সাগরে রেড ক্রশের জায়গাও বজরঙের দখলে

অপরাজিত বন্দ্যোপাধ্যায়   ১৪ই জানুয়ারি , ২০১৮

গঙ্গাসাগর, ১৩ই জানুয়ারি — সাগরে ইন্ডিয়ান রেড ক্রশ সোসাইটির জায়গার দখল নিল বড়বাজারের বজরঙ পরিষদ। আধুনিক প্রযুক্তিকে বাদ রেখে শুধু ঘোষণা করেই মেলায় হারানো যাত্রীদের পরিজনদের সঙ্গে মেলানোর কাজ করছে বজরঙ পরিষদ। মেলার তথ্যকেন্দ্র থেকে চলছে বজরঙ পরিষদের পাঠানো তথ্যে ঘোষণা। অথচ তারই পাশে আধুনিক প্রযুক্তি দিয়ে ইন্ডিয়ান রেড ক্রশ সোসাইটি একই কাজ করছিল।

রেড ক্রশ মেলার মধ্যেই শুধু নয়, সাগরে আসার দুই পথ কচুবেড়িয়া এবং চামাগুড়ি পর্যন্ত খোঁজখবর করছে নিজের প্রযুক্তি ব্যবস্থায়। কিন্তু এবারে ইন্ডিয়ান রেড ক্রশের স্টলের জায়গা কমে গেছে। তাদের জায়গা জোর করে দখল নিয়েছে বজরঙ দল বলে অভিযোগ। এমনকি সাগরের দুই নম্বর রাস্তা দিয়ে তাদের শিবিরে যাওয়ার সরাসরি রাস্তাও বাঁশ দিয়ে আটকে দিয়েছে বজরঙ পরিষদ। উদ্দেশ্য সবাই যেন তাদের শিবিরে আসে। ইন্ডিয়ান রেড ক্রশ সোসাইটির হারানো খোঁজা শিবিরে দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য বিশ্বনাথ গোস্বামী জানিয়েছেন, মঙ্গলবার তাঁরা আগে এসে তাদের দশ বছর ধরে চলতে থাকা অস্থায়ী শিবিরটি তৈরি করেছিলেন। কিন্তু পরদিন বজরঙ পরিষদ মেলায় পা রেখেই তাদের জায়গা দখল করে নেয়। বিশাল পরিসর নিয়ে তৈরি হয়েছে তাদের শিবির। সেখানে রয়েছেন কলকাতা ও বিভিন্ন রাজ্য থেকে আসা লোকজন।

সকাল, দুপুর, বিকাল, রাতে বনভোজনের ঢঙে চলছে খাওয়াদাওয়া। কখন সখনও বহিরাগতদের দেওয়া হচ্ছে খিচুড়ি। ব্যস, এইটুকু। জায়গা নিয়ে বচসা চরমে ওঠায় ইন্ডিয়ান রেড ক্রশ সোসাইটি নিজেদের শিবিরকে ছোট করতে বাধ্য হয়। পদাধিকার বলে দক্ষিণ ২৪পরগনার জেলাশাসক ওয়াই কে রত্নাকর রাও রেড ক্রশের চেয়ারম্যান। মেলার সর্বময় কর্তা জেলাশাসক। তবুও কোন অজ্ঞাত কারণে বজরঙ পরিষদের এই বেআইনি কাজকে সমর্থন করেছেন রত্নাকর রাও। তাঁকে নাকি অভিযোগ জানিয়েও লাভ হয়নি। অন্যদিকে, বজরঙ পরিষদের ত্রাণসচিব প্রেমনাথ দুবে এবিষয়ে মন্তব্য করে চাননি।

এদিকে, সাংবাদিকদের খবর পাঠাতে গিয়ে ইন্টারনেটে চূড়ান্ত সমস্যা এদিনও গঙ্গাসাগরে। ব্রডব্যান্ডের সুবিধাও মিলছে না। এবার গঙ্গাসাগরের যাত্রীদের সুবিধার জন্য তৈরি বিশেষ মোবাইল অ্যাপ, ‘টিম সাউথ’ চালু করাই হলো না। অথচ সামান্য পরিমার্জন করে মোবাইল অ্যাপটি চালু করা যেতো। প্রশাসনের বিভিন্ন পদাধিকারী থেকে মেলার আয়োজনে থাকা ব্যক্তিদের মোবাইল নম্বর থাকতো ওই অ্যাপে। ওই অ্যাপ দিয়ে হারিয়ে যাওয়ার খোঁজার কাজটি করাও সহজ হতো বিভিন্ন সংস্থার। কাজ চালাতে গিয়ে তাই সমস্যায় পড়ছে অনেক সংস্থা।

কিশোর বাহিনীর তরফে ১০ই জানুয়ারি থেকে মন্দির সংলগ্ন এলাকায় ও যাত্রী শিবিরে হারিয়ে যাওয়া মানুষদের খোঁজখবর চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কিশোর বাহিনীর রাজ্য মুখ্য সংগঠক পীষূষ ধর জানালেন, এবারে ১১০জন শিবির সাথি যোগ দিয়েছেন। সাগর অস্থায়ী হাসপাতাল সংলগ্ন মাঠে তৈরি হয়েছে কিশোর বাহিনীর শিবির। ওয়েস্ট বেঙ্গল রেডিও ক্লাবের তরফে এদিন যাত্রীদের যোগাযোগের দুরূহ কাজ রাতদিন করতে দেখা যাচ্ছে। মোবাইল টাওয়ারের ওপর ভরসা না করে নিজস্ব কম্পাঙ্কের হ্যাম সেটের সাহায্যে কাকদ্বীপ-নামখানা, লট এইট-কচুবেড়িয়া কিংবা চামগুড়ি-বেণুবনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। এরই জেরে নেপাল থেকে মেলায় এসে হারিয়ে যাওয়া অসুস্থ চন্দ্রেশ্বর যাদবকে উদ্ধার করে কলকাতায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা গেছে বলে জানালেন সংগঠনের সম্পাদক অম্বরীশ নাগবিশ্বাস। কলকাতা থেকে নেপাল ডেপুটি কমিশনার ওই যাত্রীকে নিখরচায় নেপালে পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement