বিকল্প আয়ের পথ দেখাচ্ছে
নানা প্রজাতির ঘাস চাষ

নিজস্ব সংবাদদাতা

কালনা, ১২ই ফেব্রুয়ারি— বছর তিনেক হলো কৃষি থেকেই বিকল্প আয়ের ভাবনা শুরু করেছে কিছু কৃষক পরিবার। সরকারি সাহায্য ছাড়াই তাঁরা যে বেশ সফল তা কালনা-১নং ব্লকের কয়েকটি গ্রামে দৃষ্টি ফেরালেই বোঝা যায়। গোপালন বাড়ছে, আলু-ধান-পাটের মতো অর্থকরী ফসলের বিকল্প হিসাবে বিভিন্ন প্রজাতির ঘাস চাষ হচ্ছে। গ্রামে তৈরি হচ্ছে বড় বড় দুধ কোম্পানিগুলির দুধ সংগ্রহকেন্দ্র। সেইসব কেন্দ্রে শহর থেকে আসছে দুধের গাড়ি। দুধ বোঝাই গাড়িগুলো ফিরে যাচ্ছে শহরে।

ধানের বিক্রি নেই, আলুরও দাম নেই। বছর বছর কৃষকদের চাষে লোকসান হচ্ছে। পড়াশুনা করেও চাকরি নেই পরিবারের ছেলেমেয়েদের। সর্বত্র অভাব অনটন। চাষবাস করে বাঁচার পথ নেই। এই অবস্থায় কৃষক পরিবারের শিক্ষিত ছেলেরাই বিকল্প আয়ের ভাবনা শুরু করেন। বাড়িতে গোপালনের সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা। বছর তিনেক আগে দুএকটা গাভী দিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলেন। তাঁদের হাতে এখন আট থেকে দশটা পর্যন্ত গাভী। তাদের খাবারের জন্য মাত্র দেড় বিঘা জমিতে তৈরি হচ্ছে বারোমাস সবুজ গোখাদ্য।

কালনার সারগড়িয়া গ্রামের শান্তনু রক্ষিত বলেন, বাড়িতে এখন ৬টি গাভী রয়েছে। তাদের জন্য জমিতে রয়েছে জব প্রজাতির ঘাস। এই ঘাস তিনবার কেটে খাওয়ানো যায়। তারপর লাগানো হবে গামা ঘাস, বারসিম, শেষে জব ঘাস। তাঁরা আলু ও ধানের চাষ কমিয়ে এখন ঘাস চাষ করছেন। সংসারে সচ্ছলতা এসেছে। নতুন বাড়িও তৈরি হয়েছে। বাড়িতে বায়ো গ্যাসের ব্যবস্থা রয়েছে। তাতে রান্নার কাজ চলে যাচ্ছে। জমির জন্য পাওয়া যাচ্ছে জৈব সার। তিনি জানান, শুধু সিমলন গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকাতেই চারটি দুধসংগ্রহ কেন্দ্র রয়েছে। আমাদের মতো দুধ উৎপাদনকারী সকলেই সেখানে দুধ বিক্রি করছেন। সপ্তাহে দুধের পেমেন্ট পাচ্ছি, পাশাপাশি দুধ কোম্পানির ডাক্তাররাই গাভীগুলিকে নিয়মিত চিকিৎসা পরিষেবা দেন বিনা পয়সায়। এভাবে আয় বৃদ্ধির আরও সুযোগ আছে কৃষি পরিবারগুলির। কালনায় এখন আলুর বিকল্প হিসাবে ঘাস চাষও বাড়ছে।

Featured Posts

Advertisement