প্রতিরোধ ব্যবস্থা ছাড়াই চা বাগানে
কীটনাশক স্প্রে করেন শ্রমিকরা

নিজস্ব সংবাদদাতা   ১৫ই জানুয়ারি , ২০১৮

মালবাজার, ১৩ই জানুয়ারি — এখন ডুয়ার্সের চা বাগানে চা গাছের কলম করা, আগাছা পরিষ্কার করা, সার দেওয়া, সেচ দেওয়ার কাজ চলে। পাশাপাশি চলে কীটনাশক স্প্রে করার কাজ। এইসব কাজ শ্রমিকদেরই করতে হয়। প্রাণঘাতী এই সব কীটনাশক শ্রমিকরা স্প্রে করেন কোনও রকম প্রতিরোধ ব্যবস্থা ছাড়াই। এমনকি স্প্রে করার পর ঠিকমতো হাত পা পরিষ্কার করেন না তাঁরা। ধোয়ার মতো সাবান সোডা চা বাগান কর্তৃপক্ষ দেয় বলে স্প্রেকারীদের মুখে শোনা যায়নি। রানিচেরার এতোয়া লোহার, সাইলির সোমরা বাঘোয়ার, এলেনবাড়ির সুরজ ওঁরাও-এর মতো স্প্রেকারীরা জানান, সাবান, মাস্ক এসব কিছুই পাওয়া যায় না । কোনরকম প্রতিষেধক ব্যবস্থা ছাড়া কীটনাশক স্প্রে করার ফলে যা হবার তাই হচ্ছে। স্প্রেকারী শ্রমিকদের অকাল বার্ধক্য, টিবির মতো কঠিন অসুখে আক্রান্ত হতে হছে। সম্প্রতি এক স্বেছাসেবী সংস্থা ডুয়ার্সে ২৫ টি চাবাগানে এই বিষয়ে পরিসংখ্যান নিয়েছিল। তারা ৪০ জন এমন শ্রমিকের সন্ধান পেয়েছে যারা কেউই ৫০ বছরের বেশি আয়ু পায়নি। চা বাগানের এই হতভাগ্য স্প্রে শ্রমিকদের নিয়ে বহু গল্প লেখা হয়েছে। নাটক ও হয়েছে। তবু অবস্থার পরিবর্তন হয়নি। শ্রমদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, স্প্রেকর্মীদের মাস্ক, সাবান ইত্যাদি দেওয়ার উচিত। কর্মীরা চাইলে চা বাগান কর্তৃপক্ষ দেবে।

এ প্রসঙ্গে ডুয়ার্সের সোনগাছি চা বাগানের ম্যানেজার রাধেশ্যাম খান্ডেলওয়াল বলেন, মাস্ক, সাবান, গ্লাভস ইত্যাদি দিতে চাইলেও শ্রমিকরা ব্যবহার করতে চায় না। মাঝেমধ্যে দুই একজন চায়, আমরা দিয়ে থাকি। শুধু শ্রমিকদের ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়, অনিয়ন্ত্রিতভাবে কীটনাশক ব্যবহার ও তার যন্ত্রাংশ ঝোরার জলে সাফাই করার ফলে পরিবেশের মারাত্মকরকম  ক্ষতি হয়ে চলছে। চা বাগানের ঝোরার জলে কীটনাশক মেশার ফলে  হারিয়ে যাচ্ছে নদীর নিজস্বতা।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement