ভস্মীভূত রামপুরহাট বাসস্ট্যান্ডের
চার দোকান, অভিযোগ
আগুন লাগানোর

নিজস্ব সংবাদদাতা   ১৫ই ফেব্রুয়ারি , ২০১৮

রামপুরহাট, ১৪ই ফেব্রুয়ারি — ফের আগুনে পুড়ল রামপুরহাট বাসস্ট্যান্ডে থাকা চারটি দোকান। যা ঘিরেই বুধবার সকাল থেকে বাসস্ট্যান্ড চত্বরে ছড়াল উত্তেজনা। কেন দুষ্কৃতী দৌরাত্ম্যের ফলে বারবার আগুন লাগছে বা লাগানো হচ্ছে সেই প্রশ্ন তুলে ক্ষোভে ফেটে পড়েন বাসস্ট্যান্ড চত্বরে থাকা মানুষজন। মঙ্গলবার রাতে হওয়া এই ঘটনার জেরে বুধবার সকাল থেকে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায় বাসস্ট্যান্ডে।

ঘটনার সূত্রপাত মঙ্গলবার গভীর রাতে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাতে কেউ বা কারা দোকানগুলিতে আগুন লাগানোয় প্রেমচাঁদ গুপ্তার মিষ্টির দোকান, সোনাই শেখের জুতোর দোকান এবং দুটি ফলের দোকান পুড়ে ছাই হয়ে যায়। রাতে আগুন লাগার খবর পেয়ে রাতে দমকলের দুটি ইঞ্জিন এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে তর আগেই ভস্মীভূত হয়ে চার চারটি দোকান। সকালের দিকে জুতোর দোকান থেকে ফের আগুনের শিখা লক্ষ্য করা যায়। ফের দমকলের একটি ইঞ্জিন সেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এরপর থেকেই উত্তজনার পারদ চড়তে থাকে। বাসস্ট্যান্ড থেকে সমস্ত বাস দ্রুতগতিতে বেরিয়ে গিয়ে চত্বর ফাঁকা করে দেয়। যাত্রীরা দিশাহারা হয়ে ছুটতে থাকে। ব্যবসায়ীরা দোকানের ঝাঁপ নামিয়ে ছুট দেন।

খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত এলাকায় পৌঁছানোয় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। মিষ্টি ব্যবসায়ী প্রেমচাঁদ গুপ্তা বলেন, ‘রাতেই আমরা আগুন লাগার খবর পাই। গিয়ে দেখি দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। আগুনে দোকানে থাকা ফ্রিজ, বহু টাকার মিষ্টিসহ সমস্ত জিনিস পুড়ে যায়।’ বছর খানেক আগে একইভাবে ওই দোকানগুলি আগুনে পুড়ে গিয়েছিল। স্থানীয়দের দাবি, আক্রোশবশতই দোকানে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সি আই টি ইউ অনুমোদিত বাস শ্রমিক সংগঠনের সম্পাদক জাহাঙ্গীর খান বলেন, ‘মঙ্গলবার রাতে কে বা কারা দোকানে আগুন ধরিয়ে দেয়। সেই নিয়ে এদিন সকালে বাসস্ট্যান্ড এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। দুই পক্ষ জমায়েত হয়। শ্রমিকরা ভয়ে বাস নিয়ে পালিয়ে যায়। এরকমের ঘটনা আগেও বার বার ঘটেছে। ফলে আমরা নিজেদের নিরাপত্তার অভাব বোধ করছি। এর আগে বাসের কাচ ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। এবার হয়তো বাসেও আগুন ধরিয়ে দেবে। আর রাতের দিকে বাসস্ট্যান্ডের কোন নিরাপত্তা থাকে না। পুলিশও থাকে না। ফলে মালিকরা বাস স্ট্যান্ডে রাখতে সাহস পায় না।’ অপরদিকে প্রকাশ্যে কেউ মুখ না খুললেও সকলেই অবগত আছেন বাসস্ট্যান্ড ঘিরে থাকা এলাকাই দুটি পাড়ার দুষ্কৃতীদের এলাকাদখলের লড়াইয়ের ফলেই যে এই ধরনের ঘটনা ঘটে চলেছে জানতে বাকি নেই কারও। আর এই দুষ্কৃতী দৌরাত্ম্য যে মদত পাচ্ছে শাসকদলের থেকে তা একবাক্যে স্বীকার করছেন ঘটনার সম্পর্কে অবগত প্রায় সকলেই। তাই দুষ্কৃতীরাজ রুখতে বাসস্ট্যান্ড চত্বরকে সি সি টিভি-র নজরদারিতে আনার জোরালো দাবি উঠেছে।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement