আজ উচ্ছেদ রোধ, পুনর্বাসনের
দাবিতে সমাবেশ হকারদের

নিজস্ব প্রতিনিধি

কলকাতা, ১৪ই ফেব্রুয়ারি— হকার উচ্ছেদ রোধ, উচ্ছেদ হওয়া হকারদের পুনর্বাসন ও সমস্ত হকারদের লাইসেন্সের দাবিতে বৃহস্পতিবার দুটি বৃহৎ মিছিলের পাশাপাশি সমাবেশের ডাক দিয়েছে সি আই টি ইউ-সহ সাতটি কেন্দ্রীয় শ্রমিক সংগঠনের যৌথমঞ্চ। তাতে রাজ্যের প্রতিটি হকার ও তাঁদের পরিবারকে শামিল হওয়ার আবেদন জানিয়েছেন সংগঠনগুলির নেতৃবৃন্দ। বেলা ১টায় শিয়ালদহ ও হাওড়া থেকে মিছিল বের হয়ে ব্রেবোর্ন রোডে সমাবেশ হবে। সমাবেশ থেকে তাঁরা ডেপুটেশন দেবেন রাজ্যপালের কাছে। ছয় দফা দাবি নিয়ে বৃহস্পতিবার পথে নামছেন হকাররা।

উন্নয়নের নামে চলছে নির্বিচারে হকার উচ্ছেদ। আর হকার উচ্ছেদের নামে চলছে লুটতরাজ। কারণ পুঁজিপতিরা ঢুকবেন খুচরো ব্যবসায়। শ্রমিক আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের বক্তব্য, তাই বাড়ির সামনে পুলিশ দাঁড় করিয়ে রেখে গরিব হকারদের কর্মস্থলে যাবতীয় জিনিসপত্র, সঞ্চয় সবই লুট করে নিয়ে যাচ্ছে শাসকদলের অনুগামীরা। এমনকি রেলের জায়গায় যে সব গরিব হকাররা কিছু রোজগারপাতি করেন, তাঁদেরও ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। সব দেখে শুনেও নিশ্চুপ মমতা ব্যানার্জির সরকার। অথচ আইনে পরিষ্কার উল্লেখ আছে যে হকার উচ্ছেদ চলবে না, তাঁদের পুনর্বাসন দিতে হবে। এছাড়াও তিন বছর আগে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করে বলেছিলেন হকাররা লাইসেন্স পাবেন। এখনও তার কোনও উদ্যোগ নেই। জীবন ও জীবিকা সংকট রাজ্যের প্রায় ২৫ লক্ষ হকারের। এর বিরুদ্ধেই আন্দোলনে নামছেন হকাররা।

বুধবার এক সাংবাদিক বৈঠকে সি আই টি ইউ পশ্চিমবঙ্গ কমিটির সাধারণ সম্পাদক অনাদি সাহু বলেন, অসহায় হকারদের ওপর আক্রমণ সরকারের স্বৈরাচারী মনোভাবই প্রকাশ করে। উচ্ছেদ হওয়া গরিব হকাররা যাবেন কোথায়? মুখ্যমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য মেনে চপ-পকোড়া ভাজবেন যাঁরা তাঁরাও তো হকার। একে তো এক এক করে শিল্প কলকারখানাগুলি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। বহু মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়ছেন। তাঁরা যদি তাঁদের পরিবার প্রতিপালনের জন্য জিনিসপত্র ফেরির পথ বেছে নেন, তাহলে সরকার কেন তা রুখছে? আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। সেই সঙ্গে টাউন ভেন্ডিং কমিটি গঠনেরও দাবি আমাদের। সংগঠনগুলির সঙ্গে রাজ্য সরকারকে আলোচনায় বসতে হবে। হকার আইন কার্যকর করতে হবে এ রাজ্যে।

পশ্চিমবঙ্গ স্ট্রিট হকার্স ফেডারেশন (সি আই টি ইউ), সংযুক্ত হকার্স ফেডারেশন (ইউ টি ইউ সি), অল বেঙ্গল হকার্স ইউনিয়ন (এ আই ইউ টি ইউ সি), বেঙ্গল হকার্স অ্যাসোসিয়েশন ( টি ইউ সি সি), কলকাতা স্ট্রিট হকার্স ফেডারেশন ( এ আই সি সি টি ইউ), শিয়ালদহ অঞ্চল হকার্স ইউনিয়ন ( এ আই টি ইউ সি) এবং জয়হিন্দ কলকাতা হকার্স ইউনিয়ন (আই এন টি ইউ সি) এই মিছিল ও সমাবেশের ডাক দিয়েছে। এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে অনাদি সাহু ছাড়াও ছিলেন সি আই টি ইউ নেতা নীলকমল চক্রবর্তী, অসিতাঙ্গ গাঙ্গুলি, এ আই সি সি টি ইউ নেতা দিবাকর ভট্টাচার্য, এ আই ইউ টি ইউ সি নেতা শান্তি ঘোষ ও তপন মুখার্জি, এ আই টি ইউ সি নেত্রী লীনা ঘোষরায়, আই এন টি ইউ সি নেতা বিদ্যুৎ পোদ্দার প্রমুখ।

একের পর এক বিভিন্ন জায়গা থেকে হকার উচ্ছেদ, ভাঙচুর, ধরপাকড়, লুটতরাজ, মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো চলছে সরকারের মদতে। এদিন সাংবাদিক বৈঠকে নেতৃবৃন্দ বলেন, জোর জুলুম করে কয়েকদিন আগেই কলকাতা ও বিধাননগর, খড়গপুর, হাওড়ার মঙ্গলা হাট, বর্ধমান শহর, বাঁকুড়া শহর, বীরভূমের সিউড়ি, উত্তর চব্বিশ পরগনার বিরাটি— এসমস্ত জায়গায় হকার উচ্ছেদ হয়েছে। ২০১৪ সালের ৪ঠা মার্চ রাষ্ট্রপতি সম্মতি দেওয়ার পর ৫ই মার্চ দ্য স্ট্রিট ভেন্ডরস প্রোটেকশন অব লাইভলিহুড অ্যান্ড রেগুলেশন অব স্ট্রিট ভেন্ডিং আইন ২০১৪ সারা দেশে চালু হয় জম্মু কাশ্মীর ছাড়া। তাতে বলা হয়েছিল হকার উচ্ছেদ চলবে না। যদি কোনও কারণে তা করতে হয় তাহলে তাঁদের পুনর্বাসন দিয়ে তবে তা করতে হবে। পৌর নির্বাচনের আগে ২০১৫ সালের ১৩ই মার্চ রবীন্দ্র সরোবর স্টেডিয়ামে হকারদের জন্য প্রতিশ্রুতির বন্যা বইয়ে দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেগুলির আর কোনও উদ্যোগ নেই। এরপর পরের বছর ২০১৬ সালের ১৫ই এপ্রিল হকারদের লাইসেন্স দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাও হয়নি তিন বছর হতে চলল। এসবের বিরুদ্ধে ৬দফা দাবিতে পথে নামছেন হকাররা।

Featured Posts

Advertisement