নির্বাচন সামনে এলে বিমানের গল্প
ওড়ে কম ভাড়ায় মাঝারি
বিমান চায় কোচবিহার

জয়ন্ত সাহা

মাথাভাঙা : ১৩ই ফেব্রুয়ারি— কোচবিহার জেলায় একটা কথা চালু আছে ‘যদি আপনি শোনেন কোচবিহার থেকে ফের উড়ান চালু হচ্ছে, তবে আপনি বুঝবেন সামনে কোনও নির্বাচন আসছে’। পঞ্চায়েত নির্বাচনের দিন এগিয়ে আসতেই জেলা প্রশাসন ঘোষণা করেছে চলতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই কোচবিহার— কলকাতা উড়ান চালু হচ্ছে।

জানা গেছে, এবারে ডেকান চার্টার্ড প্রাইভেট লিমিটেড উড়ান চালানোর বরাত পেয়েছে। ইতিমধ্যেই ওই সংস্থাকে বিমান বন্দর কর্তৃপক্ষ টিকিট কাউন্টার ও চেক ইন কাউন্টারের ব্যবস্থা করে দিয়েছে। সপ্তাহে ছয়দিন উড়ান চলবে বলে ডেকান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন। এই বিমান কলকাতা থেকে সকাল ৮টায় রওনা হয়ে সকাল ১০টা ৩৫মিনিটে কোচবিহার পৌঁছাবে। ফের বেলা ১০টা ৫৫মিনিটে রওনা হয়ে ১২টা ১০মিনিটে কলকাতা পৌঁছাবে। ২২আসনের এই ছোট বিমানে ১৯জন যাত্রী যাতায়াত করার সুযোগ পাবে। থাকবেন চালকসহ, সহকারী চালক ও একজন বিমান সেবিকা। টিকিট বিক্রির দায়িত্ব পেয়েছেন প্রসন্নকুমার জৈন নামে এক এজেন্ট। আসন পিছু ভাড়া ২৫০০টাকা।

বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, উড়ান চালুর জন্য প্রয়োজনীয় সবরকম চুক্তি ওই বেসরকারি সংস্থার সাথে ইতিমধ্যেই হয়ে গেছে। উড়ান চালু হবার খবর ছড়িয়ে পড়ার পরই কৌতূহলী সাধারণ মানুষের জিজ্ঞাসা উড়ান তো চালু হবে কিন্তু চলবে কতদিন? ২০১১ সালে একবার উড়ান চালু করেছিল এক বেসরকারি সংস্থা। কিছুদিনের মধ্যেই উৎসাহ হারায় তারা। অলাভজনক বলে তারা চুক্তি ভেঙে বেরিয়েও যায়। প্রথম দফায় মাত্র দিন সাতেক উড়ান চালু ছিল। তাও আবার অনিয়মিত। এরপর বেশ কয়েকবার উড়ান চালু হলেও প্রতিবারই অলাভজনক তকমা দিয়ে বন্ধ হয়েছে উড়ান। সবশেষে ২০১৫ সালের ৩১শে ডিসেম্বর কোচবিহার বিমান বন্দর থেকে বিমান পরিষেবা চালু হয়। মাস খানেক অনিয়মিত চলার পর ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে উড়ান ওঠানামা বন্ধ হয়ে যায়। ২০১১ সাল থেকে বারবার উড়ান চালু আর বন্ধের পিছনে মূলত দায়ী কম আসনের উড়ান ও বেশি ভাড়া।

বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, বড় মাপের উড়ান চালানোর জন্য রানওয়ে লম্বায় ২৫০০হাজার মিটার ও চওড়ায় ৬০ থেকে ৯০মিটার হওয়া জরুরি। কোচবিহারে বিমান বন্দরে বর্তমান ছোট মাপের বিমান ওঠা নামার রানওয়ে রয়েছে। মাঝারি মাপের এ টি আর বিমান নামাতে হলে রানওয়ে আরও ৩০০মিটার বাড়াতে হবে। বর্তমানে বিমান বন্দরে রানওয়ে সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। বিমান বন্দরের পিছনে মরা তোর্ষা নদীর বাঁধ ঘুরিয়ে রানওয়ে সম্প্রসারণের কাজ চলছে। সব মিলিয়ে বিমানবন্দর থেকে ফের ছোট উড়ান চালুর সরকারি ঘোষণাকে জেলার মানুষ নির্বাচনী চমক বলেই মনে করছে।

এসবের মধ্যেই কোচবিহার শহর থেকে ৪/৫ কিমির মধ্যে নতুন বিমান বন্দর গড়ার জন্য জমি খোঁজা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী। নতুন বিমান বন্দর হলে কোচবিহার-মুম্বাই ও কোচবিহার চেন্নাই রুটে বিমান চালানোর চেষ্টা হবে বলে সাংবাদিক বৈঠকে জানিয়েছেন মন্ত্রী। বর্তমানে যে বিমান বন্দরটি আছে তার রানওয়ে সম্প্রসারণ করা হলে ১০৫৯মিটার রানওয়ে হবে। তাহলে এখানেই ৪৫থেকে ৫০আসনের বিমান ওঠানামা সম্ভব। যে কাজ দ্রুততার সাথে শেষ করলে সমস্যা মিটে যেতে পারে। অভিযোগ তা না করে নতুন বিমান বন্দরের স্বপ্ন দেখানো চমক ছাড়া আর কিছুই নয়।

গত সাত বছরে একাধিকবার উড়ান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং কোচবিহারে বড় বিমান চালানোর ভাবনার সঙ্গে বাস্তবের কোনও মিল নেই বলেই জেলার শিল্পদ্যোগীরা মনে করেন। সকলেই চাইছেন ছোট বা বড় বিমান কোনওটাই নয়, রানওয়ে সম্প্রসারণের কাজ দ্রুত শেষ করে মাঝারি উড়ান চালু হোক কোচবিহার বিমান বন্দর থেকে।

Featured Posts

Advertisement