ঝিলিমিলিতে মহিলা মিছিলে
সোচ্চার অভিযোগ

বার বার অপমানিত হচ্ছেন জঙ্গলমহলের শিল্পীরা

নিজস্ব সংবাদদাতা

বাঁকুড়া, ১৩ই ফেব্রুয়ারি— সরকারি স্বাস্থ্য প্রকল্প স্মার্ট কার্ড পাওয়ার যোগ্য কি এক মাত্র তৃণমূল কংগ্রেসের অনুগত মহিলা গ্রুপের ? বাকি মহিলারা কি অসুস্থ হন না ? তাঁরা কি অঢেল টাকা খরচ করে চিকিৎসা করাতে পারবেন ? মহিলাদের স্বাস্থ্য নিয়ে কেন এভাবে রাজনৈতিক বিভাজন করে ছিনিমিনি খেলা হচ্ছে? মঙ্গলবার রানিবাঁধের জঙ্গলমহল ঝিলিমিলির বুকে সারা ভারত গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির উদ্যেগে মিছিল করে এই অবিচারের জবাব চাওয়া হলো। দাবি করা হয়, সরকারি সমস্ত সুযোগ সুবিধা যাতে নিরপেক্ষভাবে সকলে পান তার ব্যবস্থা করতে হবে। এদিন ঝিলিমিলিতে কয়েকশো মহিলা মিছিলে হাঁটেন। মিছিলে আদিবাসীসহ সমস্ত অংশের মহিলারাই অংশ নেন। দিনের পর দিন শাসকদল, পঞ্চায়েত ও চলতি সরকারি ব্যবস্থাপনার কাছ থেকে জঙ্গলমহলের মানুষ বিশেষ করে মহিলারা অবিচারের শিকার ও অপমানিত হয়ে আসছেন। মুখ্যমন্ত্রী বারে বারে বলে যান জঙ্গলমহল হাসছে, কোথায় হাসি? এই জঙ্গলমহলের একজন মানুষও আজও ডিজিট্যাল রেশন কার্ড পেলেন না। কেন্দুপাতার কাজে সরকার, ল্যাম্পস হাত গুটিয়ে বসে আছে। জঙ্গলকে ভরসা করে এই এলাকার আদিবাসী, এবং অন্যান্য অংশের মানুষ যেভাবে নিজেদের পরিবারের অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছিল, তা আজ অদৃশ্য হয়ে গেছে। রেগার কাজ তলানিতে গিয়ে পৌঁছেছে। এদিন এলাকার গণআন্দোলনের নেতা লক্ষীকান্ত টুডু জানান, কোথাও কোনও কাজ নেই। তিলাবনি, কাঁঠালিয়া, রাওতোড়াসহ পুরো রাওতোড়া অঞ্চল, যাঁরা কোন রকমে একটু আধটু রেগার কাজ করেছেন তাঁরা মজুরি পাননি। বামফ্রন্টের আমলে এই এলাকায় মহিলাদের স্বনির্ভর করার উদ্দেশ্যে রেগার পুরো কাজ তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। বহু অসাধ্য সাধন করেছিলেন এই এলাকার মা-বোনেরা। তৈরি হয়েছিল একটা আত্মবিশ্বাস। আজ সেই বিশ্বাস ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে এই সরকার। দাবি করা হয়েছে অবিলম্বে সব জায়গায় রেগার কাজ খুলতে হবে। কাজের শেষে প্রাপ্য মজুরি দিতে হবে।

মহিলা নেত্রী চূড়ামণি টুডু, অণিমা মণ্ডলরা জানান, ভয়, লোভ দেখিয়ে আদিবাসী মহিলাদের নানান অনুষ্ঠানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সরকারি অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে শাসকদলের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে পর্যন্ত তাঁদের নাচ-গান করতে হচ্ছে। এটা কোনও শিল্পীর মর্যাদা নয়। অনুষ্ঠান হবার পর তাঁদের উপেক্ষা করা হয়। বার বার অপমানিত হতে হচ্ছে জঙ্গলমহলের এই সব শিল্পীদের। বন্ধ হোক এই অপমান। এঁরা জানান জঙ্গল মহলের একের পর এক আদিবাসী হস্টেল বন্ধ হয়ে গেছে। যে কটি চলছে সেখানে ছাত্রছাত্রী সংখ্যা তলানিতে পৌঁছেছে। সরকারের নীতিতে ছাত্রছাত্রীদের এই আবাসনগুলিতে থাকা অনিশ্চিত হয়েছে কয়েক বছর ধরেই। বাড়ি থেকে টাকা এনে হস্টেলে থাকার মতো অবস্থা নেই এই সব পরিবারগুলির। তাই মাঝপথে জঙ্গলমহলের ছাত্রছাত্রীরা লেখাপড়া ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা নিয়েও শাসকদল, পঞ্চায়েতের দুর্নীতির বিরুদ্ধে মিছিলে সরব হন মহিলারা। জানান তৃণমূলের লোকজনকে বেছে বেছে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার বাড়ি দেওয়া হচ্ছে। বলা হয়, ব্যবস্থা না নিলে আরও বড় আন্দোলনের পথে যাবে জঙ্গলমহল। এদিন ঝিলিমিলি থেকে মিছিল শুরু হয়ে পড়াডি মোড় ঘুরে ঝিলিমিলি পঞ্চায়েতের সামনে শেষ হয়। সেখানে বক্তব্য রাখেন দেবলীনা হেমব্রম, শিউলি মিদ্যা, সুদীপা ব্যানার্জি প্রমুখ।

Featured Posts

Advertisement