ঘন কুয়াশা আর শীতের দাপটে
চোরাচালান বেড়েছে কোচবিহারে

নিজস্ব সংবাদদাতা

মাথাভাঙা, ১৩ই জানুয়ারি — চারদিকে ঘন কুয়াশা। সন্ধে নাম‍‌লেই দুফুট দূরের জিনিসও ভালো করে দেখা যায় না। জানুয়ারির এসময়ে কোচবিহারের গ্রামে ঘর থেকে বের হওয়াই দায়। এর সঙ্গে বাড়তি পাওনা হাড় কাঁপানো বাতাস। এই আবহাওয়াকে কাজে লাগিয়েই কোচবিহার জেলার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের চোরাচালানকারীরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে বেশ।

কোচবিহার জেলার বাংলাদেশ সীমান্তের ১৫০কিমি এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া নেই। জেলার মোট ১২টি ব্লকের মধ্যে মেখলিগঞ্জ, সিতাই, দিনহাটা-১, দিনহাটা-২, শিতলকুচি, মাথাভাঙা-১ এবং তুফানগঞ্জ-১ ব্লকে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত রয়েছে। জেলার প্রায় ৫০০ কিমি সীমান্ত এলাকার মধ্যে বি এস এফের কোচবিহার সেক্টরের অধীনে ১৮০কিমি এবং ফালাকাটা সেক্টরের অধীনে ৫০০কিমি সীমান্ত। বাকি অংশ রয়েছে জলপাইগুড়ি সেক্টরের অধীনে।

জানা গেছে, বি এস এফের ৩ সেক্টরই কাঁটাতারের বেড়াহীন অরক্ষিত এলাকা দিয়ে ঘন কুয়াশার আড়ালে চোরাচালানের বাড়বাড়ন্ত নিয়ে দুশ্চিন্তায়। সাধারণত অরক্ষিত এলাকায় বি এস এফ পায়ে হেঁটে টহল দেয়। এসব এলাকায় নেই কোনও আলোর ব্যবস্থা।ঘন কুয়াশার আড়ালে চোরাচালানকে জোরদার করতে সীমান্তের দুধারেই প্রস্তুত কাড়কাঠিরা। এরাই দুই পাশে মূল চোরাচালানকারীদের খবর সরবরাহ করে মোবাইলের মাধ্যমে। সন্ধে নামতেই অরক্ষিত সীমান্তের দুপাশে চোরাচালানকারীরা প্রস্তুত। পাচারের জন্য নির্দিষ্ট রুট আগে থেকে ঠিক করে দুপারের আড়কাঠিরা। বি এস এফ নির্দিষ্ট এলাকা দিয়ে হেঁটে যাবার সঙ্গে সঙ্গে আড়কাঠিদের মোবাইল সচল হয়ে ওঠে। বি এস এফদের ফিরে আসতে যে সময় লাগে তার মধ্যেই এপার থেকে ওপারে চলে যাচ্ছে গোরু, ছাগল, চোরাই মোটরবাইক, সাইকেল। আর চলে দুই দেশের মধ্যে অবৈধ যাতায়াত।

সম্প্রতি শিতলকুচি থানার সীমান্তবর্তী পাগলিমারি সীমান্তে বি এস এফের গুলিতে এক বাংলাদেশি পাচারকারীর মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ এবং বি এস এফের দাবি রাতের ঘন কুয়াশা ও ঠান্ডাকে কাজে লাগিয়ে সীমান্তে গোরু পাচারকারীরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে।

চোরাচালান শুধু অরক্ষিত এলাকা নিয়ে এর কাঁটাতারের বেড়া কেটেও চল‍‌ছে গোরু পাচার। অনেক সময় জওয়ানদের বিভ্রান্ত করতে কৌশল অবলম্বন করে চোরাচালানকারীরা। একাজে ব্যবহার করে গ্রামের শিশু কিশোরদেরও।

সীমান্ত এলাকার থানার পুলিশদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা। অরক্ষিত সীমান্ত দিয়ে যেসব গোরু পাচার হচ্ছে সেগুলি মূলত হরিয়ানা ও উত্তর প্রদেশ থেকে আসছে। সীমান্তের থানাগুলির আধিকারিকরা বলেছেন, সীমান্তের বিষয়ে আমাদের বলার কিছু নেই। জিরো পয়েন্ট থেকে ৮কি মি পর্যন্ত এলাকা বি এস এফ দেখাশুনা করে। অবৈধভাবে গোরু পাচারের খবর পে‍‌লেই পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়। দিনহাটা থেকে হলদিবাড়ি পর্যন্ত সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান যে শীতের দাপটে বাড়ছে সেটা অবশ্য স্বীকার করছেন সকলেই। বি এস এফ কর্তৃপক্ষ চাইছে সীমান্তের অরক্ষিত এলাকায় দ্রুত কাঁটাতারের বেড়া তৈরির কাজ শেষ হোক।

বি এস এফ সূত্রে জানা গেছে, রাজ্য সরকারের জমিনীতির জন্য কাঁটাতারের বেড়া দেবার কাজ থমকে গিয়েছিল। কোচবিহার জেলার সীমান্তে বেড়া দেবার জন্য রাজ্য সরকার জমি দিতে অস্বীকার করেছিল।

সম্প্রতি রাজ্য সরকার রাজি হয়েছে জমি দিতে। জেলা প্রশাসনের সঙ্গে বি এস এফের বৈঠক হয়েছে। রাজ্য সরকার রাজি হয়েছে জমির ব্যবস্থা করতে। খুব শীঘ্রই জেলা প্রশাসন এবং বি এস এফ যৌথভাবে সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন করবে বলে জানিয়েছেন জেলাশাসক।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সীমান্তের ৬টি ব্লকে প্রয়োজনীয় ২৩৫.৭৩৩ একর জমি সমীক্ষা করে তার বাজারদর স্থির করে সেটা জেলা প্রশাসন বি এস এফকে জানিয়ে দেওয়া হবে। জেলা প্রশাসনের থেকে ‍জমি কিনে নেবে বলে জানা গেছে।

Featured Posts

Advertisement