হয়রানির প্রতিবাদে মহকুমা
শাসকের দ্বারস্থ বসিরহাটের
জল ব্যবসায়ীরা

নিজস্ব সংবাদদাতা

বসিরহাট, ১৩ই ফেব্রুয়ারি — পুলিশি হেনস্তা ও মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে মঙ্গলবার বসিরহাট মহকুমা শাসকের দ্বারস্থ হলো সারা বাংলা নিরাপদ পানীয় জল উৎপাদক জনকল্যাণ সমিতি। গত ২০০০ সালের বন্যার পর থেকে রাজ্যজুড়ে একটু একটু করে বৃদ্ধি পেয়েছে ২০লিটার জারে ক্ষুদ্র প্লান্টের পানীয়জলের ব্যবসা। বর্তমানে সারা রাজ্যে প্রায় ১২ হাজার ক্ষুদ্র পানীয়জল কোম্পানি রয়েছে। যার মধ্যে বসিরহাট মহকুমার প্রায় ৪০০ জল কোম্পানির উপর ভরসা করে আছেন এক হাজারেরও বেশি মানুষ। আর তা পান করে বেঁচে সুস্থ আছেন মহকুমার কয়েক হাজার মানুষ। বেশ কয়েক মাস ধরে অনিয়মিত ও পানের অযোগ্য জল সরবরাহের কারণে চরম পানীয়জল সংকটে ভুগতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। বিকল্প জল হিসাবে ২০লিটার জারে বিক্রিত পানীয়জলের উপরে ভরসা করে থাকতে হয় তাঁদের। অথচ সেই সমস্ত পানীয় জলের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের উপর অযথা হেনস্তা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন জল ব্যবসায়ীরা। এই বিষয়ে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের দৃষ্টিআকর্ষণ করতে মঙ্গলবার বসিরহাট মহকুমাশাসকের দপ্তরে ডেপুটেশন জমা দেন সারা বাংলা নিরাপদ পানীয়জল উৎপাদন জনকল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে। সমিতির উত্তর ২৪পরগনা জেলা সভাপতি নুরুল ইসলাম বলেন, ‘শিল্প দপ্তর যেখানে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে আমাদের সাহায্য করছে সেখানে পুলিশি হেনস্তার শিকার হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। সম্প্রতি বৃহৎ পুঁজির কারখানাগুলির স্বার্থে পুলিশ কোনরকম পরীক্ষা নিরীক্ষা ছাড়াই নকল জল, জাল জল, অস্বাস্থ্যকর বলে মালিক, শ্রমিকদের আটক করছে এবং মিথ্যা মামলা করছে। রাজ্যে প্রায় ১২০০০ক্ষুদ্র পানীয় জল উৎপাদন শিল্পকেন্দ্রীক প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে প্রায় ৪লক্ষ পরিবার জীবিকা নির্বাহ করে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক, মা বোনদের গহনা বন্ধক দিয়ে অথবা বাজার থেকে চড়া সুদে টাকা ধার নিয়ে ব্যবসা করছে। যদি বিনা কারণে এই ভাবে পুলিশি হয়রানি চলতে থাকে তাহলে আত্মহত্যার পথে যাওয়া ছাড়া অন্য কোনও পথ নেই। রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আবেদন ক্ষুদ্র শিল্প হিসাবে এই ব্যবসাকে স্বীকৃতি দেওয়া হোক। তার জন্য আমরা কর দান থেকে শুরু করে সমস্ত রকম ভাবে সরকারকে সহযোগিতা করতে রাজি আছি।’

Featured Posts

Advertisement