পারাপারে ৬ঘণ্টা অপেক্ষা করতে
হচ্ছে সাগর মেলার যাত্রীদের, ক্ষোভ

অনিল কুণ্ডু

গঙ্গাসাগর : ১২ই জানুয়ারি — গঙ্গাসাগর মেলাপ্রাঙ্গণে যাত্রীরা ভিড় করতে শুরু করেছে। মেলা প্রাঙ্গণ জুড়েই এখনও যাত্রী পরিষেবায় অস্থায়ী পরিকাঠামো গড়ে তোলার কাজ চলছে। প্রায় সর্বত্রই খুটখাট শব্দ। সরকারিভাবে বুধবার থেকেই গঙ্গাসাগর মেলা শুরু হয়েছে। চলছে যাত্রীদের আনাগোনা। রঙবেরঙের আলোয় ঝলমল করছে ৬০ একর এলাকা জুড়ে গোটা মেলা প্রাঙ্গণ। যাত্রী পরিষেবায় দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসনের তরফে সবরকম প্রস্তুতিই নেওয়া হয়েছে। গঙ্গাসাগর মেলায় এবার রেকর্ড সংখ্যক ভিড় হবে এমনই আশাবাদীর কথা শুনিয়েছে জেলা প্রশাসন।

সাগর সৈকতে ঠান্ডার দাপট তেমন নেই। কলকাতার বাবুঘাট থেকে গঙ্গাসাগর মেলামুখী এখন যাত্রীরা। সাগরে আসার পথে শুক্রবার দুপুরে ভিড় চোখে পড়েছে মুড়িগঙ্গা নদীর ওপারে কাকদ্বীপের লট ৮বাসস্ট্যান্ডে। যাত্রীদের অধিকাংশই ভিন রাজ্যের। মেলাকে কেন্দ্র করে মুড়িগঙ্গা নদীতে ড্রেজিংয়ের কাজ হলেও ভাটায় বন্ধ থাকছে ভেসেল চলাচল। প্রায় পাঁচ থেকে ছয় ঘন্টা যাত্রীদের নদী পারাপারের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এদিন কলকাতা থেকে আসা সাংবাদিকদেরও প্রায় একঘন্টা জেটিঘাটে ভেসেল চলাচলের অপেক্ষায় থাকতে হয়েছে। জোয়ার শুরু হলে ভেসেল চলাচল শুরু হয়। ভাটায় ভেসেল চলাচল বন্ধ থাকলে যাত্রীদের ভিড়ের চাপ নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন জায়গায় ব্যারিকেড করা হয়েছে। দুর্ঘটনা এড়াতে বাফার জোনের সংখ্যা এবার বাড়ানো হয়েছে।

শুক্রবার সন্ধ্যায় মেলা অফিসে সাংবাদিক সম্মেলনে দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসক ওয়াই রত্নাকর রাও জানান, এখনও পর্যন্ত প্রায় তিন লক্ষ মানুষের সমাগম হয়েছে। পূর্ণকুম্ভ না থাকায় এবারের গঙ্গাসাগর মেলায় ২০ লক্ষ যাত্রীর সমাগম ঘটবে। তার জন্য সমস্ত রকম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এখনও পর্যন্ত দুর্ঘটনার কোনও খবর নেই। জেলাশাসক এক প্রশ্নের উত্তরে বলেছেন, দুর্ঘটনা বিহীন শান্তিপূর্ণ মেলা করতে বদ্ধপরিকর জেলা প্রশাসন। যাত্রীদের নিরাপত্তায় মেলা প্রাঙ্গণে ঢেলে সাজানো হয়েছে পুলিশি ব্যবস্থা। সি সি টিভির মাধ্যমে নজরদারি করা হচ্ছে। মুড়িগঙ্গা নদীতে ভাটায় যাত্রীদের দুর্ভোগের প্রশ্নে জেলাশাসক বলেছেন, যতক্ষণ ভেসেল চলাচলের সুযোগ থাকবে ততক্ষণ লাগাতার ভেসেল চালানো হবে। কলকাতার বাবুঘাট থেকে গঙ্গাসাগর মেলাপ্রাঙ্গণ এবার পাঁচশো সি সি টি ভি লাগানো হয়েছে। মেলা প্রাঙ্গণের কন্ট্রোল রুম থেকেই সামগ্রিকভাবে নজরদারি করা হচ্ছে। মেলা প্রাঙ্গণ থেকে সাগর সৈকত সর্বত্রই পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতায় এবারও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। যাত্রীদের পরিষেবায় এবার দশ হাজার শৌচাগার তৈরি করা হয়েছে।

মেলায় আগত যাত্রীদের বাফার জোনে দীর্ঘসময় আটকে রাখার ক্ষোভ প্রশমিত করতে জলপথ পরিবহণ নিগমের নদী পারাপারের টিকিট বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়েছে যাত্রীদের কাছে গিয়ে। যদিও স্থানীয় কিছু মানুষের বিরুদ্ধে টিকিট কালোবাজারি করার অভিযোগ উঠছে। এমনকি অভিযোগ উঠছে জাল টিকিট বিক্রির। সাগরের স্থানীয় মানুষেরাও এনিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

এদিকে কলকাতা থেকে শুরু করে ডায়মন্ডহারবার রোড ধরে কচুবেড়িয়া পর্যন্ত ডায়মন্ডহারবারের তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাটআউটে ছেয়ে ফেলা হয়েছে। গঙ্গাসাগর মেলা তাঁরই অনুপ্রেরণায় চলছে বোঝাতে মুখ্যমন্ত্রীর বিশাল বিশাল কাট আউট ছেয়ে ফেলা হয়েছে। মেলা প্রাঙ্গণে ঘোষণা থেকে ব্যবস্থাপনার বহর দেখে মনে হচ্ছে এটা কোন ধর্মীয় সমাবেশ নয়, শাসক দলের সাংগঠনিক সমাবেশ। এনিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভিন রাজ্য থেকে আসা যাত্রীরাও। উত্তরপ্রদেশ থেকে আসা ধর্মীয় সংগঠন লাল বাবা সঙ্ঘ এনিয়ে প্রকাশ্যে জেলা শাসকের কাছে নালিশ জানিয়েছে।

Featured Posts

Advertisement