মিনার্ভাকে হারিয়েই স্বপ্নের
দৌড় শুরু লাল হলুদের

ইস্টবেঙ্গল ১ (লোবো) –মিনার্ভা ০

নিজস্ব প্রতিনিধি   ১৪ই ফেব্রুয়ারি , ২০১৮

কলকাতা, ১৩ই ফেব্রুয়ারি — কেভিন লোবোর দুরন্ত গোল। তিনকাঠিতে কেরালার অখ্যাত গোলরক্ষক সি কে উবেদের দুরন্ত কিছু সেভ। চোট কাটিয়ে দলে ফিরেই আমনা ‘হিরো অব দ্য ম্যাচ’। অর্ণব-এডু-সালামদের রক্ষণে প্রায় ‘বিষহীন’ চেঞ্চো। ডুডুর ওমাগমেবীর স্লথ অথচ কার্যকরী ফুটবল। খালিদ জামিলের একটা ‘ঠিকঠাক’ দল নামানো। প্রথম মিনিট থেকে মরশুমে প্রথমবারের জন্য জয়ের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়া। আর এই সবকিছুর মিলিয়েই আবার লিগ জয়ের স্বপ্নের দৌড় শুরু ইস্টবেঙ্গলের। মঙ্গলবার পাঁচকুলায় লিগ শীর্ষে থাকা মিনার্ভাকে ১-০ গোলে হারালো ইস্টবেঙ্গল। গোল করলেন কেভিন লোবো। এই জয়ের ফলে ১৪ ম্যাচে ২৬ পয়েন্টে পৌঁছালো ইস্টবেঙ্গল। সমান ম্যাচ খেলে মিনার্ভার সংগ্রহ ২৯।

দলে বেশ কিছু পরিবর্তন করেছিলেন খালিদ। চোট কাটিয়ে ফিরেছিলেন আল আমনা। রক্ষণে অনেকদিন পর খালিদ ফেরালেন অর্ণবকে। হাইভোল্টেজ এই ম্যাচে অর্ণবের অভিজ্ঞতা যে কাজে লাগবে তা জানতেন ইস্টবেঙ্গল কোচ। মাঝমাঠে অনূর্ধ্ব ২২ ফুটবলার হিসাবে অভিষেক হলো ইয়ামি লঙভার। প্রথম মিনিট থেকেই খেলার দখল ছিল ইস্টবেঙ্গলের দখলে। কিছুটা যেন রক্ষণাত্মক মিনার্ভা। ম্যাচের ৩৩ মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করে ইস্টবেঙ্গল। অভিষেকেই নায়ক হতে পারতেন ইয়ামি। কাউন্টার অ্যাটাকে আমনার থেকে বল পান ডুডু। ডুডুর মাপা পাস ইয়ামি সামনে একা গোলরক্ষককে পেয়েও গোল করতে পারেননি। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে তুলে ক্রোমাকে নামান খালিদ। ৪২ মিনিটের মাথায় ক্রোমাকে বক্সের মধ্যে বাজু ফেলে দিলেও পেনাল্টি দেননি রেফারি।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই গোলের জন্য ঝাঁপায় ইস্টবেঙ্গল। ৪৮ মিনিটে আরও একটি নিশ্চিত পেনাল্টি থেকে ইস্টবেঙ্গলকে বঞ্চিত করেন রেফারি। বক্সের মধ্যে রালতের শট হাতে লাগান মিনার্ভা ডিফেন্ডার ডানো। কিন্তু খেলা চালিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন রেফারি অজিতকুমার মিতেই। ইস্টবেঙ্গল ফুটবলাররা রেফারির কাছে প্রতিবাদ জানালেও লাভ হয়নি। কাউন্টার অ্যাটাকে নিশ্চিত গোল বাঁচান উবেদ। গগনদীপের শট নিখুত দক্ষতায় বিপদমুক্ত করেন তিনি। ৬০ মিনিটেই দুরন্ত গোলে ইস্টবেঙ্গলকে এগিয়ে দেন লোবো। আমনার থেকে বল পেয়ে লোবোর বাঁক খাওয়ানো দুরন্ত শট মিনার্ভা গোলরক্ষককে পরাস্ত করে জালে জড়িয়ে যায়। এরপরেই অদ্ভুতভাবে গোলরক্ষক পরিবর্তন করে মিনার্ভা। ৭২ মিনিটে চেঞ্চোর একটি জোরালো শট রুখে ইস্টবেঙ্গলকে ম্যাচে রাখেন উবেদ। মিনিট ছয়েক পরে চেঞ্চোর আরও একটি প্রচেষ্টা রুখে দেন উবেদ। তবে ইস্টবেঙ্গল যে ম্যাচ জিতে ফিরছে, তার জন্য খালিদ জামিল কৃতজ্ঞ থাকতেই পারেন মিনার্ভার উইলিয়াম ওপোকুর উপর। ৮৫ মিনিটে চেঞ্চোর ক্রস থেকে ফাঁকায় দাঁড়ানো ওপোকু বাইরে হেড করেন।

ম্যাচ জিতে স্বভাবতই খুশি ইস্টবেঙ্গল শিবির। দলের ম্যানেজার মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য পাঞ্জাব থেকে ফোনে জানালেন, ‘আই লিগের অবশ্যই টার্নিং পয়েন্ট। তবে এখনও আমাদের সবকটা ম্যাচ জিততে হবে।’ ম্যাচে দুরন্ত খেলা উবেদ জানালেন, ‘কোকে ধন্যবাদ দেব আমাকে সুযোগ দেওয়ার জন্য। তবে সেরা সেভ যদি বলেন তাহলে তৃতীয়টাকেই এগিয়ে রাখবো।’ বহুদিন চোটের জন্য খেলতে পারেননি। এই মরশুমে বেশ কয়েকটা ম্যাচ খেলার পর তাঁর গোলেই মিনার্ভার মতো ম্যাচ জিতলো ইস্টবেঙ্গল। স্বভাবতই খুশি লোবো। ‘অনেক দিন খেলতে পারিনি। এরকম গোল আরও অনেক করতে চাই আমি।’

অন্যদিকে উজবেকিস্তানের দিলশাদ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি ভিসা পাচ্ছেন না। তাই উগান্ডার মিডফিল্ডার খালিদ আউচোকে দ্রুত কলকাতায় আনার কাজ শুরু করে দিলেন কর্তারা। চেষ্টা হচ্ছে বৃহস্পতিবারের মধ্যে তাঁকে শহরে নিয়ে আসার।

ইস্টবেঙ্গল : উবেদ, চুলোভা, অর্ণব, এডুয়ার্ডো, সালাম, কাটসুমি, ইয়ামি (ক্রোমা), আমনা, লোবো (রফিক), ডানমাওইয়া, ডুডু

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement