চুরি হয়ে যাচ্ছে শর্টকার্ট
চ্যানেলের মাটি

মণিরুল হক

আমতা : ১৩ই ফেব্রুয়ারি –তৃণমূলী জমি হাঙরদের কালো থাবা এবার আমতায় দামোদরের শর্টকার্ট চ্যানেলে। উদয়নারায়ণপুর ও আমতা ২নং ব্লক বন্যায় ফি বছর জলে ডোবে। ডি ভি সি-র ছাড়া জলে প্লাবিত হয়ে ক্ষয়ক্ষতি হয় বিপুল অঙ্কের টাকা। চাষবাসসহ এলাকার রাস্তাঘাট, বাড়িঘর ভেঙে পড়ে। বন্যার সময় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। চেয়ে থাকতে হয় প্রশাসনের দিকে। এই দুর্দশা থেকে কিছুটা মুক্তি দিতে ২০০০ সালে বামফ্রন্ট সরকারের আমলে তৈরি হয় শর্টকার্ট চ্যানেল। আমতা ২নং ব্লকের থলিয়া থেকে বাগনান ১নং ব্লকের বাকসি পর্যন্ত এই চ্যানেল। দৈর্ঘ্য ১১.৬৫ কিমি।

এই শর্টকার্ট চ্যানেল হওয়ার ফলে দামোদরের জল অতি সহজে রুপনারায়ণ নদীর মধ্য দিয়ে প্রবাহিত করে দেওয়া যায়। ফলে বন্যার প্রকোপ হতো অনেকটা কম। ২০১১ সালে ক্ষমতায় আসে তৃণমূল। সংস্কারের অভাবে মজে যেতে থাকে শর্টকার্ট চ্যানেল। তৃণমূলের শাসনকালে মাত্র একবার কিছু টাকা বরাদ্দ করে কোনরকমে শর্টকার্ট চ্যানেল সংস্কারের কাজ হয়। এলাকাবাসীদের অভিযোগ, শর্টকার্টের মাটি কেটে শর্টকার্টেই ফেলা হয়। ফলে যে কারণে সংস্কার তা সফল হয়নি। পুরো টাকাটাই জলে গেছে। ফলে ২০১৭ সালে বন্যা ভয়াবহ আকার নেয়। ক্ষতি ও দুর্দশা বাড়ায় মানুষের মনে ক্ষোভ তৈরি হয়।

পরে একপ্রকার চাপে পড়েই নতুনভাবে শর্টকার্ট চ্যানেল সংস্কারে টাকা বরাদ্দ করতে বাধ্য হয় রাজ্য সরকার। বরাদ্দ হয় ২৯,৭৯,৬৬,৪৫৫টাকা। ইটেন্ডার নং : ২০১৭-সিই ২-১০৬৬২৬-১। এই টাকায় শুধুমাত্র শর্টকার্ট চ্যানেলের সংস্কার নয়। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত চ্যানেলের বাঁধ মেরামতি, উদ্বৃত্ত মাটি অন্যত্র নিয়ে গিয়ে আশেপাশে কাঁচা-পাকা রাস্তা সংস্কারের কাজ হবে। বরাদ্দ টাকার ২.৭৬ শতাংশ কমে এই কাজের বরাত পায় ম্যাকিন্টস বার্ন লিমিটেড নামে ঠিকাদার সংস্থা। ১৮/০৮/১৭-র ওয়ার্ক অর্ডারে বলা হয়, ১০/১০/১৭ কাজ শুরু হয়ে ৪৪০ দিনের মধ্যে কাজ শেষ করতে হবে। ইতিমধ্যেই কাজ শুরু হয়।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, কাজ শুরু হতেই মাটির দখল নিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে তৃণমূলী জমি হাঙররা। শর্টকার্ট চ্যানেলের উদ্বৃত্ত মাটি যেখানে আশপাশের ৫কিলোমিটারের মধ্যে ফেলার কথা সেখানে হাঙরদের দৌরাত্মে সেই মাটি বিকোচ্ছে চড়া দামে। বেশিরভাগ মাটি যাচ্ছে রানিহাটি, আমতা রোডের ধারে বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে। যার কোন সরকারি অনুমোদন নেই। ডাম্পারে সেচ দপ্তরের বোর্ড লাগিয়ে পুরো কাজটাই হচ্ছে অবৈধভাবে। এমনকি অভিযোগ সেইসব ডাম্পার থেকে তোলা আদায় করছে এলাকার তৃণমূলী ‘ছোট নেতারা’। মাটি নিয়ে গোটা শর্টকার্ট চ্যানেল জুড়ে হরির লুট চলছে। প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি পাঠিয়ে কোন লাভ হয়নি।

গ্রামবাসীদের অভিযোগ, গত ১১ই ফেব্রুয়ারি গ্রামবাসীরা অবৈধভাবে মাটি নিয়ে যাওয়া ডাম্পারগুলিকে আমতার খোড়প মোড়ে রাস্তায় আটকে দেয়। খবর পেয়ে অন্য ডাম্পারগুলি পথ বদলায়। গ্রামবাসীরা দুটি ডাম্পার আটকিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে। চাপে পড়ে পুলিশ এসে দুটি ডাম্পার আটকও করে।

খোড়পের বাসিন্দা দিলীপ মণ্ডল জানিয়েছেন, সরকারি টাকায় এলাকার শর্টকার্ট চ্যানেলের সংস্কার চলছে। উদ্বৃত্ত মাটি চ্যনেলের দুপাড়ে পড়বে এটাই নিয়ম। আশপাশের বিভিন্ন উন্নয়নের কাজে লাগবে। কিন্তু ঐ মাটি বেআইনি বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। প্রশাসন দর্শক।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement