রেগায় বরাদ্দ কমাতে কেন্দ্রের চাপ
ত্রিপুরাসহ বামপন্থীদের
প্রশ্ন এখন সুপ্রিম কোর্টে

সংবাদসংস্থা   ১৪ই ফেব্রুয়ারি , ২০১৮

নয়াদিল্লি, ১৩ই ফেব্রুয়ারি— সংসদের ভিতর-বাইরে বামপন্থীরা যা নিয়ে এতদিন সরব ছিলেন, ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার শেষ নভেম্বরেও যে কারণে শামিল হয়েছিলেন দিল্লিতে গণধরনায়, সেই রেগা এবার সুপ্রিম কোর্টে।

রেগায় রাজ্যগুলির প্রস্তাবিত চাহিদা ছাঁটাইয়ের জন্য ‘চাপ’ দিচ্ছে কেন্দ্র, যে কারণে তারা কাজ দিতে পারছে না জনগণকে। মঙ্গলবার কেন্দ্রের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠল শীর্ষ আদালতে।

‘মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা আইন’ যা সাধারণ মানুষের কাছে ‘রেগা’ বা ১০০ দিনের কাজ নামে পরিচিত। বিচারপতি মদন বি লোকুর এবং এন ভি রামানাকে নিয়ে গঠিত ডিভিসন বেঞ্চে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা স্বরাজ অভিযানের হয়ে আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ বলেন, মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা আইন, যেখানে প্রতিটি পরিবারের জন্য ১০০ দিনের কাজ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, তার বরাদ্দের কোনও ঊর্ধ্বসীমা বেঁধে দিতে পারে না কেন্দ্র।

‘এখন, অর্ধেকের বেশি রাজ্য সরকার নিয়ন্ত্রণ করছে সেই দল, যারা রয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারে। সেকারণে কেন্দ্র সেই রাজ্যগুলির অতিরিক্ত বরাদ্দের দাবি পেশ না করতে বলছে। কেন্দ্র বলে দিয়েছে যদি রাজ্যগুলি অতিরিক্ত বরাদ্দের দাবি করে, তবে আমরা সেই বরাদ্দ ছাঁটাই করে দেব।’ প্রশান্ত ভূষণ বলেছেন ডিভিসন বেঞ্চে।

‘প্রস্তাবিত চাহিদা ছাঁটাইয়ের জন্য রাজ্যগুলিকে চাপ দিচ্ছে কেন্দ্র’, বলেছেন ভূষণ। যোগ করেছেন, এই আইনে গড়পরতা কর্মসংস্থান নেমে এসেছে ৪০-৪৫ দিনে, যেখানে আইনে রয়েছে বছরে ১০০ দিনের কথা।

একশ দিনের কাজের প্রকল্পে ত্রিপুরার সাফল্য আসলে বামফ্রন্ট সরকারের বিকল্প নীতির দৃষ্টান্ত। সারা দেশে যেখানে গড়ে ৪৫ দিন কাজ হয়েছে, সেখানে ত্রিপুরায় বামফ্রন্ট সরকার কাজ দিয়েছে ৮৮ দিন। রেগা প্রকল্পে ত্রিপুরা দেশে এক নম্বরে। দিল্লিতে মানিক সরকার সেকথা তুলে ধরে এই সেদিনও বলেছিলেন, আদিবাসী, তফসিলি জাতি ও অন্যান্য অনগ্রসর মানুষের জন্য আমরা গুরুত্ব দিয়ে প্রকল্পটি রূপায়ণ করছিলাম। গ্রামের উন্নতিতে এর প্রভাব পড়েছিল। কিন্তু মোদী সরকার ত্রিপুরার বরাদ্দ অর্ধেক করে দিল। তিনি বলেন, রেগা গরিবের জন্য ‘তোফা’ নয়, অর্জিত অধিকার। কংগ্রেস চায়নি গোটা দেশে চালু হোক, শহরাঞ্চলে চালু হোক। কর্পোরেট স্বার্থে এর জন্য পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ করেনি। মানুষও পুরো একশ দিন কাজ পাননি। কিন্তু ‘সুদিন’ আনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মোদী প্রকল্পটিকে ‘চাহিদা ভিত্তিক’ থেকে ‘বাজেট ভিত্তিক’ করে দিয়েছে। মজুরির জন্য অর্থের অংশ কমিয়ে মেটিরিয়ালের জন্য অর্থের অংশ বাড়িয়েছে, যাতে ঠিকাদাররা ফায়দা তুলতে পারে। কিন্তু গরিবের কী লাভ হয়েছে? তাদের কাজের সুযোগ কমে গিয়েছে।

এদিন শুনানির সময় যখন আইনের আওতায় জব কার্ড নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, বেঞ্চ বলে, ‘ধরা যাক, একটি পরিবারে চারজনের মধ্যে দুজন জব কার্ড পেয়েছেন, তখন কী হবে, জব কার্ড জমা দিয়ে দিতে হবে?’ প্রশ্নের জবাবে ভূষণ বলেন, ‘আইন তেমন বলছে না।’ কেন্দ্রের তরফে আইনজীবী বলে, ‘আমরা খুঁজে দেখব।’ বিচারপতি লোকুরের পর্যবেক্ষণ, ‘এখানে, ধারণাটা হলো যাদের কাজ নেই, তাদের কাজ দিতে হবে। যদি কোনও পরিবারের সদস্যরা সরকারি কাজ করেন, সেই পরিবারের মানুষও আইন অনুযায়ী ১০০ দিনের কাজ পেতে পারেন, এটা খুব বিস্ময়ের।’

পরবর্তী শুনানির দিন ঠিক হয়েছে মার্চের ৫ তারিখ, যেখানে অ্যাটর্নি জেনারেল কে কে বেনুগোপালের সওয়াল করার কথা।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement