কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে
প্রতিবাদ, বিশাল মানববন্ধন
জে এন ইউ-র পড়ুয়াদের

সংবাদসংস্থা   ১৩ই ফেব্রুয়ারি , ২০১৮

নয়াদিল্লি, ১২ই ফেব্রুয়ারি— কর্তৃপক্ষের বেলাগাম অনৈতিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ফের গর্জে উঠলেন জে এন ইউ-র পড়ুয়ারা। কমপক্ষে হাজার ছাত্রছাত্রী রবিবার অংশ নিলেন মানববন্ধনে। আসন সংখ্যা হ্রাস, সংরক্ষণ সংক্রান্ত সমস্যা, নজিব আহমেদের নিখোঁজ হয়ে যাওয়া, কোনও আলোচনা ছাড়াই হঠাৎ করে উপস্থিতির হার নির্দিষ্ট করে পড়ুয়াদের হুমকি দেওয়াসহ একাধিক বিষয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন পড়ুয়ারা। জে এন ইউ ছাত্র সংসদের নেতৃত্বে রবিবার পথে নেমেছেন তাঁরা। রাতভর মশালের আলোয় জারি থেকেছে প্রতিবাদ। স্লোগানে-স্লোগানে রাজধানীর রাজপথ প্রতিধ্বনিত হয়েছে। জে এন ইউ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের এই লাগাতার জোরালো আন্দোলনে সংগ্রামী অভিনন্দন জানিয়েছে এস এফ আই কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি। ছাত্রছাত্রীদের একতাকে অভিবাদন জানিয়েছে ছাত্র নেতৃত্ব। আগামী দিনে এভাবেই প্রতিষ্ঠানের অনৈতিক কাজকর্মের বিরুদ্ধে পড়ুয়াদের রুখে দাঁড়ানোর কথা বলেছেন এস এফ আই নেতৃবৃন্দ।

তিন বছর ধরে দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় (জে এন ইউ)-এ ছাত্রছাত্রীদের নানাভাবে হেনস্তা চলছেই। কখনও ছাত্র সংসদের নেতাদের গ্রেপ্তার হতে হয়েছে, কখনও বা ক্যাম্পাসের ভিতরেই চলেছে আক্রমণ। কমিয়ে দেওয়া হয়েছে আসন সংখ্যা। ১৯৯৯ সালে জে এন ইউ-এ তৈরি ‘জেন্ডার সেনসিটাইজেশন কমিটি এগেইনস্ট সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্ট’ (জি এস সি এ এস এইচ) বাতিল করে দিয়েছে জে এন ইউ কর্তৃপক্ষ। আর এস এস-র হাতের পুতুল উপাচার্য পদে নিয়োগের পর থেকে জে এন ইউ-তে কার্যত নৈরাজ্য চলছে। এখনও পর্যন্ত কোনও খোঁজ নেই নাজিব আহমেদের। কর্তৃপক্ষের এই সমস্ত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে পরপর আন্দোলনের পথ বেছে নিয়েছেন বামপন্থী ছাত্রছাত্রীরা। আক্রান্ত হলেও ময়দান ছাড়েননি তাঁরা। এবার ফের উপাচার্য এবং জে এন ইউ-র কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে দীর্ঘ মানববন্ধন করল জে এন ইউ ছাত্র সংসদ। রবিবার গঙ্গা ধাবা থেকে শুরু হয় এই মানববন্ধন। প্রাথমিকভাবে শেষ হয় উপাচার্যের বাড়িতে। পরে এ ডি ব্লকে গিয়ে পৌঁছায় মানববন্ধন। যে ফ্রিডম স্কোয়ারে বিগত বছরে কোনও কাজই হয়নি, সেই ফ্রিডম স্কোয়ারও ফের জেগে উঠেছে এদিনের মানববন্ধনে। এর মাঝেও এই ফ্রিডম স্কোয়ারকে উজ্জীবিত করেছে জে এন ইউ-র ছাত্র সংসদ।

পড়ুয়াদের অভিযোগ, ক্লাসে উপস্থিতি নিয়ে তাঁদের সঙ্গে কোনও আলোচনাই করা হয়নি। এদিকে বলা হচ্ছে, উপস্থিতির হার সঠিক না হলে কেড়ে নেওয়া হবে হস্টেল, ফেলোশিপসহ পড়ুয়াদের একাধিক সুযোগ-সুবিধা। জে এন ইউ-কে কেন্দ্র করে লাগাতার বিষ ছড়ানোর চেষ্টা করছে আর এস এস-বি জে পি। তারই বিরুদ্ধে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলি বারবার প্রতিবাদ দেখিয়েছে। একটি গোটা দিন বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্মঘটের ডাক দিয়ে ছাত্রছাত্রীরা বন্ধ করে দেন প্রশাসনিক কাজকর্ম। প্রায় ৪০০জন ছাত্রছাত্রী সেদিন ধর্মঘটে যোগ দিয়েছিলেন। এরপরও একটি মানববন্ধন হয়। সেবারই ফ্রিডম স্কোয়ারে মানববন্ধনের পর জনসভাও হয়েছিল। এস এফ আই নেত্রী দীপ্সিতা ধর সোমবার জানালেন, ‘পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাক, তা আমরা চাই না। তাই শিক্ষক-শিক্ষিকাদের অনুরোধ করেছি যাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে ক্লাস নেওয়া হয়। সোমবার অধ্যাপকরা সেভাবেই ক্লাস নিয়েছেন। ক্লাস করেছেন ছাত্রছাত্রীরাও। আগামী ২৩শে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালীন ধর্মঘটের পথে হাঁটতে চলেছেন প্রতিবাদী পড়ুয়ারা। এছাড়াও বিভিন্নরকম কর্মসূচিও নেওয়া হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ে।’

Featured Posts

Advertisement