সরকারি সভাতেই তৃণমূলকে ভোট
দিতে বলতে দ্বিধা করলেন না মমতা

নিজস্ব সংবাদদাতা   ১৪ই ফেব্রুয়ারি , ২০১৮

কল্যাণী, ১৩ই ফেব্রুয়ারি— ঋণজালে রাজ্যকে ফাঁসিয়ে এখন উন্নয়নের জন্য ভোট চাইছেন মমতা ব্যানার্জি!

আয়ের চার ভাগের এক ভাগ টাকা যোগাড় হবে বাজার থেকে ধার করে। গত ১লা ফেব্রুয়ারি বাজেট পেশ করে সরকারের নীতির কথা বিধানসভায় ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী। বামফ্রন্ট সরকারের বিদায়কালে এরাজ্যের ঋণ ছিল ১লক্ষ ৯২হাজার কোটি টাকা। আর ২০১৮সালের শেষে পশ্চিমবঙ্গের বাজার থেকে নেওয়া ধারের পরিমাণ হতে চলেছে ৩লক্ষ ৯৫হাজার কোটি টাকা। সাত বছরের মধ্যে দ্বিগুণ টাকা ধার করে রাজ্যকে ঋণজালে জর্জরিত করে ফেলেছে রাজ্য সরকার। তাঁর আমলে কেন এই বিপুল পরিমাণ ঋণ নিতে হচ্ছে সরকারকে মঙ্গলবার কৃষ্ণনগর সরকারি কলেজ মাঠের জনসভায় মুখ্যমন্ত্রীর মুখ থেকে শোনা যায়নি। বরং তাঁর আমলেই একমাত্র শুধু উন্নয়নের বন্যা হয়েছে দাবি করে এক নিঃশ্বাসে সেসবের লম্বা তালিকা জানানোর পর শুরু হলো একের পর এক প্রকল্পের ঘোষণা আর শিল্যানাস। শিলা পোঁতার অনুষ্ঠান শেষে মুখ্যমন্ত্রী সরকারি সভা থেকে ঘোষণা করলেন, ‘তৃণমূলকে ভোট দেওয়া দরকার। তা নাহলে এইসব উন্নয়নের কাজ থমকে যাবে।’

এরপরই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগ আনার পাশাপাশি এদিন ‘প্রকল্প’ নকল করার অভিযোগও জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি।

মঙ্গলবার কৃষ্ণনগরের সরকারি কলেজ মাঠে লক্ষ লক্ষ টাকা সরকারের কোষাগারের অর্থ খরচ করে ‘ঘোষিত প্রশাসনিক জনসভা’ আদতে ‘দলীয় সভা’য় পরিণত করলেন মুখ্যমন্ত্রী। শহরের মানুষ জানিয়েছেন, আসলে কয়েকমাস বাদেই পঞ্চায়েত নির্বাচন, তাই তার আগের মহড়া দিয়ে গেলেন তিনি। এদিন আগাগোড়া প্রায় ১ঘন্টার ভাষণে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে একটি বাক্যেও তিনি ব্যয় করেননি। বি জে পি-র দিকে আঙুল তুলে বললেন, বেটি বাঁচাও , বেটি পড়াও প্রকল্পে কোনও টাকাই নেই। ঘোষণাই সার। তবে বেটি পড়বে কিভাবে? কেন্দ্র মাত্র ১০০কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। এতগুলো রাজ্যের মধ্যে সে টাকা ভাগ করলে প্রতিটা রাজ্য ৩কোটি টাকা মতো পাবে। তাতে এক একজন পাবে কয়েক পয়সা করে।

তিনি বলেন, এখন নকুলদানা কিনতেও জি এস টি দিতে হচ্ছে। ব্যাঙ্ক লোকসান করলে আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেবে না বলছে। ব্যাঙ্ক ক্যাশ জমা নেবে না তবে তারা কি ‘অ্যাশ’ জমা নেবে? কি করতে মানুষ তবে ব্যাঙ্কে যাবে। চিট ফান্ডে টাকা রাখতে এসব করছে। দীর্ঘদিন বি জে পি-র সাথে ঘর করে তিনি এদিন অবশ্য বলেছেন বি জে পি ধর্মের ভিত্তিতে মানুষকে ভাগ করতে চাইছে। ধর্মীয় ভাগাভাগিতে কেউ যাবেন না।

মমতা ব্যানার্জি এদিন বলেছেন, কেন্দ্রের বি জে পি সরকার আশা কর্মীদের মাইনে বন্ধ করে দিচ্ছে। অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিতে টাকা দিচ্ছে না। আই সি ডি এস ৯০ শতাংশ টাকা দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। ওদের শাসিত রাজ্য মহারাষ্ট্র দেশের মধ্যে কৃষক আত্মহত্যায় প্রথম। ওরা আবার কৃষককের উন্নতি করবে বলে দাবি করছে। মহারাষ্ট্রের পাশাপাশি এরাজ্যে গত ছয় বছরে দেড়শোর ওপর কৃষক আত্মঘাতী হয়েছেন। মমতা ব্যানার্জির সরকার মুখে কুলুপ এঁটে বসে থেকেছে। গত ছয় বছরে ধান, পাট, আলু কোনও ফসলেরই দাম পাননি কৃষক। সরকার কোনও ভূমিকা পালন করেনি। কৃষকদের সমস্যায় রাজ্য ও কেন্দ্র দুই সরকারের নীতির কোনও ফারাক নেই। খোদ নদীয়া জেলাতেই গম চাষ বন্ধ করার ফতোয়া জারি হয়েছে। কিন্তু কৃষক ক্ষতিপূরণ পায়নি।

এদিন সকাল থেকেই চরম নাকানিচোবানি খেয়েছে সদর শহর কৃষ্ণনগরসহ জেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষজন। বিভিন্ন রুটের সমস্ত বাস তুলে নিয়ে দলীয় কর্মীরা মাঠ ভরাতে হাজির হয়েছিলেন। পড়শি জেলা উত্তর ২৪ পরগনা, বর্ধমান শহর থেকেও বাস ভাড়া করে সমর্থক আনা হয়েছিল যাতে সভাস্থল ভরে। চরম দুর্ভোগে পড়েছেন অফিসযাত্রী থেকে শুরু করে সদর হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে আসা মানুষজন। বাসের বদলে দ্বিগুণ অর্থ ব্যয় করে তাঁদের টোটো কিংবা অটো করে যানজটে বিধ্বস্ত হয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে হয়েছে।

Featured Posts

Advertisement