গোরুবাথানে জলের
সংকট, বাড়ছে ক্ষোভ

নিজস্ব সংবাদদাতা   ১৪ই ফেব্রুয়ারি , ২০১৮

মালবাজার, ১৩ই ফেব্রুয়ারি— তিনদিন ধরে জলের সংকটে ভুগছে কালিংপঙের গোরুবাথান ট্যারসহ একাধিক গ্রাম। জলের অভাবে কৃষকাজ তো দূরের কথা গৃহস্থালির কাজও প্রায় শিকেয় উঠেছে।

দার্জিলিঙ, কালিংপঙ জেলার প্রত্যন্ত পাহাড়ি অঞ্চলে সাবেককাল থেকে জলের সংকট রয়েছে। ভরসা বলতে পাহাড়ি ঝোরা ও ঝরনার জল। বর্ষার জলে এক ফসলি কিছু কৃষিকাজ হয়। সমস্যা হয় শীতে শুখা মরশুমে। এই সময় পাহাড়ি ঝোরাগুলি সব শুখিয়ে যায়। একমাত্র ভরসা পাহাড়ি কিছু ঝরনা। সেই ঝরনার জল পাইপলাইনের মাধ্যমে দূর দূর গ্রামে সরবরাহ করা হয়। সেই দিয়ে চলে রান্না থেকে কাপড় কাচা সবই। এখন সেই জলের সংকট চলছে।

গোরুবাথান ব্লকের ডালিম গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীনে গোরুবাথান ট্যারসহ বেশ কয়েকটি পাহাড়ি গ্রাম রয়েছে। পাহাড়ের উপরে মাঝে-মাঝে কিছু সমান ভূমি দেখা যায়। পাহাড়ি ভাষায় এই স্থানগুলিকে ট্যার বলে। এইসব ভূমিতে জুম পদ্ধতিতে চাষ করা হয়। শীতের সময় চাষ হয় না।

ডালিম গ্রাম পঞ্চায়েতের কর্মী রাজেন্দ্রকুমার সুব্বা জানান, গত তিনদিন ধরে গ্রামে জল নেই। পাইপলাইন দিয়ে জল আসছে না। মাঝে-মাঝে যেটুকু জল আসে তাই দিয়ে কোনোক্রমে কাজ চলছে। দূরে পাহাড়ি ঝরনা থেকে জল আসে। কিছুদিন আগে পর্যন্ত জল স্বাভাবিক ছিল। এখন ঝরনার জলপ্রবাহ কম। তাই সংকট হয়েছে। তিনদিন ধরে জল স্বাভাবিক নেই। তাই কষ্ট চলছে।

বাড়ি সংস্কার করার কাজ শুরু করেছিলেন ভক্তমণি রাই। জলের অভাবে কাজ আটকে রয়েছে। স্নান করা, কাপড় কাচা ইত্যাদির জন্য যেতে হয় কয়েক কিমি দূরে নিচে চেল নদীতে। এই সমস্যার মধ্য দিয়ে চলছে পাহাড়ি গ্রামগুলি।

আর এক বাসিন্দা জানান, বাস্তবে পাহাড়ের গোলমালে পাইপলাইন, জলাধার সংস্কার হয়নি। এজন্য সমস্যা হচ্ছে। বৃষ্টি না হলে এ সমস্যা মিটবে না। জল সংকট মেটাতে উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় মানুষ।

Featured Posts

Advertisement