চিকিৎসার গাফিলতিতে মালদহ
মেডিক্যালে শিশুমৃত্যুর অভিযোগ

নিজস্ব সংবাদদাতা

মালদহ, ১৩ই ফেব্রুয়ারি — মঙ্গলবার সকালে অন্বেষা খাতুনের (৯মাস) মৃত্যু ঘিরে উত্তাল হলো মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। অভিযোগ উঠল ওই শিশু কন্যাটির মৃত্যু হয়েছে চিকিৎসার গাফিলতিতে। এই মৃত্যু ঘিরে হাসপাতাল সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ করা হলেও থানায় কোন‍‌ও লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।

মেয়েটির বাবা আজিজুর রহমান একজন শ্রমিক। মা আকতার বিবি গৃহবধূ। বাড়ি পুরাতন মালদহের মৌলপুরে। এটি তাদের প্রথম সন্তান।

আজিজুর রহমান হাসপাতাল চত্বরে দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের বলেন, গত রবিবার খেলার সময় সে চৌকি থেকে মাটিতে পড়ে যায় ও তার মাথার পিছনে আঘাত লাগে। মাথার পিছনের অংশটা বেশ কিছুটা ফুলে যায়। পরদিন তাকে মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আউটডোরে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসা হয়। ওখানে দায়িত্বে থাকা চিকিৎসকরা বলেন, অন্বেষার মাথায় রক্ত জমে গেছে। এবং আউট‍‌ডোরে মাথা চিরে রক্ত‍‌ বের করে দেয়। তবে আজিজুরের অভিযোগ, ঐ দুজন আদৌ চিকিৎসক কিনা তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। কেননা তাঁরা ঐ কাজ করার জন্য ১০০টাকা দাবি করেন। আজিজুরের বক্তব্য তিনি ১০০ টাকা দেবার বদলে ১৫০ টাকা দিয়েছেন। ঐ দুজন অন্বেষার মাথায় ব্যান্ডেজ করে দিলেও কোনও ওষুধ লাগানো হয়নি। দুদিন পর অন্বেষাকে ফের আউটডোরে আনার পরামর্শ দেন।

আজিজুর রহমানের বক্তব্য, মেয়েকে নিয়ে বাড়ি ফেরার পর ফের মাথা থেকে রক্ত বের হতে শুরু করে। সঙ্গে সঙ্গে তারা মেয়েকে নিয়ে বাড়ির কাছে মৌলপুর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা তাঁকে বলেন, মেয়েকে দ্রুত মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে। সঙ্গে সঙ্গে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে দীর্ঘক্ষণ কোনোরকম চিকিৎসা না করে ফেলে রাখা হয়।

মঙ্গলবার সকালে শিশুটি মারা যায়। এই ঘটনার জন্য মেয়েটির পরিবারের পক্ষ থেকে আউটডোরের ঘটনাকেই দায়ী করা হয়েছে। তারা ঘটনা নিয়ে হাসপাতালের সহকারী অধ্যক্ষ তথা সুপার অমিত দাঁ-র কাছে মৌখিক অভিযোগ জানান

অমিত দাঁ-র বক্তব্য, কোনও লিখিত অভিযোগ পাননি। তবে অভিযোগের সত্যতানিয়ে তিনি তদন্ত করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন। তাঁর আরও বক্তব্য শিশুটিকে প্রথম দিনই হাসপাতালে ভর্তি করার কথা বলা হলেও অভিভাবকরা তা করেননি। তবে সোমবার ভর্তি করার পর তার সঠিক ও সময়মতো চিকিৎসা করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

Featured Posts

Advertisement