দূষণের জের, পরিযায়ী পাখি কমছে সাহেববাঁধে

নিজস্ব সংবাদদাতা   ১৪ই জানুয়ারি , ২০১৮

পুরুলিয়া, ১৩ই জানুয়ারি— প্রস্তাবিত জাতীয় সরোবর পুরুলিয়ার ‘সাহেববাঁধ’ এখন ডাস্টবিন। এক কথায় সাহেববাঁধ এখন দূষণের আঁতুরঘর। আর সেই দূষণের জেরেই সাহেববাঁধে এ বছর পরিযায়ী পাখিরা অনেক কম সংখ্যায় এসেছে। একসময় শীত পড়তে না পড়তেই ঝাঁকে ঝাঁকে পাখিরা এসে ডেরা বাঁধতো সাহেব বাঁধে। শীত শেষে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নিয়ে ফের অজানার পথে পাড়ি দিত। কিন্তু ফি বছর পরিযায়ী পাখির সংখ্যা কমায় চিন্তিত বিজ্ঞান মঞ্চসহ পরিবেশপন্থীরা।

পিনটেন, ইন্ডিয়ান স্যাগ, গ্রে হিরণ, পারপেল হিরণ, গ্রিনসান, ইন্ডিয়ান মহুরান, গ্যাডোয়াল প্রভৃতি নানা প্রজাতির ভিনদেশি পাখিরা শীতের শুরুতেই চলে আসতো পুরুলিয়ার সাহেববাঁধে। যা প্রস্তাবিত জাতীয় সরোবর। কয়েক বছর আগেও শীতে সাহেববাঁধে চার/পাঁচ হাজার পাখি আসতো। ফি বছর শীতের সময় সাহেব বাঁধের এলাকাজুড়ে পাখি সুমারি করা হতো। সংগঠনের জেলা সম্পাদক ডাঃ নয়ন মুখার্জি জানিয়েছেন, সাহেববাঁধের জলে মাত্রাতিরিক্ত দূষণ এবং খাদ্যের অভাবের কারণেই পরিযায়ী পাখির সংখ্যা ক্রমশ কমছে। এখন মেরে কেটে পাঁচ-সাতশো পরিযায়ী পাখি এখানে আসে। সাইবেরিয়া, শ্রীলঙ্কা, রাশিয়া, অস্ট্রেলিয়া থেকে পাখির জল মুখ ফিরিয়েছে সাহেববাঁধ থেকে। কেন্দ্রীয় সরকারের পরিবেশমন্ত্রক সৌন্দর্যায়নের কাজ করছে এই প্রস্তাবিত জাতীয় সরোবরে। কিন্তু পুরুলিয়া পৌরসভা সাহেববাঁধের দূষণ নিয়ন্ত্রণে কোনও স্থায়ী ব্যবস্থা নেয়নি আজও। জলাশয়কে প্রায় দেড় দিক দিয়ে ঘিরে থাকা গ্যারেজগুলি থেকে পেট্রোলিয়ামজাত দ্রব্য সাহেববাঁধের জলে মিশছে। ধীরে ধীরে জলে কমছে অক্সিজেনের পরিমাণ। সূর্যের আলো জলের তলদেশ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারছে না। ফলে পরিযায়ী পাখিরা পর্যন্ত খাবার পাচ্ছে না। ধীরে ধীরে পরিযায়ী পাখির সংখ্যা কমছে। আর সেই দূষণের জেরেই সাহেববাঁধ থেকে বিমুখ পরিযায়ী পখির দল।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement