মারধরের জেরে দলিত
পড়ুয়ার মৃত্যু, ক্ষোভের
আগুনে এলাহাবাদে পুড়লো বাস

সংবাদসংস্থা   ১৩ই ফেব্রুয়ারি , ২০১৮

এলাহাবাদ, ১২ই ফেব্রুয়ারি — যোগী আদিত্যনাথের রাজত্বে জাতভিত্তিক রাজনীতি প্রাণ কাড়লো এক দলিত যুবকের। বেধড়ক মারধরের পর গুরুতর জখম ২৬বছরের দিলীপ সরোজকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও তাঁকে প্রাণে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। আইনের ছাত্র দিলীপের মৃত্যুর পর সোমবার ক্ষোভে ফেটে পড়েন তাঁর পরিজনরা। ক্ষোভের আগুনে সোমবার এলাহাবাদের সঙ্গমে পুড়েছে বাস। প্রতিবাদে পথে নেমেছেন সাধারণ মানুষ থেকে ছাত্ররাও। সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরির কারিগর শাসকদল বি জে পি-র দিকে এই ঘটনায় আঙুল তুলেছে বিরোধীরা। মানুষের মধ্যে ঘৃণার বিষ ছড়িয়ে বিভেদ সৃষ্টি করছে গেরুয়াবাহিনী, অভিযোগ তাঁদের। স্বাভাবিকভাবেই মুখ খোলেননি উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ।

এলাহাবাদের ওল্ড কাটরা এলাকায় লক্ষ্মী টকিজের কাছে এক রেস্তোরাঁয় শুক্রবার রাতে বন্ধুদের সঙ্গে গিয়েছিলেন দিলীপ। বাইক কেনার আনন্দে বন্ধুদের খাওয়ানোর জন্য ডেকে পাঠান সমীর। আরও দুই বন্ধু প্রকাশ এবং সিদ্ধার্থও তাঁদের সঙ্গে ছিল। পুলিশ জানিয়েছে, খাবার অর্ডার দেওয়ার পর চার বন্ধু রেস্তোরাঁর সিঁড়িতে বসেছিলেন। সেইসময় বন্ধুদের নিয়ে ওই রেস্তোরাঁয় ঢুকছিলেন বিজয়শংকর সিং নামে এক ব্যক্তি। বিজয়শংকরের পা দিলীপের গায়ে লাগে। প্রতিবাদ জানান তিনি। কিন্তু দোষ মানতে চাননি বিজয়শংকর। কিছুক্ষণ বচসা চলার পরই তা হাতাহাতিতে পৌঁছায়। প্রথমে চেয়ার ছুঁড়ে মারা হয় দিলীপকে। তারপর হকি স্টিক, ভাঙা পাইপ এবং ইট দিয়ে মারধর করা হয় তাঁকে। চেয়ার ছুঁড়ে মারে হোটেলের বেয়ারা মুন্না চৌহানও। পাশাপাশি অভিযোগ, মুন্না লোহার রড দিয়েও দিলীপের মাথায় আঘাত করে। বেধড়ক মারধরের পর অচৈতন্য অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন দিলীপ। তবে পুলিশের বক্তব্যের সঙ্গে মিল পাওয়া যায়নি সরোজের বন্ধু প্রকাশের কথায়। প্রকাশের অভিযোগ, বিজয়শংকর এবং তাঁর সঙ্গে থাকা দুজন তাঁদের দেখে কটূক্তি করে। রেস্তোরাঁর ভিতর ঢুকে তারা প্রতিবাদ করলে শুরু হয় মারধর। তাঁরা খাওয়াদাওয়ার পরই রেস্তোরাঁর বাইরে সিঁড়িতে বসেছিলেন। সি সি টিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিশ মুন্নাকে গ্রেপ্তার করেছে। কিন্তু পলাতক অভিযুক্ত বিজয়শংকর ও তার সঙ্গীরা। অভিযোগ, রেস্তোরাঁর মালিক স্থানীয় থানায় ফোন করলেও কোনও জবাব মেলেনি। রেস্তোরাঁ থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরে থেকেও ঘটনাস্থলে না পৌঁছানোয় কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে তিনজন পুলিশকর্মীকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন এস এস পি। দলিত পড়ুয়াকে বেধড়ক মারধরের ভিডিও ভাইরাল হয়ে গিয়েছে সোশ‌্যাল মিডিয়ায়।

দেশের বিভিন্ন রাজ্যে জাতভিত্তিক রাজনীতির শিকার হচ্ছেন দলিতরা। কখনও দলিত গবেষক তো কখনও আইনের দলিত ছাত্র। কখনও বা সার্জারির ছাত্র কোনও দলিত যুবক। বাদ নেই কেউই। সেই তালিকায় নতুন নাম দিলীপ সরোজ। প্রতাপগড়ের বাসিন্দা দিলীপ এলাহাবাদ ডিগ্রি কলেজে আইন নিয়ে পড়ছিলেন। ওম গায়ত্রী নগরে ভাড়াবাড়িতে থাকতেন তিনি। রবিবার দিলীপের মৃত্যুর পরই ক্ষোভে ফেটে পড়েন তাঁর আত্মীয়-বন্ধুবান্ধবরা। সঙ্গমে বাসে আগুন ধরিয়ে দেন তাঁরা। বিক্ষোভ দেখান রাস্তায়। বাসে ঢিল ছোঁড়েন বিক্ষোভকারীরা। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার এবং সুবিচারের দাবিতে পথে নামেন নিহত যুবকের পরিজনরা। সরকারবিরোধী এবং পুলিশবিরোধী স্লোগান দিতে থাকেন তাঁরা। ক্ষতিপূরণের দাবিও তোলা হয়।

দিলীপ সরোজের মৃত্যুর পর বিরোধীদের ক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছে সরকারকে। উত্তর প্রদেশ বিধান পরিষদ সোমবার উত্তাল হয়ে ওঠে। বিরোধী দলনেতা সমাজবাদী পার্টি সদস্য আহমেদ হাসান এদিন অভিযোগ করেছেন, ‘দেশজুড়ে দলিতদের উপর নির্যাতনের ঘটনা বেড়ে চলেছে, কিন্তু সরকার নিশ্চুপ।’ বহুজন সমাজবাদী পার্টি প্রধান মায়াবতী স্পষ্ট অভিযোগ করেছেন, ‘দলিত ছাত্রের উপর বর্বরোচিত অত্যাচার এবং তাঁর মৃত্যু কোনও পৃথক ঘটনা নয়। এর জন্য দায়ী বি জে পি-র জাতভিত্তিক রাজনীতি এবং ঘৃণ্য মানসিকতাই।’

Featured Posts

Advertisement