রাজ্যে রেল অবরোধ ১৬ই
স্টেশনে স্টেশনে প্রচার যুবদের

নিজস্ব প্রতিনিধি

কলকাতা, ১৩ই ফেব্রুয়ারি— একে শূন্যপদ পূরণের উদ্যোগ নেই, নেই যাত্রী নিরাপত্তা। তার ওপর হাওড়া স্টেশনসহ দেশের আরও বেশ কিছু স্টেশন বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেল। ফলে অতিমাত্রায় বিভিন্ন খরচার দায় বর্তাচ্ছে যাত্রীদেরই ওপর। বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে প্যান্ট্রিকার। উঠে যাচ্ছে ছাত্রদের ছাড়। বি জে পি সরকারের এই জনবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে শুক্রবার ১৬ই ফেব্রুয়ারি রাজ্যজুড়ে রেল অবরোধ হচ্ছেই বলে জানিয়ে দিল ডি ওয়াই এফ আই।

বেসরকারিকরণের দিকে এগচ্ছে রেল। কর্মী পদ ফাঁকা রেখে চলছে কর্মী সংকোচন। ঠিকা বেসরকারি এজেন্সিকে নিয়ে আসা হচ্ছে প্রতিটি ক্ষেত্রেই। যুবক-যুবতীরা স্থায়ী চাকরি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, যাত্রীদের ওপর চাপছে অতিরিক্ত খরচ। এবার কেন্দ্রীয় বাজেটে রাজ্যের ৮টি গুরুত্বপূর্ণ রেল রুট বাতিলেরও সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রের সরকার। এর বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলনের ডাক দিয়ে মঙ্গলবার বিকালে সংগঠনের পক্ষ থেকে কলকাতার চার জায়গা এবং রাজ্যের বিভিন্ন রেল স্টেশনের সামনে বিক্ষোভ দেখিয়েছে ডি ওয়াই এফ আই। নেতৃবৃন্দের বক্তব্য, শুক্রবার রেল অবরোধ করে কেন্দ্রের এই অনৈতিক কার্যকলাপের প্রতিবাদ জানানো হবে।

এদিন ৭০টি জায়গায় রেল স্টেশনের সামনে পথসভা ও বিক্ষোভ হয়েছে। কলকাতায় শিয়ালদহ, বালিগঞ্জ, মাঝেরহাট স্টেশন ও রেল সদর দপ্তর ফেয়ারলি প্লেসের সামনে বিক্ষোভসভা করেন যুবরা। শিয়ালদহ স্টেশন চত্বরে আয়োজিত এই সভায় বক্তব্য রাখেন ডি ওয়াই এফ আই কলকাতা জেলার সভাপতি ইন্দ্রজিৎ ঘোষসহ অর্ণব ভট্টাচার্য, নিখিল মাইতি প্রমুখ। মাঝেরহাটে ছিলেন ডি ওয়াই এফ আই কলকাতা জেলার সম্পাদক ধ্রুবজ্যোতি চক্রবর্তীসহ শেখ কুতুবুদ্দিন, রত্নদীপ ভট্টাচার্য, শুভদীপ বসু, রঞ্জন দাশগুপ্ত। অন্যদিকে বালিগঞ্জে ছিলেন কলতান দাশগুপ্ত, জয়ন্ত বসু, সুমিত সরকার প্রমুখ। এছাড়া ফেয়ারলি প্লেসের সভায় বক্তব্য রেখেছেন রাজিন্দর প্রসাদ, রামকুমার শুক্লা, চন্দন বোসসহ অন্যান্যরা।

ইন্দ্রজিৎ ঘোষ বলেন, ভয়াবহভাবে কমছে রেলকর্মীর সংখ্যা। কাউন্টারে প্রয়োজনীয় কর্মী না রেখে বাইরে থেকে ১ টাকা বেশি দামে টিকিট বিক্রি করছে প্রাইভেট এজেন্সিকে দিয়ে। তাহলে বেকার ছেলে মেয়েরা চাকরি পাবেন কিভাবে? ধ্রুবজ্যেতি চক্রবর্তী বলেন, রেল অবরোধের ডাক দিয়েই আমরা রেলের বেসরকারিকরণ রুখতে চেষ্টা চালাচ্ছি। প্রতিটি মানুষকে আমাদের লড়াই সংগ্রামে শামিল হওয়ার আহ্বান জানাই।

ডি ওয়াই এফ আই নেতৃবৃন্দ বলেছেন, মুম্বাইয়ের বান্দ্রা স্টেশনে এখনই প্ল্যাটফর্ম টিকিটের দাম ৩০টাকা হয়ে গিয়েছে। অন্যান্য সব জায়গায় তা ১০টাকা। এই জায়গাগুলিতেও বাড়বে। বাড়বে পণ্য মাশুল। তার ফলে বাড়বে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম। আর পি এফ রক্ষী নিয়োগও কমে দিয়েছে রেল। ফলে যাত্রীদের নিরাপত্তা প্রশ্নের মুখে। তাঁরা বলেন, তুলে দেওয়া হবে ছাত্র ছাত্রীদের স্টুডেন্ট কনসেশন। গরিব পড়ুয়ারা তাহলে যাবে কোথায়? এসব কিছুই বিচারে আনছে না কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকার। নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘আচ্ছে দিন’-এর ভাঁওতা দিয়ে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে চলেছে বি জে পি সরকার। এর বিরুদ্ধে যুবদের আন্দোলন লাগাতার চলবে। শুক্রবার রেল অবরোধ হবে রাজ্যজুড়ে।

Featured Posts

Advertisement