গঙ্গাসাগরে খোলা আকাশের
নিচেই হাজার হাজার মানুষ

অনিল কুণ্ডু   ১৪ই জানুয়ারি , ২০১৮

গঙ্গাসাগর, ১৩ই জানুয়ারি— শনিবার সকাল থেকেই গঙ্গাসাগর মেলা প্রাঙ্গণে যাত্রীরা ভিড় করছেন। রবিবার মকর সংক্রান্তির স্নান। বেলা যতো বেড়েছে ততোই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মানুষের ভিড়। মেলা প্রাঙ্গণে যাত্রী আবাসে জায়গা না পেয়ে হাজার হাজার মানুষ খোলা আকাশের নিচেই আশ্রয় নিয়েছেন। যাত্রীদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখছে জেলা প্রশাসন। মেলা প্রাঙ্গণের আকাশে চক্কর দিচ্ছে ড্রোন। এবারের গঙ্গাসাগর মেলায় শীতের তেমন দাপট নেই। তবে সন্ধ্যার পর উত্তরের হিমেলা হাওয়া মেলা প্রাঙ্গণ, সৈকতের ধারে। সরকারি নিষেধাজ্ঞাকে উপেক্ষা করেই বহু যাত্রী খোলা আকাশের নিচেই দিব্যি রান্না করছেন। চলছে খাওয়া দাওয়াও।

সাগরের গোটা মেলা প্রাঙ্গণ এ যেন এক মিনি ভারতবর্ষ। উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, মধ্যপ্রদেশ, ঝাড়খণ্ড, ছত্তিশগড়, বিহারসহ এদেশের প্রতিটি রাজ্য থেকেই মানুষ এসেছেন সাগরের এই মেলা প্রাঙ্গণে। মকর সংক্রান্তিতে লক্ষ লক্ষ মানুষের স্নান পর্বকে কেন্দ্র করে গঙ্গাসাগর মেলা মানুষের মিলন মেলায় পরিণত হয়েছে। প্রতি বছরই এই মেলার অপেক্ষায় থাকেন সাগরদ্বীপের স্থানীয় বাসিন্দারা। এই মেলা বহু মানুষের রুটি রুজি জীবিকা নির্বাহ করছে। সরকারি ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি লক্ষ লক্ষ মানুষের পরিষেবায় মেলা প্রাঙ্গণে নিয়োজিত বহু স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাও। দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে প্রাথমিক চিকিৎসা পরিষেবা দিতে এবারও সহায়তা কেন্দ্র করা হয়েছে। শনিবার প্রেস ক্লাবের ১৫তম বর্ষের এই সহায়তা কেন্দ্রর উদ্বোধন করেন রাজ্যের অতিরিক্ত মুখ্য সচিব সৌরভ দাস। প্রধান অতিথি ছিলেন মেলার দায়িত্ব প্রাপ্ত বিশেষ সচিব ড. পি বি সালিম। হোমিওপ্যাথিক ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড রিলিফ সোসাইটি ট্রাস্টের কর্ণধার ড. জয়ন্ত ব্যানার্জির নেতৃত্বে চিকিৎসকদের একটি দল এবারও মেলা প্রাঙ্গণে যাত্রীদের চিকিৎসা পরিষেবা দিচ্ছেন। ৪৪ বছর ধরে তাঁরা এই পরিষেবা দিচ্ছেন। এদিন মেলা অফিসে সাংবাদিক সম্মেলনে রাজ্যের জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি দপ্তরের মন্ত্রী সুব্রত মুখার্জি জানান, দুর্ঘটনা এড়াতে পর্যাপ্ত পুলিশি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সুসজ্জিত, পরিচ্ছন্ন মেলা করতে চায় জেলা প্রশাসন।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement