নির্মল জেলা ঘোষণার পরেও
শৌচাগার না পেয়ে জমা
টাকা তুলে নিচ্ছেন প্রাপকেরা

নিজস্ব সংবাদদাতা   ১৫ই ফেব্রুয়ারি , ২০১৮

কোচবিহার, ১৪ই ফেব্রুয়ারি — কোচবিহার জেলাকে নির্মল জেলা হিসাবে ইতিমধ্যেই ঘোষণা করে দিয়েছে রাজ্য সরকার। অথচ প্রায় তিনবছর আগে ৯০০ টাকা জমা করার পরও আজ পর্যন্ত শৌচাগার নির্মাণের কোনও উদ্যোগ নেয়নি সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েত সমিতি এমনই অভিযোগ।

তৃণমূল পরিচালিত কোচবিহার জেলাপরিষদ স্বচ্ছ ভারত মিশন (গ্রামীণ) প্রকল্পের নামে কোচবিহার জেলাকে নির্মল করার উদ্যোগ নিয়েছিল গোটা জেলায়। বিভিন্ন পঞ্চায়েত সমিতির মাধ্যমে জেলার গ্রাম পঞ্চায়েতগুলিতে আদেশ পাঠানো হয়েছিল যে, গ্রামীণ এলাকায় বসবাসকারী যে সব পরিবার এখনও পর্যন্ত বিজ্ঞানসম্মতভাবে শৌচাগার নির্মাণ না করে খোলা জায়গায় শৌচকর্ম করেন, সে সব পরিবার পিছু একটি করে ইটের দেওয়ালসহ দুই কূপ বিশিষ্ট পারিবারিক শৌচালয় নির্মাণ করে দেওয়া হবে। এই শৌচাগার নিতে ইচ্ছুক পরিবারগুলি নিজ নিজ গ্রাম পঞ্চা‌য়ে‌ত দপ্তরে এসে ৯০০ টাকা জমা করবেন এবং এই শৌচাগার তৈরির বাকি ১০ হাজার টাকা পঞ্চায়েত সমিতির মাধ্যমে ব্যয় করবে জেলাপরিষদ। অর্থাৎ ৯০০ টাকার বিনিময়ে ১০ হাজার ৯০০ টাকার শৌচাগার পাবেন এই ইচ্ছুক পরিবারগুলি।

তৃণমূল পরিচালিত কোচবিহার-১ পঞ্চায়েত সমিতির বিরুদ্ধে গ্রামের গরিব মানুষের টাকা আটকে রাখার অভিযোগ উঠছে এই পঞ্চা‌য়েত সমিতির অন্তর্গত বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। গ্রামবাসীদের মধ্যে ক্ষোভও বেড়েছে।

ইতিমধ্যে বেশ কিছু গ্রামবাসী এই শৌচালয়ের জন্য জমা করা টাকা সংশ্লিষ্ট গ্রাম পঞ্চায়েত দপ্তর থেকে তুলে নিয়ে এসেছেন বলে জানা গেছে। এইভাবে কোচবিহার-১ পঞ্চায়েত সমিতির অন্তর্গত গুড়িয়াহাটি-১, গুড়িয়াহাটি-২, ঘুঘুমারি, ডাউয়াগুড়িসহ বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চা‌য়েত এলাকার প্রাপক গ্রামবাসীরা সরকারি প্রতারণার শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ।

এখানেই শেষ নয়, একদিকে যেমন সি এল টি এস মোড়ে শৌচাগার নির্মাণের জন্য তাদের নির্দিষ্ট গ্রাম পঞ্চায়েতের মাধ্যমে নাম নথিভুক্ত করলেও আজও হয়নি শৌচাগার। অথচ কোচবিহার জেলাকে নির্মল ঘোষণা করে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে যে সব গ্রাম পঞ্চায়েতে এই‍‌‍‌ শৌচাগার নির্মাণ করেছে বিভিন্ন এজেন্সি, তাদের বকেয়া টাকা দিচ্ছে না কোচবিহার জেলা প্রশাসন। এক বছর পার হয়ে গেলেও ‘কমিউনিটি-লেড টোটাল সেনিটেশন’ অর্থাৎ সি এল টি এস মোড়ে শৌচাগার নির্মাণ করে আজ পর্যন্ত নির্মাণ খরচ হাতে পাননি কোচবিহার ২নং ব্লকের পাতলাখাওয়া গ্রাম পঞ্চায়ে‌তের প্রায় ৩৫টি এজেন্সি। মোট টাকার অঙ্ক প্রায় ৮৩ লক্ষ।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement