বহরমপুরের সভায় দাবি নেতৃবৃন্দের
বিদ্যালয়, মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগ
নিয়ে তামাশা বন্ধ করুক রাজ্য

নিজস্ব সংবাদদাতা   ১৪ই ফেব্রুয়ারি , ২০১৮

বহরমপুর, ১৩ই ফেব্রুয়ারি — রাজ্যের শিক্ষা ব‍্যবস্থা গভীর সংকটে। বিদ্যালয় ও মাদ্রাসাগুলি শিক্ষকের অভাবে ধুঁকছে। অথচ শিক্ষক নিয়োগের ব্যাপারে সরকারের কোনও হেলদোল নেই। অনৈতিকভাবে অর্থ উপার্জনের জন্য মাঝে মধ্যে শিক্ষক শিক্ষাকর্মী নিয়োগের ঘোষণা হলেও শিক্ষক নিয়োগ করতে পুরোপুরি ব‍্যর্থ রাজ‍্য সরকার। ব‍্যাহত হচ্ছে পঠন পাঠন। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে রাজ‍্যের লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রী। শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে দুর্নীতি, স্বজন পোষণ ও তামাশা বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশে শামিল হলেন শিক্ষক শিক্ষিকারা। মঙ্গলবার নিখিলবঙ্গ শিক্ষক সমিতি মুর্শিদাবাদ জেলা শাখার ডাকে ডি আই অফিসের সামনে এই সমাবেশ হয়। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন এ বি টি এ-র রাজ‍্য সম্পাদক কৃষ্ণপ্রসন্ন ভট্টাচার্য, রাজ‍্য সভাপতি বদরুদ্দোজা খান, জেলাসম্পাদক দুলাল দত্তসহ মুর্শিদা খাতুন, জুলফিকার আলি প্রমুখ। সমাবেশ পরিচালনা করেন অদিতি ভট্টাচার্য।

কৃষ্ণপ্রসন্ন ভট্টাচার্য বলেন, রাজ‍্যসহ গোটা দেশের সাধারণ শিক্ষা ব‍্যবস্থা আজ আক্রান্ত। কেন্দ্রীয় সরকার শিক্ষাকে বেসরকারিকরণ ও বাণিজ্যিকীকরণ করতে চাইছে। দেশের ধর্মনিরপেক্ষতাকে ক্ষুণ্ণ করে শিক্ষার সাম্প্রদায়িকীকরণ ও উগ্র হিন্দুত্ববাদ প্রসারের উদ্যোগ গ্রহণ করছে। তৃণমূল এবং বি জে পি দুই প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি ধর্মের নামে মানুষের মধ্যে বিভেদ তৈরির প্রতিযোগিতায় নেমেছে। এ রাজ‍্যের তৃণমূল সরকার গণতান্ত্রিক কাঠামোকে ভেঙে দিয়ে শিক্ষাক্ষেত্রে চরম নৈরাজ্য নামিয়ে এনেছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে ক্রমাগত সন্ত্রাস, নৈরাজ্য সৃষ্টি করে শুধু শিক্ষার সুস্থ পরিবেশকে নষ্ট করছে না, শিক্ষার সাম্প্রদায়িকীকরণ ও বেসরকারিকরণের পথকে প্রশস্ত করছে। রাজাবাজার সায়েন্স কলেজে শিক্ষক নিগ্রহের তীব্র নিন্দা করে তিনি বলেন, শিক্ষক কর্মচারীদের মহার্ঘভাতা প্রদান ও পে কমিশন কার্যকর করার কোনও উদ্যোগ নেই অথচ শিক্ষকদের ওপর আচরণবিধির ফতোয়া জারি করে প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে চাইছে রাজ্য সরকার। 

সমাবেশে সাংসদ বদরুদ্দোজা খান বলেন, বিগত বামফ্রন্ট সরকারের আমলে স্কুল শিক্ষার পাশাপাশি মাদ্রাসা শিক্ষার যে উৎকর্ষতা বৃদ্ধি পেয়েছিল, বর্তমান সরকারের আমলে তা ভেঙে পড়েছে। মুর্শিদাবাদ জেলাসহ রাজ্যের কোথাও গত ৬বছরে একটাও নতুন বিদ্যালয় হয়নি। শিক্ষকশূন্য, পরিকাঠামোহীন স্কুলগুলিকে শুধুমাত্র নীল সাদা রং করে প্রচারের আলোয় ঢেকে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। শিক্ষার উন্নয়নের কোনও উদ্যোগ নেই। অথচ দিনের পর দিন ঢালাও প্রচার আর চটকদারি দান খয়রাতির বহর বাড়ছে। মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন তুলে দেওয়ার পর স্কুল সার্ভিস কমিশনকেও তুলে দেওয়ার গভীর চক্রান্ত করছে এই স্বৈরাচারী সরকার। শিক্ষক, কর্মচারীদের অর্জিত গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধারে ও শিক্ষার গণতান্ত্রিক কাঠামো ফিরিয়ে আনতে শিক্ষক শিক্ষিকাদের ঐক্যবদ্ধ করে আরও বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

এদিন ডি আই দপ্তরে সামনে আয়োজিত সমাবেশ মঞ্চ থেকে দুটি প্রতিনিধি দল ডি আই এবং জেলাশাসকের কাছে ডেপুটেশন দিতে যান। বিদ্যালয় ও মাদ্রাসাগুলিতে দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ, শিক্ষা বহির্ভূত কাজের চাপ কমানো, ভোকেশনাল ও পার্শ্বশিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধি, বকেয়া মহার্ঘভাতা প্রদান, পে কমিশন দ্রুত কার্যকর করা, শিক্ষাক্ষেত্রে সন্ত্রাস নৈরাজ্য বন্ধ, শিক্ষক শিক্ষিকাদের আচরণ বিধির নামে অনৈতিক প্রতিহিংসামূলক ধারাগুলি বাতিল করার দাবিসহ মোট পনেরো দফা দাবির ভিত্তিতে নেতৃত্ব ডি আই এবং জেলাশাসককে ডেপুটেশন দেন।

Featured Posts

Advertisement