পারে না যা বৃহত্তর অংশের স্বার্থে আঘাত করে। ভারতের মতো বড় দেশে দমন-পীড়ন চালিয়ে কোনও কিছু বলবৎ করার অর্থ আত্মহনন, যা বাস্তবে অদূর বা দূর ভবিষ্যতের ক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থেরই পরিপন্থী হতে বাধ্য।

সাধারণ সভায় বক্তব্য রাখেন ‘এ আই এস বি ও এফ’–র সাধারণ সম্পাদক ওয়াই সুন্দরন। তিনি বলেন, জাতীয় আর্থিক ক্ষেত্রে স্টেট ব্যাঙ্ক তার গৌরবোজ্জ্বল যে ভূমিকা পালন করে এসেছে এপর্যন্ত তার কৃতিত্ব অবশ্যই ব্যাঙ্কের প্রতিশ্রুতিবান আধিকারিক ও কর্মচারীদের। সরকারি পরিষেবা দিতেও তাঁরা যে নজির তৈরি করে চলেছেন তা প্রশংসনীয়। অথচ কেন্দ্রীয় সরকার প্রশংসা বা তারিফের বদলে একটার পর একটা শাস্তিযোগ্য আঘাত হানছে। কেন? এবং কোন অপরাধে তা তাদের এবার বলতে হবে জনসমক্ষে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলি হলো জনগণের ভালোবাসার ব্যাঙ্ক। তারা বিশ্বাসযোগ্য ভূমিকা পালন করে চলেছে। আর তাদেরই মেরে ফেলা বা ছোট করে ফেলার নানান চক্রান্ত চলছে। এই হীন পরিকল্পনা কখনই বাস্তবায়িত হতে পারে না। দেশের মানুষই তা রুখে দেবেন। সেই মানুষের কাছে আমাদের সংগঠনের যেটুকু শক্তি আছে তাই নিয়েই যেতে হবে। সামাজিক ক্ষেত্রে যে প্রতিবাদ আন্দোলন হচ্ছে তাতে আমাদেরও শামিল হতে হবে। এটাই এই সময়ের ডাক। আমরা তা কোনোভাবেই অমান্য করতে পারি না।

এস বি আই ও এ–র বেঙ্গল সার্কেলের সাধারণ সম্পাদক সৌম্য দত্ত বলেন, তাঁরা সংগঠনগতভাবে ব্যাঙ্কের কাজের পরিধির উন্নয়ন ও তার ব্যাপ্তি চান। সেজন্য কলকাতা ছাড়া জেলায় জেলায় নিজেরা উদ্যোগী হয়ে কর্মশালা করেন। জনগণ তথা পরিষেবা গ্রহীতাদের মতামত জানেন। আধিকারিকদের এই সংগঠন বছরভর নানান সামাজিক কাজও করে আসছে। লক্ষ্য সমাজের পিছিয়ে পড়া অংশে কিছু কাজ করা। এজন্য তাঁরা নিজেদের পরিধির বাইরের সমাজসেবী নানা সংগঠনকেও উৎসাহ দিয়ে আসছেন। মেধাবী দুঃস্থ ছাত্রছাত্রীদের সহায়তা করা, প্রতিবন্ধীদের পাশে থাকা, স্বনির্ভরশীলতার কর্মশালায় অংশ নেওয়া এইসব কাজ তারই মধ্যে রয়েছে।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement