গ্রামীণ প্রকল্পে টাকা তছরূপের
অভিযোগ জলপাইগুড়িতে

পার্থ ভট্টাচার্য

জলপাইগুড়ি :১৩ই ফেব্রুয়ারি— জলপাইগুড়ি জেলার বিভিন্ন ব্লকের একাধিক গ্রাম পঞ্চায়েতে ১০০দিনের কাজ, ইন্দিরা আবাস যোজনা, ভাতা দেওয়া সহ বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের কাজে ব্যাপক অনিয়ম ধরা পড়ল। সোশ‌্যাল অডিটের সময়। জেলার মালবাজার এবং নাগরাকাটা ব্লকের গ্রাম পঞ্চায়েতের সবকটির মধ্যে কমবেশি প্রতিটি পঞ্চায়েতেই এই সব প্রকল্পে কাজে টাকা তছরূপের অভিযোগ উঠেছে।

বিভিন্ন সময়ে সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দারা সঠিক পরিষেবা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ। এই সব কাজ সরকারি নিয়ম মেনে হচ্ছে কিনা তা সরেজমিনে খতিয়ে দেখতেই এই সামাজিক নিরীক্ষণের কাজ হচ্ছে। দুবছর আগেও এই সামাজিক নিরীক্ষণের কাজে সংশ্লিষ্ট গ্রাম পঞ্চায়েতের বেকার শিক্ষিত যুবক যুবতীদের ভিলেজ রিসোর্স পার্সন হিসাবে যুক্ত করা হতো। বর্তমানে গ্রাম পঞ্চায়েতে সামাজিক নিরীক্ষণ করা হচ্ছে বাইরের পঞ্চায়েত এলাকার যুবক-যুবতীদের দিয়ে। নিরীক্ষণে স্বচ্ছতা বাড়াতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্ট দপ্তরের এক পদস্থ কর্তা। প্রথম পর্যায়ে মাল এবং নাগরাকাটা ব্লকের গ্রাম পঞ্চায়েতগুলির উপর সামাজিক নিরীক্ষণ করা হয়েছে।

সামাজিক নিরীক্ষণে মাল এবং নাগরাকাটা ব্লকের অধিকাংশ গ্রাম পঞ্চায়েতেই বিভিন্ন প্রকল্প রুপায়ণে অনিয়ম ধরা পড়েছে। । যেমন, ১০০ দিনের কাজ যোগ্য ব্যক্তিকে না দেওয়া, জবকার্ড থাকলেও কাজ না দেওয়ার অভিযোগ ও উঠেছে। এছাড়া যিনি এ পি এল বা যার ১০০ দিনের কাজ দরকার নেই তিনিও এই কাজ পেয়েছেন বলে অভিযোগ।

ইন্দিরা আবাস যোজনা প্রকল্পে গৃহ নির্মাণে গ্রামবাসীদের কাছ থেকে টাকা চাওয়ার অভিযোগ মিলেছে অনেক পঞ্চায়েত সদস্যের বিরুদ্ধে। টাকা নিয়ে সরকারি পরিষেবা পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগও মিলেছে। অন্যদিকে, ঘর তৈরির জন্য টাকা দেওয়া না হলেও খাতায় কলমে তা দেখানো হয়েছে। সামাজিক নিরীক্ষণে গিয়ে সেই ঘরের সন্ধান পাওয়া যায়নি। উপভোক্তাদের অনেকেই পঞ্চায়েতের সাথে আঁতাত করে ঘর তৈরির বরাদ্দ টাকা নিয়ে ঘর না বানিয়ে টোটো গাড়ি কিনেছেন বলে অভিযোগ।

অভিযোগ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েত কার্যকরি ভূমিকা না নিলে দপ্তর থেকে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে দপ্তর সুত্রে জানানো হয়। ত্রিস্তর পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে জেলার ৭টি ব্লকে সামাজিক নিরীক্ষণ করার কাজকে ঘিরে জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে এতদিন সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে অভিযোগ জানানো হলেও কেন এইসব অভিযোগ নিয়ে সঠিক তদন্ত করা হয়নি। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কেন আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে না তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে জনমানসে। এসব বিষয়ে অবশ্য জেলা প্রশাসনের পদস্থ আধিকারিকেরা মুখে কুলুপ এঁটেছেন।

Featured Posts

Advertisement