সিরিয়া ভূখণ্ডে ইজরায়েলী
হানা নতুন মাত্রা পেতে
পারে সংঘর্ষ

সংবাদসংস্থা

বেইরুট, ১১ই ফেব্রুয়ারি- ইজরায়েলের সরাসরি আক্রমণকে কেন্দ্র করে সিরিয়ার সংঘাত নতুন মাত্রা পেতে চলেছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সিরিয়ার ভেতরে শনিবার বিমানহানা চালিয়েছে ইজরায়েল। ২০১১ থেকে সিরিয়ায় অভ্যন্তরীণ সংঘাতে প্রত্যক্ষত সামরিক হস্তক্ষেপ করেনি ইজরায়েল। যদিও সিরিয়া সীমান্তে বিমানহানা হয়েছে।

শনিবার ইজরায়েল দাবি করে ইরানের একটি ড্রোন বিমান ইজরায়েলে ঢুকেছিল। সেটিকে গুলি করে নামানো হয়। তারপর ইজরায়েলের তরফে আক্রমণ হয়। সিরিয়া ও ইরানের তরফে বলা হয়েছে, পূর্ব সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেট সন্ত্রাসবাদীদের থেকে যাওয়া ঘাঁটিগুলির ওপরে নজরদারি চালানোর জন্য ওই ড্রোন নিয়মিতই যায়। ইজরায়েলের সঙ্গে তার কোনও সম্পর্ক নেই।

ইজরায়েলের প্রথম দফায় হামলার সময়ে একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান সিরিয়ার ভেতরে ঢুকলে সিরিয়ার সেনারা তা গুলি করে নামায়। বিমানচালকরা বেঁচে গেলেও পালটা আঘাত করে ইজরায়েল। ইজরায়েলের দাবি অনুযায়ী এরপর ‘বড় আঘাত’ করা হয়েছে সিরিয়ার একাধিক বিমানঘাঁটিতে। ইজরায়েলের দাবি এই ঘাঁটিগুলিতে ইরানের সেনারা রয়েছে। ইজরায়েলের সামরিক বাহিনীর তরফে দাবি করা হয়েছে, সিরিয়ার ভেতরে ১২টি জায়গায় তারা আক্রমণ করেছে। সিরিয়া জানিয়েছে, রাজধানী দামাস্কাসের কাছে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। তিয়াস বিমানবন্দর, কিশওয়া শহর, দিমাসেও আক্রমণ চালানো হয়েছে। সিরিয়া বলেছে, জায়নবাদী ইজরায়েলের এই আক্রমণ সন্ত্রাসবাদী হামলাই। এর যথাযোগ্য জবাব দেওয়া হবে। অধিকৃত গোলান হাইটসে ইজরায়েল ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করেছে বলেও খবর।

সিরিয়ায় ইরানের সেনাদের থাকার খবর সরাসরি অস্বীকার করে তেহরান বলেছে, সিরিয়ায় ইরানের কোনও সামরিক উপস্থিতি নেই। আসাদ সরকারকে সাহায্য করতে কয়েকজন সামরিক পরামর্শদাতা পাঠানো হয়েছিল মাত্র। সিরিয়া সরকারের মিত্র রাশিয়া উভয় পক্ষকেই সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। অন্যদিকে, মার্কিন প্রশাসন বলেছে ইজরায়েলের বিমানহানায় তারা অংশ নেয়নি কিন্তু ইজরায়েলের প্রতি তাদের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। উভয় পক্ষকে উত্তেজনা প্রশমনের জন্য আহ্বান জানিয়েছে রাষ্ট্রসঙ্ঘও।

শনিবারের এই ঘটনার পরে সিরিয়ার সংঘাত নতুনতর চেহারা পেয়ে যেতে পারে বলে অনেক পর্যবেক্ষক মনে করছেন। একটানা সাত বছর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পরেও আসাদ সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা যায়নি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, তার মিত্র দেশগুলির মদতপ্রাপ্ত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলি ক্রমেই দুর্বল হয়েছে। আইসিস ও আল কায়েদাও সিরিয়ার সেনাদের কাছে পরাস্তই হচ্ছে। এই অবস্থায় ইজরায়েল সচেতনভাবেই এই সংঘর্ষে নিজেকে যুক্ত করতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল ‘ইরান-ভীতি’ ছড়িয়ে মধ্য প্রাচ্যে নতুন সামরিক অভিযান চালাতে পারে।

Featured Posts

Advertisement