লেখাপড়ার খরচ জোগাতে
জরির কাজে দুই ছাত্র

নিজস্ব সংবাদদাতা

পুরুলিয়া, ১২ই জানুয়ারি — মহাজনের দেনা শোধ করা আর নিজের লেখাপড়ার খরচ তোলার জন্য বাড়তি শ্রম দিতে হচ্ছে দুই পড়ুয়ার। পুরুলিয়ার আড়শা ব্লকের বেলডি গ্রাম পঞ্চায়েতের বামুনডিহা গ্রাম। এই গ্রামের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী ফুলচাঁদ যোগী ও একাদশ শ্রেণির পড়ুয়া পরিমল যোগী। তাদের বাপ-ঠাকুরদার পেশা জুরির কাজ। ছৌ নাচে ব্যবহৃত মালা বা বায়না এবং মকর পরবের সময় চৌডল বা চোড়ল বা চতুর্দোলা তৈরি করা শারদোৎসবের পর এই মকর পরবের সময় বামুনডিহা গ্রামের ২০/২৫টি যোগী পরিবারের ব্যস্ততা একটু বেশি থাকে। তাদের তৈরি চৌডল জেলার বিভিন্ন হাট ছাড়াও পার্শ্ববর্তী ঝাড়খণ্ডে চলে যায়।

সারা বছর কাজ থাকে না। পুঁজি বলতেও বিশেষ কিছু নেই। উৎসব বা পরবের আগে তাই মহাজনের কাছ থেকে টাকা ধার নিয়ে ব্যবসার কাজে লাগায়। এক একটি চৌডল বিক্রি হয় তিনশো টাকা থেকে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত। গ্রামীণ পুরুলিয়ার মহিলারা এই চৌডল অর্থাৎ বাঁশের সরু টুকরো দিয়ে ঘরের মতো আকারে রঙিন কাগজ ও অন্যান্য সামগ্রী দিয়ে সাজানো— এতে টুসুকে বসিয়ে মাথায় করে নিয়ে গান গাইতে গাইতে স্থানীয় জলাশয়ে ভাসিয়ে দেয়। যে টুসু গানে মিশে থাকে প্রতিদিনের লোকায়ত জীবনের কথা। যা রচিত হয় তাৎক্ষণিক মুখে মুখে।

পরিবারের দেনা ঘোচাতে ফুলচাঁদ, পরিমলরা দিনরাত এক করে চৌডল তৈরি করছে। পরিবারের মহিলারাও একাজে সময় বিশেষে হাত লাগায়। এই রোজগার বইখাতার পিছনে খরচ করে। কিন্তু দিলীপ যোগী, অম্বুজ যোগী, ভুদেব যোগী, ফুলচাঁদ যোগীর মতো মানুষ এখনও যুক্ত রয়েছেন এই পেশায়। পরিশ্রমের তুলনায় রোজগার হয়তো কম—কিন্তু বংশানুক্রমিক ব্যবসাতো তাই দাঁতে দাঁত চেপে টিকে থাকা।

Featured Posts

Advertisement